আ’লীগের সম্মেলন নিয়ে বিএনপি’র মতামত
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২২, ০৪:০৬ পিএম
# জনপ্রিয়তা একবারেই তলনীতে চলে গেছে : মামুন মাহমুদ
# শামীম ওসমান বড় বড় কথা বলেছেন : সাখাওয়াত
# তাদের তৃণমূলের আস্থা বিশ্বাস তারা হারিয়ে ফেলেছে : টিপু
অতিসম্প্রতি ২৩ অক্টোবর ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনকে ঘিরে স্টেডিয়ামটি নেতাকর্মীদের পদভারে কানায় কানায় ভরে উঠবে এমনটাই ঘোষণা দিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সাংসদ সদস্য শামীম ওসমান। এই সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের প্রায় সকল নেতাই উপস্থিত ছিলেন এমনকি কেন্দ্রীয় নেতারা ছিলেন সেখানে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
সূত্রে জানা যায়, জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের আগে রাইফেলস ক্লাবে শামীম ওসমান বলেছিলেন আমরা করবো সম্মেলন হয়ে যাবে জনসভা কিন্তু সম্মেলনের দিন গণমাধ্যমে দেখা যায় পিছনে লোক ছিল না। চেয়ার পুরো ফাঁকা দেখা গেছে। এমনটা হওয়ায় সাধারণ জনগণসহ বিএনপির সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বলছেন ভিন্ন কথা।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবি যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘রাজনৈতিক যে সম্মেলনগুলো হয় সে সকল সম্মেলনে ডেলিগেট এবং কাউন্সিলর ছাড়া আর কেউ থাকতে পারে না। কিন্তু শামীম ওসমান সাহেব বলেছিলেন আমাদের সম্মেলন জনসভার রূপ ধারণ করবে।
এবং ২৩ তারিখে তারা যে সম্মেলনকে জনসভার রূপ ধারণ করতে চেয়েছিলেন এটা করা তাদের ঠিক হয়নি। তাদের যদি কোনো জনসভা করতে ইচ্ছা হত তহালে তারা আরেকটি মাঠে আলাদাভাবে জনসভার ডাক দিত কিন্তু না তারা গতকাল যা করেছেন সেটা গ্রহণযোগ্য ছিল না।’
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মামুন মাহমুদ যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘এই সরকারের জনপ্রিয়তা একবারেই তলনীতে চলে গেছে। এই সরকার দেশ পরিচালনায় এখন ব্যর্থ। আর এখনো কিছু সুবিধাভোগী নেতা-কর্মী মনে হয় তাদের সাথে আছে। কিন্তু জনগণের কোনো সমর্থন বা জনগণের কোনা আগ্রহ তাদের সেই সম্মেলন ঘিরে বা তাদের এই সরকারকে নিয়ে সাধারণ জনগণের কোনো আগ্রহ ছিল না বা এখনো নাই।
তার কারণে তাদের যে সম্মেলন হয়েছে, সেখানে জনগণ সাড়া দেয়নি। হয়তো কিছু লোক টাকা নিয়ে এসেছিল। কিন্তু তারা ত্যাগী নেতাকর্মী না হওয়ার কারণে তারা সেখানে থাকে নাই। এসেছে আবার সাথে সাথেই চলে গেছে । যদি জনগণের আগ্রহ থাকতো নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কে আসতেছে তাহলে সেখানে তারা থাকতে সম্মেলন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত। আমার মনে হয় এই আগ্রহ না থাকার কারণে সম্মেলনে লোক কম ছিল।’
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘শামীম ওসমান সাহেব বলেছিলেন সম্মেলন জনসভায় পরিনত হবে। কোন বিষয়ে গরিমা করা ভালো না। বিএনপির জনসভার লোক জনের উপস্থিতি নিয়ে শামীম ওসমান সাহেব অনেক বড় বড় কথা বলেছে।
নারায়ণগঞ্জে নাকি শুধু ছাএলীগ মিছিল করলে বিএনপির সকল অঙ্গ সংগঠন থেকে বেশি হবে। তার সেই কথার জবাব কালকে নারায়ণগঞ্জের মানুষ দিয়েছে। তারা এতো ঢাক-ঢোল বাজিয়ে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন মন্ত্রী,এমপিদের ও বড় বড় কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে এসেছেন।
সেখানে এই উপস্থিতিকে আমরা সুপার ফ্লপই বলবো। এখন আওয়ামী লীগর ভাটির সময় এখন জনগণ তাদের বিপক্ষে চলে গেছে যার জন্য আওয়ামী লীগের ডাকে আর মানুষ সাড়া দেয় না। সেটার প্রমান আমরা সবাই দখেতে পেয়েছি কালকে।’
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘একটা দল দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় আর ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বে ও তারা দেশের স্বাধীনতার সার্বজনিত ধ্বংস করছে তারা গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। তারা ভোটের অধিকার ভাতের অধিকার কেড়ে নিয়েছে।
নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের উর্ধ্বগতি বাস ভাড়া, বিদ্যুৎ ভাড়া, গ্যাস ভাড়ার উর্ধ্বগতি , ব্যাংকের রিজার্ভ খালি, শেয়ার বাজারের ক্যালাংকারি, যুবলীগ, ছাত্রলীগের বিভিন্ন অপকর্ম। সন্ত্রাস, ধর্ষণ, খুণ, গুম সকল দিক বিবেচনা করে মানুষ তাদের থেকে মুখ গুড়িয়ে নিচ্ছে।
আর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের যে হুঙ্কার তারা ঘুম থেকে উঠে তাদের উপরের নেতাদের থেকে শুরু করে নিম্নশ্রেনীর নেতারা মিথ্যা দিয়ে তাদের সকাল শুরু করেন। তাই জনগণ তাদের কথাকে আর বিশ্বাস করে না। এই কারণে এখন তাদের থেকে কর্মীরা জনবিছিন্ন হয়ে গেছে।
তাদের কথা ও কাজে কোনো মিল নাই। জনগণের জ্ঞান মালের নিরাপত্তা দিতে পারে না। তাই এখন জনগণ এবং তাদের তৃণমূলের কর্মীরা তাদের প্রতি এখন কোনো আস্থা বিশ্বাস কিছুই রাখে না। তিনি আরো বলেন, এখন তারা যত ডাক মারুকনা কেন বিএনপির জনগণের যে আস্থা ফিরে এসেছে। আর বিএনপির প্রতি মানুষের বিশ্বাস আওয়ামী লীগের প্রতি সেটা আর নাই।’
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এমএস মামুন যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যে সম্মেলন হয়েছে। সেটাতে পিছনের পুরোই ফাঁকা ছিল। এটা আমরা গণমাধ্যমে দেখেছি। আমারা যা মনে করছি মানুষ তাদের কাজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এবং তাদের প্রতি আর মানুষের আস্থা নেই আর সাধারণ জনগণ বুঝে গেছে এই সরকার একটি ভাওতাবাজি সরকার, মিথ্যাবাদী সরকার এই সরকার গুম খুনের সরকার এই সরকারের কাজ থেকে সাধারণ জনগণ আর কিছু পাবে না এটা তারা বুঝে ফেলেছে।
দেশে গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই, পানি নেই সমস্ত প্রকার অব্যবস্থাপনা তাদের কারণে। আর তারা মিথ্যার একটি মহা সাগরে আছে যেমন তাদের সাধারণ সম্পাদক জনাব ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন আমরা ভোট চুরির বিরুদ্ধে, গুম খুনের বিরুদ্ধে, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কারা এরা সাধারণ জনগণ সব জানে তাদের আর বুঝিয়ে বলার দরকার নেই। মানুষকে আর মিথ্যা দিয়ে দাভিয়ে রাখা যাবে না।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর খান সেন্টু যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘জনসভা করে কমিটি কখনো ঘোষণা হয় নি। আর বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদি দলের যে জনশ্রোত সারা বাংলাদেশে সকল স্থানে হচ্ছে।
এই সভা গুলোকে একটি কাউন্টার দেওয়ার জন্য তারা একটি উদ্দেশ্য নিয়ে এই জনসভা করেছে এই জনসভার লক্ষ্যে শামীম ওসমান সাহেব বলেছে সম্মেলন হবে জনসভা আমি তাকে বলতে চাই ওসমান স্টোডিয়ামের ধারণ ক্ষমতা কতটুকু আর ফুটেজে কি দেখা গেছে কত লোক হয়েছে। মানুষ সব দেখেছে মিডিয়ার মাধ্যমে বিচার হয়ে যায়। বড় কথা বলে রাজনীতি করা যায় না।’
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘বর্তমান রাজনীতির যে প্রেক্ষাপট বাংলাদশে আওয়ামী লীগ দীর্ঘ ১৩ বছর ক্ষমতায় থেকে সাধারণ মানুষের জ্ঞান মাল নিরাপত্তা দিতে পারছে না। জনগণকে তারা যে আশা দিয়েছিল তারা জনগণের সেই আশা পূরন করতে পারেনি। ১০ টাকা কেজি চাউল খাওয়াবে ঘরে ঘরে চাকুরী দিবে মানুষকে শান্তিতে রাখবে।
এই কথার কেনোটাই তারা রাখতে পারে নি। যার কারণে সাধারণ মানুষ আর তাদেরকে চায় না। আর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতা-কর্মীরা সাধারণ মানুষের অধিকারের কথা বলতে গিয়ে গুম খুনের শিকার হয়েছে এবং অনেক নেতা-কর্মী এখনো জেলে আছেন। এটাকে সাধারণ মানুষ ভালো চোখে দেখেনি। তাই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ এসে দাঁড়িয়েছে। সামনে বিএনপির যে সকল আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে সেখানে সাধারণ মানুষই এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করবে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের সকল এমপি মন্ত্রীরা যখন বক্তব্যে দেয় তারা হয়তো অনেক সময় খেই হারিয়ে ফেলেন। দেশের প্রেক্ষাপটে সাধারণ জনগণ, আওয়ামী লীগের কোনো কথা এখন আর আমলে নেয় না। আর আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মীরা এই সরকারকে আর চায় না। আওয়ামী লীগের ভিতরেও তারা নতুন নেতৃত্ব চায়।’ এন.এইচ/জেসি


