Logo
Logo
×

রাজনীতি

এক আজাদেই সব লণ্ডভণ্ড

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২২, ০৭:৫৪ পিএম

এক আজাদেই সব লণ্ডভণ্ড
Swapno


 # জেলা বিএনপি ও যুবদলের কমিটি নিয়ে আবার সরব
 

নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে মূর্তিমান এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাড়িয়েছে নজরুল ইসলাম আজাদ। আজাদ আতঙ্কে থাকার অন্যতম কারণ হল তার একক সিদ্ধান্তের প্রতি সকলের অবিচল থাকতে হয় তার সিদ্ধান্তের কেউ বিরুদ্ধাচারণ করলেই ঘায়েল হতে হয় দল থেকে নতুবা কোনঠাসা হয়ে দলে থাকতে হয়।

 

 

পাশাপাশি তার একক সিদ্ধান্ত প্রধান্য পাওয়ার অন্যতম কারণ হল নারায়ণগঞ্জ বিএনপির মূল দলের কমিটি থেকে শুরু করে সকল সহযোগী অঙ্গসংগঠনের কমিটিতে ছাঁয়া হয়ে আছেন আজাদ। আজাদ নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সকল কমিটি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে প্রতিটি কমিটিই কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করে ফেলেছে।

 

 

এছাড়া দল থেকে গাঁ বাঁচিয়ে থাকা সুবিধাভোগী নেতা এবং দলের তৃতীয় সারির নেতাদের বড় বড় পদে পদায়ন করে তার একছত্র অধিপত্য বিস্তার করে কমিটি বাণিজ্যের মহোৎসব করে চলেছে। যার কারণে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির প্রতিটি কমিটিই দৈন্দ্যদশায় ভুগছে।

 

 

আজাদের এসব কর্মকান্ড করার মূল উদ্দেশ্য নিজেকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে অঘোষিত অভিভাবক হিসেবে জাহির করতে চাচ্ছেন, বলে অনেকেরে ধারণা । ইতিমধ্যে তার এসব কর্মকান্ডের হরহামেশাই গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।


 

সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই আজাদকে নিয়ে নারায়ণঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে বিতর্ক চলছে। তার বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছেন। স্বেচ্ছাচারিতা কমিটি বাণিজ্য সহ বিস্তর অভিযোগ আজাদের বিরুদ্ধে তৃণমূলের।

 

 

তার এসব কর্মকান্ডের কারণে ত্যাগী ও তৃণমূল নেতাকর্মীরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে ফুঁসে উঠেছে তার বিরুদ্ধে। পাশাপাশি তার রাহুগ্রাস থেকে বাঁচতে মরিয়া হয়ে উঠেছে তৃণমূলের কর্মীরা। তৃণমূলের কর্মীদের সবচেয়ে ভাবিয়ে তুলেছে যে বিষয়টি তা হলো- আজাদের বাড়ি আড়াইহাজার হওয়া সত্ত্বেও সমগ্র নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে একক আধিপত্য বিস্তার করতে চাইছেন আজাদ।

 

 

আজাদের রাহুগ্রাস থেকে মুক্তি পাচ্ছে না বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ কোনো সংগঠনের ইউনিট কমিটিও। বিএনপির বিভিন্ন মূলদল বা অঙ্গসংগঠন কমিটি গঠনে দল থেকে নির্দেশনা আসলেই নজরুল ইসলাম আজাদ তখন পদ-পদবি কেনা-বেচার দোকান খুলে বসেন।

 

 

পাশাপাশি তার বলয়ের নেতা-কর্মীদেরও কমিটিতে পদায়ন করার মাধ্যমে পুরো কমিটিকেই তার পকেটে পুরতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। যার কারণে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতা-কর্মীদের কাছে নজরুল ইসলাম আজাদ ‘কমিটি মেকার’ হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আজাদের প্রেশক্রিপশনে গঠিত নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদল ও আড়াইহাজার থানা বিএনপি নিয়ে সর্বত্র আলোচনা সমালোচনা চলছে।

 

 

নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলে চলছে আজাদের একক আধিপত্য। তার একক আধিপত্য মহানগর যুবদলে প্রতিষ্ঠা করতে মনিরুল ইসলাম সজলকে মূল দলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে ভাগিয়ে এনে মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব করা হয়। এছাড়া পূর্বের কমিটির সাধারণ সম্পাদক মমতাজউদ্দিন মন্তুকে আহবায়ক হিসেবে কমিটিতে পদায়ন করে মহানগর যুবদলে একছত্র আধিপত্য বিস্তার শুরু করে দেয় আজাদ।

 

 

কিন্তু মহানগর যুবদলের সুপার ফাইভ কমিটি হওয়া সত্ত্বেও কমিটির অন্যদের সমন্বয় ছাড়াই আহবায়ক সদস্য সচিব আজাদের প্রেসক্রিপশনেই মহানগর যুবদলকে পরিচালিত করছে। এছাড়া আহবায়ক সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হল কমিটি বানিজ্যের ঘটনা; মন্তু-সজলের কমিটি বানিজ্যের ঘটনা; সর্বত্র আলোচিত হয়েছে রাজনৈতিক বোদ্ধামহলে।

 

 

আজাদের প্রেসক্রিপশনে মহানগরের যুবদলকে পরিচালিত করতে গিয়ে মহানগর যুবদলকে দূর্বল সংগঠনে পরিণত করেছে মন্তু-সজল। এছাড়া মহানগর যুবদলের সুপার ফাইভের অন্যরা আজাদের অনুগত না হওয়ায় তাদের মাইনাস করেই সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালানা করছে মন্তু-সজল। তাদের এসব কর্মকান্ড নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছে।

 

 

অপরদিকে আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটি নিয়েও চলছে বিতর্ক। প্রভাবশালী ও ক্ষমতাসীন দলের সাথে সখ্যতা থাকা নজরুল ইসলাম আজাদের ইশারায় গঠিত হওয়া কমিটি নিয়ে চলছে তীব্র সমালোচনা। আড়াইহাজারে আজাদের অনুগামী না থাকা বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা এই কমিটিতে মাইনাস হয়েছেন।

 

 

দীর্ঘদিন ধরে আড়াইহাজার বিএনপি’র অভিভাবক হিসেবে পরিচিত খসরু পরিবারকে দূরে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির ১০১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে যেখানে ঠাঁই মিলেনি সাবেক এমপি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতির।

 

 

৮ অক্টোবর নবগঠিত এই কমিটিতে ইউসুফ আলী ভুইয়াকে সভাপতি ও জুয়েল আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি কার্যক্রম শুরু করা হয়। সূত্রে জানা যায়, কমিটির এক নম্বর সদস্য হিসেবে স্থান পেয়েছেন বিএনপির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ।

 

 

পুরো কমিটির কোথায় স্থান পাননি আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাবেক সভাপতি মাহমুদুর রহমান সুমন সহ তার অনুসারীরা। অথচ সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদুর রহমান সুমন, তার পিতা মরহুম বদরুজ্জামান খান খসরু এবং তার চাচা সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর আড়াইহাজার বিএনপির অন্যতম নেতা হিসেবে আড়াইহাজারে সুপরিচিত।

 

 

খসরু চেয়ারম্যানের মৃত্যুর পর তার বিপুল পরিমাণ অনুসারী এখনও রয়ে গেছেন পুরো উপজেলা জুড়ে। কিন্তু খসরু পরিবারের পুরো অনুসারীদের মাইনাস করা হয় এই কমিটিতে। আর এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে আড়াইহাজারের বিএনপি নেতাদের মধ্যে নিন্দার ঝড় বইছে। পুরো কমিটিতে স্থান পেয়েছেন আজাদপন্থীরা।

 

 

যারা আজাদের রাজনীতির সাথে জড়িত নন তাদের করা হয়েছে মাইনাস। কোন কোন ক্ষেত্রে গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করেই কমিটি সাজানোর অভিযোগ রয়েছে নেতাদের বিরুদ্ধে। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতারা বলছেন, নজরুল ইসলাম আজাদ যেখানেই হাত দিয়েছে সেখানেই বিতর্ক জন্ম নিয়েছে।

 

 

এভাবে দিনের পর দিন পুরো জেলায় বিএনপিকে বিতর্কিত ও ধ্বংস করছেন আজাদ। কেন্দ্রের কিছু নেতাকে হাত করে নৈরাজ্যে নেমেছেন তিনি। দ্রুতই তার কার্যক্রম নিয়ে কেন্দ্রে প্রশ্ন তোলা না হলে, জেলাজুড়ে বিএনপিতে তৈরি হবে অস্থিরতা। দল বাঁচাতে তার লাগাম এখনই টেনে ধরা জরুরী। এছাড়া আজাদ তার নিজের মন মতো কমিটি প্রণয়ন করতে চেয়ে নিয়ম ও গঠনতন্ত্রকে উপেক্ষা করেছেন গায়ের জোড়ে। এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন