# ১ নভেম্বর পরিচিতি সভায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করবো : মান্নান
সোনারগাঁ থানা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পর কমিটিতে অর্ন্তভুক্ত নেতাদের নাম প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছিল। এই বিলম্ব হওয়াকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেন সোনারগাঁ থানা বিএনপির বিদ্রোহী হিসেবে পরিচয় দানকারী গুটি কয়েক নেতা ধূ্ম্রজাল সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের পরিকল্পনা করেছিল।
কিন্তু তাদের দ্বারা সৃষ্ট ধূ্ম্রজালকে নস্যাৎ করে দিয়েছেন সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান। কারণ আগামী ১ নভেম্বর পরিচিত সভার মাধ্যমে সোনারগাঁ থানা ও পৌর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা হবে। এতে প্রতীয়মান হয় যে, বিদ্রোহী নামক নেতাদের সকল আলোচনা সমালোচনা অভিযোগ ভেস্তে যাচ্ছে।
সূত্রে জানা যায়, গত ০৮ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির অর্ন্তভুক্ত সোনারগাঁ থানা ও পৌর বিএনপির ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন দেন জেলা বিএনপি। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়ে যায় কারা নেতৃত্বে এসেছেন সোনারগাঁ থানা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে।
কিন্তু কমিটি প্রকাশিত হওয়ায় বিলম্ব হচ্ছিলো; আর এই বিলম্ব হওয়া নিয়ে থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গণমাধ্যমে জানিয়েছে আমরা পরিচিতি সভার আয়োজন করব সেখানে সকলকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার মাধ্যমে কমিটি প্রকাশ করব। কিন্তু কমিটি প্রকাশে বিলম্ব হওয়ার বিষয়ে থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বিবৃতি দেন।
এই পূর্ণাঙ্গ কমিটির নাম প্রকাশ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিতে চাচ্ছেন সোনারগাঁ থানা বিএনপির বর্তমান কমিটির বিরোধীতা করা গুটি কয়েকজন নেতা আর এই বিরোধীতা সৃষ্ট করার প্রধান পৃষ্ঠপোষক হলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অধ্যাপক ওয়াহেদ বিন ইমতিয়াজ বকুল।
পাশাপাশি তার সাথে বিরোধীতার সুর মেলাচ্ছেন জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুকুল, থানা যুবদলের সভাপতি স্বপন, থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সালাউদ্দিন সালু। তারা সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিয়ে নানা ধরণের অভিযোগ করতে শুরু করেন; তাদের অভিযোগ, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিজস্ব লোকবল দ্বারা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করায় কমিটি প্রকাশ করছে না।
এছাড়া আরও অভিযোগ করেন, বিতর্কিত অনেককে পদ দেয়ায় নেতা কর্মীদের তোপের মুখে পড়তে পারেন; এই ভয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তালিকা প্রকাশ করছেন না। এছাড়া সভাপতি বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগও তুলেন। তারা এসব ধরণের অভিযোগ তুলে নিজেদেরকে সোনারগাঁ থানা বিএনপিতে শক্তিশালী বিরোধী হিসেবে নিজেদেরকে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন বলে সচেতন মহল মনে করছেন।
কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হল সোনারগাঁ থানা বিএনপির আলাদা ব্যানারে সভা সমাবেশ করে সোনারগাঁ থানা বিএনপিতে বিরোধী শক্তি হিসেবে নিজেদেরকে জাহির করতে চাচ্ছেন। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ রয়েছে যে, ক্ষমতাসীন দলের সাথে আঁতাত করে সকল হামলা মামলা থেকে রেহাই পেয়ে তাদের প্রেশক্রিপশনে সোনারগাঁ থানা বিএনপিতে বিভোদের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছেন।
কিন্তু তাদের সকল ধরনের পরিকল্পনাই ভেস্তে যাচ্ছে সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি মান্নানের দক্ষ নেতৃত্বের কারণে। পাশাপাশি তারা সোনারগাঁ থানা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়েও কম জল ঘোলা করেননি; কিন্তু সেটাতেও সফল হতে পারলেন না। কারণ আগামী ১ নভেম্বর পরিচিতি সভার মাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে সোনারগাঁ থানা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি।
সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান জানায়, ‘সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপি এবং পৌরসভা বিএনপির নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিতি সভা আগামী ১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ইনশাল্লাহ। আর বিদ্রোহী বলে যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে। সোনারগাঁ বিএনপিতে বিদ্রোহী বলতে কিছু নেই।
সোনারগাঁয়ে বিএনপিতে যারা রাজপথে আছে রাজপথে থাকে এবং রাজপথে থাকতে গিয়ে ২০-২৫টি মামলা খেয়েছে এই রাজপথের সৈনিকদের নিয়ে আমি কমিটি গঠন করেছি। আর যারা পর্দার আড়ালে থেকে আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায় তাদেরকে নিয়ে আমি কমিটি করবো না।
যারা রাজপথে আছে তাদেরকে নিয়েই কমিটি করেছি। যারা বিদ্রোহী বলে সোনারগাঁ বিএনপিতে বিভাজন সৃষ্টি করতে চায় তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, তাদের নামে কয়টা মামলা আছে? তারা সোনারগাঁয়ের কোন জায়গাতে আন্দোলন করেছে দেখাক?
আর যদি দেখাতে পারে আমরা আন্দোলন করেছি তাহলে আমি কমিটিতে অর্ন্তভুক্ত করব আর যদি না দেখাতে পারে তাহলে কিন্তু অ্যাকশন নিব। তারা আওয়ামী লীগের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য।
তারা রাজপথে থাকে না দলের জন্য কোন কাজ করে না ,তাদের নামে তেমন কোন মামলাও নেই। আর যারা রাজপথে আছে দলের স্বার্থে কাজ করে তাদেরকে নিয়েই কমিটি করেছি।’ এন.এইচ/জেসি


