আ’লীগ-বিএনপির ঘাড়ে ভর করে ছড়ি ঘোরান খোকা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২২, ০৬:০১ পিএম
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন সোনারগাঁয়ে সাংসদ হিসেবে এমন একজন ব্যক্তি নেতৃত্ব দিচ্ছেন যার সংসদ হওয়ার আগে সোনারগাঁয়ের মাটিতে কোন রকম পদাচারণা ছিল না। নারায়ণগঞ্জের এক প্রভাবশালী নেতার সুবাদে সোনারগাঁয়ের রাজনীতিতে আবির্ভাব ঘটে একজন অচেনা অজানা লোকের, তিনি হলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা।
নারায়ণগঞ্জের সেই প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় খোকা সোনারগাঁয়ের রাজনীতিতে প্রভাব খাটিয়ে অল্প কিছুদিনের মধ্যে সোনরাগাঁয়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং জনপ্রতিনিধিদের তার মুঠোবন্দি করতে সক্ষম হয়। খোকা জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে সাংসদ হলেও সোনারগাঁয়ে জাতীয় পার্টির কোন অস্তিত্ব না থাকায় তিনি বিএনপি নেতাদের বিভিন্ন মামলার ভয় দেখিয়ে জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে ভিড়াতে থাকেন।
পাশাপাশি আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক নেতাদের সাথে সখ্যতা তৈরী করতে শুরু করেন এবং সোনারগাঁয়ের জনপ্রতিনিধিদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের প্রলোভন দেখিয়ে অনেকটা তালুবন্দি করে নেন এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সোনারগাঁয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে ছড়ি ঘোরাতে থাকেন খোকা।
সূত্রে জানা যায়, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সোনারগাঁয়ে প্রথমবারের মত সাংসদ নির্বাচিত হয় লিয়াকত হোসেন খোকা। কিন্তু সোনারগাঁ সংসদ নির্বাচিত হওয়ার আগে সোনারগাঁয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে কখনোই দেখা যায়নি খোকাকে। এতে করে সোনারগাঁয়ের সাধারণ জনগণ তাকে এক প্রকার কর্মীশূন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বহীন নেতা হিসেবে মনে করতে থাকেন।
খোকা প্রথমবার সংসদ নির্বাচিত হন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সাংসদ নাসিম ওসমানের আর্শীবাদে কিন্তু নাসিম ওসমান সংসদ হতে তাকে সহযোগীতা করলেও খোকা এমপিত্ব শুরু করার কিছু দিনের মধ্যেই পরলোকগমন করেন নাসিম ওসমান। তখন খোকা নাসিম ওসমানকে হারিয়ে অনেকটা নিঃস্ব হয়ে পড়েন।
ঠিক সেই সময়ে লিয়াকত হোসেন খোকা আওয়াীলীগের প্রভাবশালী এমপি তার পরম বন্ধু, শামীম ওসমানের সাথে ছত্রছায়ায় সোনারগাঁতে পুরোদমে এমপিত্ব শুরু করে দেন। আর তখন খোকার এমপিত্বের সুবাদে সোনারগাঁয়ের রাজনীতিতে অবির্ভাব ঘটে নারায়ণগঞ্জ প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমানের। তার পরামর্শেই সোনারগাঁ পরিচালিত হতে থাকে খোকার রাজনৈতিক কর্মকান্ড।
তখন শামীম ওসমানের ছত্রছায়ায় সোনারগাঁতে দাপিয়ে বেড়াতে থাকেন খোকা। এক পর্যায়ে খোকা বেপড়োয়া হয়ে তার রাজনৈতিক দল ভারি করতে মামলায় জর্জরিত বিএনপি নেতাদের মামলা থেকে মুক্তির প্রলোভন দেখিয়ে জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে ভিড়াতে থাকেন।
পাশাপাশি সেই বিএনপি নেতাদের সোনারগাঁয়ের জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে বিভিন্ন পদ পদবীতে নিযুক্ত করতে থাকেন। সএর পাশাপাশি শামীম ওসমানের নির্দেশনায় সোনারগাঁয়ের আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নেতাদের সাথে সখ্যতা তৈরী করতে থাকেন এবং তাদেরকে নানা ধরণের প্রলোভন দেখিয়ে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বিভেদ সৃষ্টির খেলায় মেতে উঠেন।
এছাড়া সোনারগাঁয়ের সকল স্তরের জনপ্রতিনিধিদের বিভিন্ন উন্নায়নমূলক কাজের প্রলোভন দেখিয়ে জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ঐক্য ফোরাম তৈরী করেন এর মাধ্যমে সোনরাগাঁয়ের রাজনৈতিক মহলের বিশাল একটা অংশ তার পকেটে পুরে নেন। আর এই জনপ্রতিনিধি ঐক্য ফোরামকে নিয়েই সোনারগাঁয়ের রাজনৈতিক মহলে একক আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করেন লিয়াকত হোসেন খোকা।
পরবর্তীতে একাদশ সংসদ নির্বাচন চলে আসলে ফের মহাজোট থেকে মনোনয়ন পেয়ে যান খোকা। তখন এই ফোরামকে ব্যবহার করেই খোকা একাদশ সংসদ নির্বাচনের বৈতরনী পার করেন খোকা। কিন্তু একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর এই ফোরামের ভিতরে মনমালিন্য তৈরী হলে ফোরামটি ভেঙে পড়ে।
কিন্তু দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন উন্নায়নের বাণী শোনালেও সেই বাণী অনেকটা বন্ধ হয়ে যায় একাদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর। তারপর সোনারগাঁতে জাতীয় পার্টির রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত করতে অনেকটা ব্যস্ত হয়ে পড়েন খোকা। তখন সোনারগাঁতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানকে নিয়ে এসে সম্মেলন করে সোনারগাঁ উপজেলা জাতীয় পার্টির কমিটি গঠন করেন।
পরবর্তীতে ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে মামুনুল হক কান্ডে তার রাজনৈতিক কর্মীরা মামলা খায়; তারপর থেকে সোনারগাঁয়ের রাজনীতিতে অনেকটা নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়েন খোকা। পরবর্তীতে তার কর্মীদের মামলা থেকে ফিরিয়ে নিয়ে এনে সোনরাগাঁয়ের রাজনীতিতে সংক্রিয় হোন।
সংক্রিয় হয়ে ইউনিয়ন নির্বাচনে, বিভিন্ন ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে জাতীয় পার্টির প্রার্থী দেন খোকা। যেখানে যেখানে তার অনুগত আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিল না সেখানেই তিনি জাতীয় পার্টির প্রার্থী দিতে থাকেন এবং সেই প্রার্থীরা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় মাধ্যমে ফের সফলতা পেয়ে যান খোকা।
এরপর ফের সোনারগাঁতে আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির নির্বাচিত চেয়ারম্যানদেরকে নিয়ে গোপন জনপ্রতিনিধি ঐক্য গড়ে তুলেন যেটা এত দিন প্রকাশ পায়নি। এটা পুরোপুরি প্রকাশ পায় গত ১৭ অক্টোবরের অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ নির্বাচনে।
সোনারগাঁয়ে জেলা পরিষদের সাধারণ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন লিয়াকত হোসনে খোকার সর্মথনে জাতীয় পার্টি থেকে প্রার্থী হন নাঈম ইকবাল এবং আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী হন মাসুম। কিন্তু সোনারগাঁতে ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯ জন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান ১ জন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান থাকা সত্ত্বেও জয়ী হোন জাতীয় পার্টি থেকে মনোনীত প্রার্থী নাঈম ইকবাল পরাজয় হয় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর।
এতেই প্রমাণিত হয় সে আবারও গোপনীয়তা বজায় রেখে কৌশলে জনপ্রতিনিধি ঐক্য ফোরাম তৈরী করেছে। জেলা পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থীর পরাজয়ের পর আবার এই ফোরামের কথা উঠে আসে।
যেটা জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে চেয়ারম্যানদের স্পন্সরে করা টি-শার্টে চেয়ারম্যান ফোরামের নাম দিয়ে আবারও সোনারগাঁয়ে জাতীয় পার্টি মার্কা জনপ্রতিনিধি ফোরামের জানান দেয়। এতে করে বুঝা যায়, সোনারগাঁয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও ছড়ি ঘোরেবেন খোকা। এন.এইচ/জেসি


