# নিজেদের স্বার্থ হাসিল করাই তাদের লক্ষ্য
নারায়ণগঞ্জ হলো এমনি একটি জেলা যে জেলা রাজনৈতিক কারণেও সারা বাংলাদেশে ব্যাপক নাম ও পরিচিতি রয়েছে। আয়তনে এই জেলা ছোট হলেও অর্থনৈতিকভাবে এই জেলা; ধনী জেলা হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন কারণে এ জেলার ব্যাপক সুনাম ও রয়েছে তবে সুনামের সাথে সাথে এ জেলার ব্যাপক দুর্নামও রয়েছে।
বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ থেকে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা হয়; আর এর কৃতিত্ব স্বনামধন্য ওসমান পরিবারের। কিন্তু বর্তমান সময়ে নারায়ণগঞ্জ গুম, খুন, চাঁদাবাজি, মনোনয়ন বাণিজ্যে নিয়ে এই পরিবারের একজন সাংসদের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ রয়েছে। এমনকি অন্য দলের নেতৃবৃন্দকে নিজের দলে টেনে কাউকে বানিয়েছেন চেয়ারম্যান এবং কেউ কেউ তার পরামর্শেও খেলার লোভে হারিয়েছেন দলীয় পদ।
তেমনি একজন বিএনপির পরিক্ষিত নেতা তৈমূর আলম খন্দকার। পেশায় একজন স্বনামধন্য আইনজীবী হলেও তিনি বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত থেকে প্রভাব এবং ত্যাগের কারণে তাকে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও বিএনপির আমলে তিনি বিআরটিসির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
তবে দলের সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে গত ১৭ জানুয়ারি ২০২২ ইং নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় বিএনপির সকল পদ থেকে তাকে বহিস্কার করা হয়। এর আগ পর্যন্ত তিনি জেলা বিএনপির আহবায়কও ছিলেন।
রাজনৈতিক নানা সূত্র মনে করে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ঠেকানোর জন্য নারায়ণগঞ্জের এক প্রভালশালী এমপির ইন্ধনে, তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নেন । আর সেই নির্বাচনে মেয়র আইভীর কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়ে একূল ওকূল দুইকূলই হারিয়েছেন তিনি।
তবে সম্প্রতি মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটি নিয়ে ওঠা দ্বন্দ্বে আবারও তৈমূর আলম খন্দকার এসেছেন দৃশ্যপটে। বহিষ্কার হলেও তিনি মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির বিদ্রোহীদের নিয়ে একাধিক সভা করেছেন। সূত্র বলছে, ১৩ সেপ্টেম্বর এডভোকেট শাখাওয়াত হোসেনকে আহবায়ক ও আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে সদস্য সচিব করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্যের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
আর এই কমিটি ঘোষণা দেওয়ার পর পরই ১৫ জন সদস্য আলাদা হয়ে সিদ্ধান্ত জানায়। তারা এই কমিটি বর্জন করেছে; এমনকি পদত্যাগ করারও সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। এমনকি পদত্যাগ করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া সদস্যরা, এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারেরে বাসায় কয়েকবার মিটিংও করেছে।
আর এই বহিস্কৃত তৈমূরের সাথে মহানগর বিএনপির পদত্যাগ করতে চাওয়া নেতা-কর্মীদের এমন কর্মকান্ডে বিএনপি’র অনেক নেতা-কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। একজন বহিষ্কৃত নেতা কিভাবে দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার খেলায় মেতে উঠছেন সেই প্রশ্নও উঠেছে।
অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জে আরেকজন বিএনপির নেতা নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস। যিনি বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তাকে দলের কোন কার্যক্রমে পাওয়া যায়নি। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দলের কোন আন্দোলন সংগ্রামে নেই তিনি। স্থানীয় একজন সাংসদ সদস্যের নির্দেশনাতেই চলে তার সকল কিছু। অনেকেই মনে করছেন নিজের চেয়ারম্যানী ও টাকা কামানোর লোভেই এগুলো করছেন তিনি।
অপরদিকে ফতুল্লা কুতুবপুরে দিকে খোঁজ নিতেই পাওয়া যাবে বার বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান মনিরল আলম সেন্টু। যিনি এক সময় ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন। তবে তিনিও নারায়ণগঞ্জের একজন আওয়ামী লীগের সাংসদ সদস্যের নির্বাচনী প্রচারণায় নৌকার পক্ষে ভোট চাওয়ায় তাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।
তাতেও তার দুঃখ কিংবা কষ্ট নেই কারণ তার দরকার চেয়ারম্যানের চেয়ার। আর এখন তিনি হঠাৎ করেই হয়ে গেলেন আওয়ামী লীগ নেতা। এমনকি আওয়ামী লীগের নৌকার মনোনয়ন পেয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হয়েছেন চেয়ারম্যান। তবে আওয়ামী লীগের হয়েও তিনি আওয়ামী লীগের কোন কার্যক্রমকে থাকতে পছন্দ করেন না।
এখন তিনি নামে আওয়ামী লীগ নেতা হলেও, শামীম ওসমানের ডাকা সমাবেশ ও আওয়ামী লীগের সমাবেশে কখনো আসেনি। তাদের এমন কর্মকান্ড নিয়ে এক নেতা বলেন, এরা কোন দলের না। এরা তাদের চেয়ার আর সুযোগ প্রয়োজন। এরা সুযোগ বুঝে নিজেদের স্বার্থের জন্য কাজ করে থাকেন। এন.এইচ/জেসি


