# কথা বলতে বাধ্য নই : মুন্না
# বিএনপিকে মোকাবেলার জন্য কমিটি প্রয়োজন : মাসুম
# সহযোগী সংগঠন মূল দলের চালিকা শক্তি : শফিক
আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর প্রায় সবগুলোই অগোছালো। এর মধ্যে অন্তত চার সংগঠনের জেলা মহানগর কমিটিবিহীন অবস্থায় চলছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে আহ্বায়ক কমিটি দিয়েই চলছে জেলা শ্রমিকলীগ, জেলা যুব মহিলা লীগ। এছাড়া জেলা ছাত্রলীগের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে আছে বছর খানিক আগেই।
এদিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্তমানে মূল দল আওয়ামী লীগের পাশাপাশি সহযোগীরাও ফের শুরু করেছে দল গোছানোর কার্যক্রম। আগামী জাতীয় নির্বাচন ঘিরে ক্ষমতাসীন দল এবং বিরোধী দল রাজনৈতিক মাঠ গরম করে যাচ্ছে। সেই সাথে ইতোমধ্যে আগামী নির্বাচন ঘিরে দুই দলের মাঝে নির্বাচনের ডামাডোল বাজতে শুরু করেছে।
সেই সাথে হাই কমান্ড পাল্টা পাল্টি বক্তব্য দিয়ে নেতা কর্মীদের উজ্জীবিত করছে। তারই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জেও তা পিছিয়ে নেই। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের চিত্র ভিন্ন। এখানে দিনের পর দিন আওয়ামী লীগ দূর্বল হচ্ছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বোদ্ধা মহল।
এর কারণ হিসেবে বলছেন সহযোগী সংগঠনে কমিটি না থাকা। কেননা প্রায় বছর শেষ হতে যাচ্ছে, এখানো ক্ষমতাসীন দলের জেলার সহযোগী সংগঠনের কমিটি নেই। অথচ মূল দলের চালিকা শক্তি হলো সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠন জেলা মহানগর স্বেচ্ছা সেবকলীগের কমিটি বিহীন হয়ে থাকায় পদপ্রত্যাশী নেতাদের নেতৃত্বে দলীয় কার্যক্রম চলছে।
এছাড়া মহানগর শ্রমিকলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ কমিটি না থাকায় দলীয় কার্যক্রম হযবরল হয়ে আছে। অভিযোগ রয়েছের প্রতিটি কমিটি গত নাসিক নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করায় এই কমিটিগুলো বিলুপ্ত করা হয়। তাছাড়া জেলা যুবলীগ চলছে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে।
যারা যুবলীগের দায়িত্বে আছে তারাই আবার জেলা মহানগর আওয়ামী লীগে আছে। আর এতে করে নতুন নেতৃত্ব তৈরী বাধা হচ্ছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিষশ্লেকরা। এই সংগঠনগুলোর বেশির ভাগের জেলা-উপজেলা কমিটিরও মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। সংগঠনগুলোর তৃণমূলেও বেহাল অবস্থা হয়ে আছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের মাধ্যমে পুরাতনরা নতুন ভাবে আবার দায়িত্বে আসেন। এখানেও নতুন নেতৃত্বের প্রতিফলন ঘটে নাই। এতে করে অনেকে নাখোশ হলেও, তাদের মাধ্যমেই আগামী নির্বাচন করতে হবে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদেরকে।
তবে তাদের সাপোর্টের জন্য জেলা আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনে কমিটি না থাকায়, নেতা কর্মীরা নেতৃত্ব শূন্যতায় ভুগছেন। তাই রাজনৈতিক বিষশ্লেকদের মতে, এই মুহুর্তে দলকে শক্তিশালী করে তুলতে হলে সহযোগী সগংঠনের কমিটিগুলো গঠনের কোনো বিকল্প নেই।
অপরদিকে জানা যায়, ইতোমধ্যে জেলা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি গঠনের কাজ তৃণমূল থেকে শুরু হয়েছে। তারই ধারা বাহিকতায় সপ্তাহ খানিক আগে সদর থানাধীন আলীরটেক ও গোগনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। একই সাথে বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের ৫টি ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি গঠন করা হয়।
তাছাড়া অন্যান্য উপজেলায়ও কমিটি গঠনের কাজ চলছে। তবে মহানগর শ্রমিকলীগ এবং মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে তেমন একটা আলোচনা না থাকায় এখানে কারা নেতৃত্বে আসছে তা নিয়ে চলছে জল্পনা কল্পনা। তবে আওয়ামী লীগের প্রধান সহযোগী সংগঠন যুবলীগে দীর্ঘ দিন কমিটি না হওয়ায় নেতাদের মাঝে ক্ষোভ জমে রয়েছে। তবে তারা নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে পরিবর্তন চায়।
যদিও আগামী ডিসেম্বরের কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সম্মেলনের আগে সহযোগী সংগঠনের জেলা পর্যায়ের কমিটি গঠন হবে কি না তা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। তবে আগামী মাসে জেলা যুবলীগের সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের জন্য নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু এই নির্দেশনা কতটুকু বাস্তবায়ন হবে তা নিয়ে ধোঁয়াশায় রয়েছে নেতা কর্মীরা।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মাসুম বলেন, ‘মুলদলের চালিকা শক্তি হলো সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা। কিন্তু সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের কমিটি না থাকলে তখন মূল দলও অনেকাট দূর্বল হয়ে পড়ে। তাছাড়া বিএনপিকে মোকাবেলা করতে হলে সহযোগী সংগঠনে কমিটি খুবই প্রয়োজন। তাই আমি মনে করি, দ্রুত গতিতে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি দেয়া প্রয়োজন।
মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি প্রার্থী শফিকুল ইসলাম জানান, ‘সামনে বিএনপিকে মোকাবেলা করার জন্য সহযোগী সংগঠনের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের মত গুরুত্বপুর্ণ জেলায় বেশ কয়েকটি আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের কমিটি না থাকায় মূল দলও দূর্বল হয়ে যাচ্ছে।
জেলা মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগ সহ অন্যান্য যেসকল অঙ্গ সংগঠনের কমিটি নেই সেগুলোতে দ্রতু কমিটি দেয়া প্রয়োজন। কেননা কমিটি থাকলে নেতা কর্মীদের নেতৃত্বে মিছিল মিটিংয়ের বিএনপিকে প্রতিরোধ করার জন্য ভূমিকা রাখা যায়।’
মহানগর শ্রমিক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান মুন্নার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘আমি কথা বলতে বাধ্য নই।’
মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনকল রিসিভ করেন নাই। এন.এইচ/জেসি


