মহানগর বিএনপি পরিবারতন্ত্র রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসছে
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২২, ০৯:২২ পিএম
# সাখাওয়াত ও টিপুর এই লক্ষ্য কতখানি বাস্তবায়ন সম্ভব
যখন আতাউর রহমান মুকুল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন থেকে সেলিম ওসমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ লোক হিসেবে সাধারণ জনগণের নিকট বেশ পরিচিত। এমনকি গত সংসদ নির্বাচনে মুকুলের বিরুদ্ধে ধানের শীর্ষের প্রতীকের প্রার্থী; এস এম আকরামের অভিযোগ ছিল যে, তিনি কেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্ট বের করে দিয়েছিলেন এবং লাঙ্গলের প্রার্থীর পক্ষে জোরালো ভূমিকা রেখেছিলেন; যা ঐ সময়ে না’গঞ্জে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
আর এই আতাউর রহমান মুকুল মূলত সাবেক এমপি আবুল কালামের চাচাতো ভাই। এরই মাঝে এখন বর্তমানে ২৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে রয়েছেন আবুল কাউসার আশা তিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি পদেও আছেন এবং মহানগর বিএনপির সভাপতি ছিলেন আশার বাবা সাবেক সাংসদ আবুল কালাম।
বর্তমান নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএপির আহ্বায়ক কমিটি দেওয়ার পর পরই, মহানগর বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান এবং সদস্য সচিব টিপু বলেছেন, এই কমিটির মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে পরিবারতন্ত্রের অবসান ঘটলো।
গতকাল শনিবার ২৯ আগষ্ট বন্দরে বিএনপির কর্মী সভায় অংশ নিয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, তারেক রহমান কয়েকবার আলোচনা করে কমিটি দিয়েছেন। এই কমিটি তারেক রহমানের কমিটি; লাঙ্গল মার্কা বিএনপির কমিটিতে ঠাঁই নেই। অনেক নেতা-কর্মী লাঙ্গল মার্কা বিএনপির কারণে নিগৃহীত হয়েছে। যারা নির্যাতিত হয়েছে, আমরা তাদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিবো; বিএনপি নেতা নির্ভর দল নয়। বিএনপি কর্মী এবং সমর্থক নির্ভর দল।
আজ সারা দেশে বিএনপি নেতা-কর্মীরা জেগে উঠেছে। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি কমিটি কোনো পরিবারকে দেওয়া হয়নি। রাজ পথ থেকে উঠে আসা লোকদের দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমরা সাখাতওয়াত হোসেন কিংবা টিপুর বিএনপি করতে চাই না। আমরা শহিদ জিয়ার বিএনপি করতে চাই। বন্দরের প্রতিটি এলাকায় গিয়ে যারা পরীক্ষিত; আওয়ামী লীগ কিংবা জাতীয় পার্টির গোলামী করেনি; তাদেরকেই আমরা কমিটিতে নিয়ে আসবো, তাদের হাতে দায়িত্ব তুলে দিবো।
বন্দরের বিএনপির কর্মী সভায় অংশ নিয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, যারা জাতীয় পার্টির বেঈমান যারা ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়ে লাঙ্গল মার্কায় ভোট দিয়েছিল। তারা কী নিপীড়িত হতে পারে। আমরা তারেক রহমানের কাছে প্রতিজ্ঞা করছি, আমাদের ভাই বোন আত্মীয়-স্বজনদের কমিটিতে স্থান দিবো না।
বন্দরবাসীকে আশ্বস্ত করে যেতে চাই, কোন একটি কোন একটি পদ বিক্রি করা হবে না। কেউ এটা করলে আপনারা সেটার প্রতিবাদ করবেন প্রমাণসহ। আমরা এখানে মেসেজ দিতে এসেছি। বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এনে সংগঠনেকে শক্তিশালী করতে হবে। খালেদা জিয়াকে রাজপথে নিয়ে আসতে হবে। আপনারা লাঙ্গল মার্কা নৌকা মার্কা; বিএনপি নেতাদের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন না।
এরই মাঝে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যে আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হয়েছিল। সেখানে আবুল কাউসার আশা ও আতাউর রহমান মুকুলকে যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রাখা হয়েছিল। কিন্তু তারা এই কমিটি থেকে পদত্যাগ ঘোষণা করেন। এন.এইচ/জেসি


