# প্রতিযোগিতায় একঝাঁক নেতা
# ডায়নামিক ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব প্রয়োজন : মামুন মাহমুদ
দীর্ঘ ১৫ বছর হলো বিএনপি সরকার ক্ষমতায় নেই।বিভিন্ন সময় আন্দোলন সংগ্রাম দিয়ে সারাদেশেই তারা তাদের দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে দলটির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া প্রায় তিন বছর কারাবরণ করে, প্যারলে মুক্তি পেয়ে এখন বাসায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সন্তান তারেক রহমান যিনি মামলাজনিত কারণে দেশের বাহিরে রয়েছেন। আর দেশের বাহিরে থাকার পরেও দলের নেতৃবৃন্দদের সাথে প্রতিনিয়তই তিনি যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তারই ধারাবাহিতায় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি সকল সময়ই গুরুত্ব সহকারে দলের সকল কার্যক্রম করে যাচ্ছে।শুধু তাই নয় আন্দোলন ,সংগ্রাম ,মামলা সহ বিভিন্ন পুলিশি হয়রানির পরেও নেতা-কর্মীরা সরকার পতনের আন্দোলনের চালিয়ে মাঠ গরম করছে।
জানা যায়, ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এডভোকেট তৈমুল আলম খন্দকারকে আহ্বায়ক ও মামুন মাহমুদকে সদস্য সচিব করে ৪১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত ওই কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
তবে দলের সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণে এডভোকেট তৈমুল আলম খন্দকারকে দলের সকল পদ থেকে বহিস্কার করা হয়।পরবর্তীতে মনিরুল ইসলাম রবিকে বিএনপির আহবায়ক করা হয়।
আর এই সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ১ বছরেরও বেশি সময় যাবৎ নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি আন্দেলন সংগ্রাম দিয়ে সারাদেশে বেশ আলোচনায় রয়েছে। এমনকি ১ সেপ্টম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় যুবদল কর্মী শাওন নিহত হয়। আর এই হত্যার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ থেকেই এই আন্দেলন আরও বেগবান হয়।
এক সূত্রে জানা যায়, খুব শীঘ্রই হতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির নতুন কমিটি। আর বিএনপি‘র জেলা কমিটিতে আসতে এখনি দৌড়ঝাাঁপ শুরু করে দিয়েছে একঝাঁক নেতা। তাছাড়া দলের মধ্যে এখনো রয়েছে গ্রুপিং এবং নান ধরণের বিভেদ। আবার অনেকেই ভাবছে নতুন করে কমিটি করলে; আরো বেশি শক্তিশালী হবে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি।
আগামী সাংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করতে, নতুন করে কমিটি দেওয়া হবে। এই কমিটিতে বেশ কয়েকজন আলোচনায় রয়েছেন। যারা জেলা বিএনপির যেকোন আন্দোলন সংগ্রামে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছে এবং হাজারো নেতা কর্মীদের বিভিন্ন সময়ে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে রাজপথে ছিলো। তারাই হয়তো এগিয়ে থাকবে জেলা বিএনপির কমিটিতে।
নারাযণগঞ্জ জেলা বিএনপির একঝাঁক সিনিয়র নেতারা পদ প্রত্যাশী বলে সূত্রমতে জানা যায়। জেলা বিএনপির নতুন কমিটির আহ্বায়ক বা সভাপতি পদে হিসাবে দায়িত্ব পেতে চান বেশ কয়েকজন। তার মধ্যে বেশ আলোচনাায় রয়েছেন, বিএনপি'র নির্বাহী কমিটির সদস্য নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারাযণগঞ্জ জেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কক মনিরুল ইসলাম রবি, বর্তমান সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদ।
অন্যদিকে সদস্য সচিব বা সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব চায় জেলা বিএনপির সিনিযর যুগ্ম আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক লুৎফর রহমান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেল, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন, সাবেক যুবদলের সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মামুন মাহমুদ জানান, ‘জেলা কমিটি দেওয়া দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজে করবেন। উনার নির্দেশেই জেলা কমিটিগুলো হয়ে থাকে; তবে কবে নাগাদ হবে; সেটা আমি সঠিক ভাবে বলতে পারছিনা।’
তিনি আরো বলেন, আমাদের ফোকাস এখন দলের কার্যক্রম সফল করা। এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যে নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারবে; সে নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে। সেই নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে আমরা আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। এ নিয়েই আমরা ব্যস্ত সময় পার করছি।’
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা বিএনপির সদস্য সচিব ও সাবেক জেলা যুবদলের সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু জানান, ‘কবে নাগাদ জেলা বিএনপির কমিটি হবে তা এখনো বলা যাচ্ছেনা। তবে আশা করা যায় খুব শীঘ্রই নতুন করে জেলা কমিটি দেওয়া হবে। যদি দল আমাকে যোগ্য মনে করে, তাহলে অবশ্যই আসতে চাইবো। কারন সবাই তো কমিশনের চিন্তা করে; তারপরও মাঠে একটা কর্মীদের দাবি আছে।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা তো একা কাজ করি না; হাজার হাজার কর্মীরা আমাদের সাথে কাজ করে, তাদেরও একটা দাবি আছে।আমিও চাই সুন্দর একটা কমিটি শক্তিশালী কমিটি হোক; যেই কমিটিটা আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় থাকবে।
আমাকে যদি যোগ্য মনে করে তাহলে আমাকে দেওয়া হোক আর আমার থেকেও যদি যোগ্য কেউ থাকে; তাকে দেওয়া হোক দলের সার্থে মেনে নিবো। আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলের মহাসচিব বলেছেন, তত্বাবধায়ক সরকার হলেই আমরা নির্বাচনে আসবো না হলে নয়।’
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও ফতুল্লা থানা বিএনপির আহবায়ক জাহিদ হাসান রোজেল জানান, ‘আমি এ বিষয়টা সুনির্দিষ্ট করে জানিনা; আমার কাছে নতুন কমিটির বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। আমার রাজনীতির হাতে খড়ি ছাত্রদল থেকে শুরু, তখন থেকেই আমি নেতৃত্বের মানসিকতা নিয়া বা কোন পদের জন্য আমি রাজনীতি করি না।
আমি দলের যে সিদ্ধান্ত বা দলের কর্মসূচি থাকে; সে সকল কার্যক্রম আমি আন্তরিক ভাবে পালন করা চেষ্টা করেছি। এর বাইরে আমার অন্য কোন উদ্দেশ্যে নাই যে আমি কোন পদে আসবো বা আরো কোন দায়িত্ব নেব। দল যখন যেখানে মনে করবে সেখানেই থাকবো এর থেকে বেশি কিছু প্রয়োজন নেই।’
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মাসুকুল ইসলাম রাজীব জানান, ‘কবে নাগাদ এই এই জেলার নতুন কমিটি হবে তা এখনো বলা যাচ্ছে না। তবে যতটুকু মনে হচ্ছে ১০ ডিসেম্বরের পরপরই এই কমিটিটা দেওয়া হতে পারে।
আমি মনে করি, দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে তাহলে অবশ্যই আমি নেতৃত্ব আসতে পারবো। তবে আমি যদি নেতৃত্বে নাও আসতে পারি; দল যাকে যোগ্য মনে করবে তাকেই মেনে নেব। আর নির্বাচন নিয়ে এখন কোন প্রস্তুতি নেই; এখন শুধু আন্দোলন হবে, যেই আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারের পতন ঘটাতে হবে। এন.এইচ/জেসি


