# সম্মেলন স্থগিতে নতুন কিছুর প্রত্যাশা
ঢাকঢোল পিটিয়ে বলা হচ্ছে জেলা মহানগর আওয়ামী লীগের তৃনমূলকে ঢেলে সাজানো হবে। সেই ধারাহিকতায় জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে নতুন নেতৃত্ব আশা নিয়ে নেতা কর্মীরা মাঠে আসে। কিন্তু তাদের সেই আশা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের দুই শব্দে শেষ হয়ে যায়।
তবে আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মুহুর্তে বিএনপির আন্দোলনকে দমানোর জন্য রাজনৈতিক বিষশ্লেকরা ধরে নিয়েছিলো; জেলা আওয়ামী লীগ কমিটিতে দুই প্রভাবশালী এমপি নেতৃত্বে আসবে। সম্মেলনের আগের দিন এমনকি সম্মেলনের দিন পর্যন্তও নেতা কর্মীরা তাই মনে করেছে।
কিন্তু যখন ২৩ অক্টোবর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এসে প্রধান অথিতির বক্তব্যের শেষ পর্যায় এসে বলেন নতুন নেতৃত্ব আসতে দেন না। মশারীর উপর মশারী দিয়ে রাখেন। জেলা আওয়ামী লীগে পূর্বের কমিটি বহাল থাকবে।
পূর্বের কমিটির জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে দায়িত্বে রয়েছেন আবদুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হাসানত মো. শহিদ বাদল। সম্মেলনের মাধ্যমে পুরাতনরাই নতুন ভাবে আসেন। সেই সাথে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে এবার ত্যাগীদের মূল্যায়নের নির্দেশন দেন।
২৫ বছর পর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হওয়ায় নেতা কর্মীদের মাঝে আগ্রহ তৈরী হয়েছিল; নতুন কমিটিতে নবীন প্রবীনে কমিটি আসবে। সেই তালিকায় নেতা কর্মীদের পছন্দের সভাপতি হিসেবে ছিলেন জেলার প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান। তার বিপরীতে সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম।
তারা এর আগে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগে দাপটের সাথে নেতৃত্ব দিয়েছে। সেই সাথে এই দুই নেতা বিভিন্ন কারণে সারাদেশে পরিচিত। নেতা কর্মীরা ধরেই নিয়েছে সম্মেলনে তাদের নাম ঘোষণা হবে। কিন্তু যখনি কমিটি ঘোষণা হয় তখন কর্মীরা এক ধরনের হতাশা নিয়ে ফিরে যায়। সেই সাথে পদ প্রত্যাশীদের মাঝেও হতাশা নেমে আসে।
রাজনৈতিক বিষশ্লেকদের মাঝে সহ খোদ দলীয় নেতাদের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে কেন পুরাতনদের আবার দায়িত্ব দেয়া হলো। তাদের বিরুদ্ধে ব্যপক অনিয়ম থাকা সত্বেও তারাই কেন আবার ক্ষমতাসীন দলের গুরুত্বপূর্ণ জেলায় দায়িত্বে আসলেন। তাদের থেকেও আরও যোগ্যতা সম্পন্ন নেতা দলের মাঝে কোন অংশে কমতি নেই।
তাছাড়া বর্ধিত সভায়ও পুরাতনরা নেতৃত্বে থাকছে এমন প্রশ্ন ফাঁস হয়ে যায় কিভাব তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তখন কোন সদুত্তর মেলেনি। একাধিক সূত্র বলছে, নতুন যাদের নিয়ে আলোচনা উঠেছে তার গোপন পরিকল্পনা বিভিন্ন ভাবে ফাঁস হয়ে যায়। এমনকি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও তা জানতে পারেন।
সূত্র বলছে, দুই প্রভাবশালী নেতা ক্ষমতাসীন দলের জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হলে সবার আগে বিভিন্ন থানা এবং উপজেলার পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত করে তাদের নিজেদের পছন্দ মত নেতা দিয়ে কমিটি করা হতো। সেই সাথে কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগতো নতুন কিছু নয়।
এছাড়া জেলার ক্ষমতাসীন দলে উত্তর দক্ষিনের প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি কারো অজানা নয়। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগে উত্তর দক্ষিনের প্রভাব বিস্তারকে দলীয় সাধারণ সম্পাদক মশারীর উপর মশারী কথা দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন। যদিও নেতা কর্মীরা এই কথার ব্যখ্যা নিয়ে ভাবছেন।
অপর দিকে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দিন কেন্দ্রয়ীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বৈরি আবহওয়ার কারণে মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন বাতিল করার ঘোষণা দেন। তার আগে ৩ অক্টোবর মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় ২৫ অক্টোবর মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দিনক্ষন নির্ধারণ করেন।
মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নতুন কমিটিতে আসার জন্য একাধিক নেতা মাঠে নামেন। তারা নিজেদের মত করে কেন্দ্রে যোগাযোগও করেন। ক্ষমতাসীন দলের মহানগর আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির সভাপতি পদে আলোচনা রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, মহানগর আওয়মী লীগের বর্তমান কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র সহ- সভাপতি ও সদ্য নির্বাচিত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু চন্দন শীল, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা।
সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনা রয়েছেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব, শাহ্ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল ও জিএম আরাফাত। স্থানীয় নেতা একাধিক নেতা জানান, মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন বাতিল হওয়ায় নতুন কমিটিতে পদ প্রত্যাশীদের মাঝে এক ধরনের হতাশা নেমে আসে।
উল্লেখ্য ২০১৩ সালের পর মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এখনো। বিশেষ করে সর্বশেষ সিটি নির্বাচনে মহানগর আওয়ামী লীগের দৈন্যদশার বিষয়টি টের পায় কেন্দ্র। অভিযোগ রয়েছে সিটি এলাকার ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে একটি ওয়ার্ড কমিটি সম্মেলন করতে পারেনি বর্তমান সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা।
নিজেদের দুই জনের মধ্যেই মতানৈক্য এবং বিরোধের বিষয়টিও নানা সময়ে প্রকাশ্যে আসে। ২৫ অক্টোবর সম্মেলনের তারিখ পড়ায় এব্যাপারে আশান্বিত ছিল নেতা-কর্মীরা। বিশেষ করে কমিটিতে থাকা নেতা-কর্মীরাও আশা প্রকাশ করেছিলেন এবার সম্মেলনে নেতৃত্বে পরিবর্তন আসলে মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে গতি আসতো।
তবে সম্মেলন স্থগিত হয়ে যাওয়ায় সেই আশাতেও ভাটা পড়েছে। এদিকে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে, বর্তমান সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক এক খোকন সাহাই বহাল থাকতে পারে তা ফলাও ভাবে আলোচনা হচ্ছে। তাছাড়া মহানগর আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা বেঁচে নেই; অনেকে বহিষ্কারও হয়েছে।
আবার পদায়িত অনেক নেতাই এখন প্রমোশন চাচ্ছেন। জাতীয় নির্বাচনের আগে মহানগর আওয়ামী লীগ ঢেলে সাজানো না গেলে এর প্রভাব যে দলে পড়বে সে কথা সহজেই অনুমেয়। তাহলে বর্তমানদেরকেই দায়িত্ব দিলে সেটি কেমন করে দেয়া হতে পারে? এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা জানান, এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেই মহানগর আওয়ামী লীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে।
আবার নতুন তারিখ করে সম্মেলনের সময় করাও বেশ কঠিন। কেননা ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। আর এই অল্প সময়ের আগে মহানগর আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কমিটিগুলো গঠন করাও দূরুহ ব্যাপার। তাই মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হওয়ার বিষয়টিও অনেকটা ঝুলে গেল। সম্মেলন হলেও অন্তত এই ছন্দ পতন থেকে রক্ষা পেত নেতা-কর্মীরা। এন.এইচ/জেসি


