Logo
Logo
×

রাজনীতি

এবার যুবলীগের সম্মেলনের অপেক্ষা

Icon

রাকিবুল ইসলাম

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২২, ০৭:০৪ পিএম

এবার যুবলীগের সম্মেলনের অপেক্ষা
Swapno


# ১৬ বছর আগে যুবলীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়

# এক ঝাঁক পদ প্রত্যাশী নেতা মাঠে নেমেছে

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন জাঁকজমক ভাবে গত রোববার শেষ হয়েছে। তবে জেলা আওয়ামী লীগে নতুন নেতৃত্ব আশা করলেও এখানে পুরাতনরাই বহাল রয়েছে। কিন্তু এবার জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষ হওয়ার সাথে সাথে আওয়ামী জেলা যুবলীগে সম্মেলন নিয়ে তৎপরতা চলছে।

 

 

দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকেও ক্ষমতাসীন দল শক্তিশালী সংগঠন যুবলীগের কমিটি না থাকায় আওয়ামী লীগের নেতরাই রয়েছেন। আর এতে করে যুবলীগেও নতুন নেতৃত্ব তৈরীতে বাধা হচ্ছে। তাই জেলা যুবলীগের সম্মেলন নিয়ে এখন আলোচনা চলছে।

 

 

কেননা আগামী মাসে জেলা যুবলীগের সম্মেলনের নির্দেশনা রয়েছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর জেলা যবুলীগের বর্ধিত সভায় কেন্দ্রীয় নেতারা নভেম্বর মাসে যুবলীগের সম্মেলন শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে। তাই এবার জেলা যুবলীগ নিয়ে ব্যপক আলোচনা চলছে।

 


এদিকে ২৬ সেপটম্বরে জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় জেলার থানার ইউনিয়ন যুবলীগের কমিটি শেষ করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। তবে থানার নেতাদের ভাষ্য হলো তারা জেলার সম্মেলন থাকায় এতোদিন ইউনিয়ন যুবলীগ কমিটি গঠন করতে পারে নাই। কিন্তু এখন দ্রুত কমিটি করে ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে থানা যুবলীগের কমিটি গঠন নিয়ে এখনো আলোচনা নেই।

 

 

দলীয় সূত্রে জানা যায়, জেলা যুব লীগের নেতৃত্ব আসার জন্য একাধিক নেতা মাঠে নেমেছেন। সেই সাথে তারা নিজেদের অবস্থান জানান দিতে কাজ করে  যাচ্ছেন। একই সাথে যে যার মত করে দৌড়ঝাঁপ করে যাচ্ছেন।

 

 

জানা যায়, জেলা যুবলীগে সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছে বেশ কয়েকজন নেতা। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের শ্যালক ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হক নিপু।

 

 

তবে পিছিয়ে নেই জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়েত আলম সানীভ, তিনি রাজনীতিতে ক্লিন ইমেজের ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। সেই সাথে জেলা ছাত্রলীগকে দক্ষতার সাথে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাছাড়া তার সহ-ধর্মিনী ও জেলা পরিষদের সদ্য নির্বাচিত সদস্য সাদিয়া আফরিন সাদিয়া জেলা যুব মহিলা লীগের আহবায়ক হিসেবে আছেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিতে বারবার নির্বাচিত সভাপতি এডভোকেট মহসীন মিয়াও জেলা যুবলীগের সম্মেলনে সভাপতি পদ চাইবেন এমনটিই গুঞ্জন উঠেছে। 

 

 

অন্যদিকে জেলা যুবলীগে সাধারন সম্পাদক পদে বেশ লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তাদের মধ্যে পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে রয়েছেন অন্যতম ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু মো. শরিফুল হক। তিনি ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগকে দক্ষতার সাথে নেতৃত্ব দিয়েছেন। যিনি ছাত্রলীগ থেকে উঠে আসা একজন পরিক্ষিত কর্মী।

 

 

নারায়ণগঞ্জে শামীম ওসমানের ডাকা বেশ কয়েকটি জনসভায় ব্যাপক জনবল নিয়ে, তিনি তার শক্তি প্রদর্শন করেছেন। এমনকি ওয়ান ইলাভেনে দলের স্বার্থে দুই দুইবার গ্রেফতারও হয়েছন। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে শরিফুল হক সাধারন সম্পাদক পদে তৃনমূলের পছন্দের তালিকাতেও তার নামটি রয়েছে।

 

 

সম্মেলন ঘিরে সাধারন সম্পাদক পদে বেশ আলোচনায় রয়েছেন শহরের রাজপথ কাঁপানো যুবলীগ নেতা জানে আলম বিপ্লব। তিনিও দলের জন্য যে কোন সময় ত্যাগ স্বীকার করে থাকেন। সেই সাথে রাজপথে মিছিল মিটিংয়ে হাজার হাজার লোক নিয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য তিনিও বেশ পরিচিতি মুখ হয়ে উঠেছেন।

 

 

অন্যদিকে আগামী নভেম্বরের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের সম্মেলন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর আগে থানা কমিটিগুলো সম্মেলন করার কথা বলা হয়েছে। থানা কমিটির সম্মেলন শেষে নভেম্বরের মাঝামাাঝি সময়ে জেলা যুবলীগের সম্মলন করার জন্য বর্তমান সভাপতি আব্দুল কাদির ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল সহ অন্যান্য নেতাদের প্রতি এই নির্দেশনা প্রদান করেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সুব্রত পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল হক রাসেল।

 

 

আব্দুল কাদির বলেন, ‘আমাদেরকে বলা হয়েছে আগামী নভেম্বরের মধ্যেই সম্মেলন সম্পন্ন করার জন্য। তার আগে ৭টি থানা কমিটির সম্মেলন করার কথা বলা হয়েছে। সোনারগাঁ, আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জ থানা যুবলীগের কমিটি রয়েছে। বাকী থাকা বন্দর, সদর, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের সম্মেলন করার জন্য বলা হয়েছে।

 

 

এসকল থানার সম্মেলনগুলো সংশ্লিষ্ট কমিটির নেতারাই আয়োজন করবেন। আর সেখানে আমরা উপস্থিত থাকবো। এরপর আমরা নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের সম্মেলনের আয়োজন করবো।

 

 

সেই সাথে জেলা যুবলীগের নিয়ন্ত্রণে থাকা থানা কমিটিগুলোতেও যুবলীগের করুণ অবস্থা চলছে। সোনারগাঁও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন গাজী মজিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শাহআলম রুপম।

 

 

কিন্তু জেলা যুবলীগ ওই কমিটি গঠনের দায়িত্বে থাকলেও রহস্যজনক কারণে কেন্দ্রীয় যুবলীগ বিতর্কিত রফিকুল ইসলাম নান্নুকে আহ্বায়ক করে সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে দেয়। ওই কমিটি গঠনের বিষয়ে গাজী মজিবুর রহমান আদালতে একটি ঘোষণামূলক মামলাও দায়ের করেছিলেন।

 

 

বন্দর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হাবিব আল মুজাহিদ পলু ছাড়া আর কাউকে যুবলীগ নেতা হিসেবে কোন কর্মসূচিতে দেখাও যায় না। পলু ছিলেন সর্বশেষ জেলা আইনজীবী সমিতির সেক্রেটারী।

 


ফতুল্লা থানা যুবলীগ সভাপতি মীর সোহেল আলী ও সাধারণ সম্পাদক ফাইজুল ইসলাম একটু সক্রিয় থাকলেও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগ বলতে আহ্বায়ক মতিউর রহমান মতিকেই চিনে। আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জ যুবলীগের নেই তেমন কোন আলোচনা। এছাড়া সদর থানা যুবলীগে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে রয়েছে এসটি আলমগীর সরকার, এবং সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছে সালেহ আহমেদ খোকন।

 

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগে যেন অচলাবস্থা চলে এসেছে। সাংগঠনিকভাবে তাদের কোনো ভিত্তি গড়ে উঠছিল না। তৃণমূল পর্যায়ে কর্মী সমর্থক বিহীন হয়ে পড়েছে যুবলীগ। অথচ এই জেলা যুবলীগের বিএনপির জোট সরকার আমল থেকে শুরু করে ১/১১ এর কঠিন সময়ে আন্দোলন সংগ্রামে বেশ ভূমিকা রেখেছিল। আর ক্ষমতাসীন থাকাবস্থায় সেই যুবলীগ এখন প্রায় অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে।

 

 

উল্লেখ্য এর আগে ২০০৫ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের কমিটি গঠন করা হয়। সম্মেলনে আবদুল কাদির সভাপতি ও অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বৈরি সময়ে ওই সম্মেলনে ছিল আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের অবস্থান।

 

 

এছাড়াও সম্মেলনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জাকিরুল আলম হেলালকে করা হয় সিনিয়র সহ-সভাপতি, আসিফ হোসেন মানুকে সহ-সভাপতি ও শাহ নিজামকে করা হয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এরপর দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো কমিটির কমিটির দেখা মিলছিল না জেলা যুবলীগের। এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন