Logo
Logo
×

রাজনীতি

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে প্রার্থী হতে অনীহা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট :

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২২, ০৫:৫২ পিএম

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে প্রার্থী হতে অনীহা
Swapno

 

# নৌকার দাবিতে একাট্ট হয়ে মাঠে নেমেছিলেন বেশ কয়েকজন নেতা

# জাতীয় পাটির শিকড় এখানে গভীরে বলছে তৃণমূল
 

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এখনো এক বছরেরও বেশি সময় বাকি। নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর), নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীদের দ্বৈরথ প্রায় বছরের পুরো সময়ই দেখা যেতো; কিন্তু এবার ব্যতিক্রম। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ- ৫ আসেেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে অনীহা দেখা গেছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের মধ্যে।

 

 

যদিও এই আসনটি নিয়ে গতবছরের শেষে বর্তমান জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমান এবং আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বাকযুদ্ধ পরিলক্ষিত হয়েছিলো। ২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও নৌকার প্রার্থীর দাবিতে একাট্টা হতে দেখা গিয়েছিলো আওয়ামী লীগ নেতাদের। কিন্তু এবার পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন।

 

 

সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় সাংসদ নির্বাচনকে ঘিরে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের বহু আগে থেকেই জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আরজু রহমান ভূইয়া মাঠে নামেন। তিনি বন্দর এলাকাতেই শুধু ৫৬টির বেশি উঠান বৈঠক করে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে নজর কাড়েন।

 

 

এমনকি তার সকল কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তখন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও ওয়াকিবহাল ছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের আগে এই আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবদুল কাদির, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদা মালাসহ আরো অন্তত দশজন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

 

 

শেষ পর্যন্ত আবু সুফিয়ান এবং আরজু রহমান ভূঁইয়া আওয়ামী লীগের শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে জানান দেন কিন্তু আদতে তারা সফল হতে পারেননি। জাতীয় পার্টি থেকে সেলিম ওসমানকেই আবার শরীক দলের প্রার্থী করা হয়। বিএনপির তিনবারের নির্বাচিত এমপি আবুল কালামকেও বিএনপি মনোনয়ন বঞ্চিত রাখেন। সেখানে নাগরিক ঐক্যের এসএম আকরামকে প্রার্থী করা হয়।

 

 

এই এসএম আকরামই একমাত্র প্রার্থী যিনি একই আসনে নৌকার প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এবং জেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক ছিলেন। তিনিই ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির জোটের প্রার্থী হন; নির্বাচনে সেলিম ওসমান জয়ী হন।
 

 

এবারের পরিস্থিতি আরো ভিন্ন। ২০১৯ সালের নির্বাচনে আবুল কালাম মনোনয়ন না পেলেও তৎকালীন সময়ে মহনগর বিএনপির সভাপতি ছিলেন তিনি। বর্তমানে এই পদটিতেও তিনি নেই। সিটি নির্বাচনের বিএনপির প্রার্থী এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বর্তমানে মহানগর বিএনপির আহবায়ক হিসেবে রয়েছেন।

 

 

দায়িত্ব পেয়েই মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে সাথে নিয়ে মহানগর এলাকার সকল ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত করেছেন। নতুনভাবে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। যা কিনা আগামী সংসদ নির্বাচনকেই টার্গেট করেছে, বলে মনে করেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা।
 

 

এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের নীরব হতাশা বিরাজ করছে তৃণমূলে। বিশেষ করে, কমিটি বাণিজ্য, পদবাণিজ্য, স্বেচ্ছাচারিতাসহ হাজারো অভিযোগে অভিযুক্ত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে  নতুন করে সম্মেলনে বহাল করা নিয়েই তৃণমূলে এই হতাশা। তাছাড়া মহানগর আওয়ামী লীগের ২০১৩ সালের পর কোন সম্মেলন হয়নি।

 

 

সম্মেলনের তারিখ পড়লেও তা স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া মহানগর আওয়ামী লীগে কোন ওয়ার্ড কমিটি এখন পর্যন্ত গঠন করা সম্ভবপর হয়নি। যার দরুণ এখানে আওয়ামী লীগের সাথে দীর্ঘদিন ধরে থাকা রাজনীতিকরা বঞ্চিত, শোষিত, অবহেলিত ও লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ করছে। কিন্তু তার কোন ফলাফলে আসতে পারেনি।

 

 

জাতীয় পার্টি বন্দর এলাকায় একক নিয়ন্ত্রণ বিরাজ করছে। সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদে কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজিমউদ্দিনকে উদ্দেশ্য করে জাপার এমপি সেলিম ওসমান বলেছিলেন, গাঞ্জার নৌকা কখনো তালগাছে উঠবেনা। শেষ পর্যন্ত সেই কথাই প্রমাণ করে ছাড়েন এমপি সেলিম ওসমান। সেখানে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনীত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়।

 

 

আওয়ামী লীগের নেতারা একাট্টা হয়েও কাজিমউদ্দিনকে জয়ী করতে পারেননি। এরপরেও যতখানি আগ্রহ ছিল আওয়ামী লীগের নেতাদের এই আসনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে তাও হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে সর্বশেষ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের পরে।
 

 

আওয়ামীলীগের বেশ কয়েকজন নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা আওয়ামী লীগের প্রার্থীতার জন্য আগ্রহভরে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন তারা এবার মনোনয়ন নিয়ে তেমন একটা ভাবছেননা। এর কারণ হিসেবে অনেকেই বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে সদর-বন্দরের ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতাদের বঞ্ছনা, গঞ্জনার বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের অজানা থাকার কথা নয়।

 

 

তাছাড়া আওয়ামী লীগেরও একটা অংশ কৌশলে জাতীয় পার্টিকে সবসময় সহযোগীতা করছে। আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা বলেন, যারা আওয়ামী লীগের প্রার্থী নাজমা রহমানের নৌকার ডুবিয়েছিলো লাঙল দিয়ে সময়ের পরিক্রমায় এই অংশটির বিস্তৃতি অনেকটা গভীরে চলে গিয়েছে।

 

 

তাছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও বঞ্চিত, শোষিত, নির্যাতিত ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতাদের কথাগুলো আমলে নিয়ে সমাধান করেননি। যার দরুণ গতবারের মতো এবারও নৌকার দাবিতে মনোনয়ন প্রত্যাশা করা মানে অর্থ অপচয় এবং পণ্ডশ্রম ছাড়া কিছুই নয় বলে মন্তব্য করেন একাধিক আওয়ামীলীগ নেতা। আর যার দরুণ এবার এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে তীব্র অনীহা লক্ষ্য করা গেছে মাঠ পর্যায়ের নেতাদের। এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন