Logo
Logo
×

রাজনীতি

রাজপথকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দলগুলো

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২২, ০৬:২৫ পিএম

রাজপথকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দলগুলো
Swapno


# ১ সেপ্টেম্বরের পর থেকেই অন্য বিএনপিকে দেখা যাচ্ছে

#  বিএনপিকে ঠেকানোর ঘোষণা দিয়েছে শামীম ওসমান

# পর্দার অন্তরালে থাকাকেই শ্রেয় মনে করছে জাপা

 

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তাপ পরিলক্ষিত হচ্ছে। গত ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত র‌্যালিতে যুবদল নেতা শাওনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে বিএনপি। এর পরপর মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটি দেয়া হয়েছে।

 

 

এড. সাখাওয়াত হোসেন খান এবং এড.আবু আল ইউসুফ টিপুকে আহবায়ক ও সদস্য সচিব করে কমিটি দেয়া হয়। বিভক্তি থাকলেও এখন পর্যন্ত রাজপথেই নানা কর্মসূচিতে বিভক্তভাবেই অতীতের যে কোন সময়ের চাইতে সরব লক্ষ্য করা গেছে। অপরদিকে  নানা অভিযোগ থাকলেও ঘটা করে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন করে আবদুল হাই ও ভিপি বাদলকেই বহাল রাখা হয়েছে তাদের স্বপদে।

 

 

তৃণমূলে আওয়ামী লীগের কর্মীদের মধ্যে এই সম্মেলন নিয়ে যে উচ্ছাস পরিলক্ষিত হয়েছিল সম্মেলনের পর তা মিলিয়ে যেতে সময় লাগেনি। দ্বন্দ্ব, বৈরিতা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে নানা সময় একত্রিত হতে দেখা গেছে। তবে আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতাদের ছাপিয়ে বিএনপিকে টার্গেট করে বক্তব্য রাখছেন এমপি শামীম ওসমান।

 

 

তিনি বিএনপির মহাসমাবেশগুলো নিয়েও কটাক্ষ করে উপস্থাপন করেছেন। এবং বিএনপি নেতারাও শামীম ওসমানকে নিয়ে নানারূপ বক্তব্য দিচ্ছেন। যার ফলে রাজনৈতিক মাঠ বর্তমানে উত্তপ্ত রয়েছে। তবে নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টির তৎপরতা তেমন লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা। যদিও নারায়ণগঞ্জ-৫ এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনটি আওয়ামী লীগের শরীক দল হিসেবে থাকার দরুণ ছাড় পেয়েছিল।

 

 

তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এখনও মাঠ পর্যায়ের তৎপরতা নারায়ণগঞ্জে লক্ষ্য করা যায়নি। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা জাতীয় পার্টির কার্যক্রম নিয়ে নেতা-কর্মীদের কোন দিকনির্দেশনা না দেয়াতেই পর্দার অন্তরালেই রয়ে গেছে জাতীয় পার্টি।  

 

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জেলা ও মহানগর বিএনপির কর্মসূচিতে সাম্প্রতিক যে কোন সময়ের চেয়ে অনেক বেশি কর্মী জড়ো হচ্ছেন। তাছাড়া ঝটিকা মিছিল, প্রতিবাদ, মানববন্ধনসহ কেন্দ্রীয় সকল কর্মসূচিগুলোতে তৃণমূল চাঙা হয়ে পড়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ব্যতিত আওয়ামী লীগের যতগুলো কর্মীসভা হয়েছে তা কেবল সাংসদ শামীম ওসমানের তত্ত্বাবধানেই হয়েছে।

 

 

এসব কর্মী সভা জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে সাফল্যমণ্ডিত করতেই আয়োজন করা হয়েছিলো। তবে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে শামীম ওসমান আসছেন না নিজেই নিশ্চিত করলে সম্মেলনে নেতা-কর্মীদের অনাগ্রহে উপস্থিতি কম নিয়েও রাজনৈতিক পাড়ায় রাজনীতি হয়েছে।

 

 

এতে করে বোদ্ধা মহল বলছেন, দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগেই আসলে নির্বাচনী ঢামাঢোল বেজে গেছে। আগামী সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের কার্যক্রম নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে। তবে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এখনো তাদের গন্তব্য নিশ্চিত করতে পারেনি বলেই নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টির যারা রয়েছেন তারা রাজপথে নামতে পারছেনা। যে দুইজন সাংসদ এখানে রয়েছেন তারাও আগামী নির্বাচনে তাদের সম্ভাব্য রোডম্যাপ নিশ্চিত হয়েই মাঠে নামবেন বলে মনে করছে তৃণমূল।

 

 

সূত্র জানিয়েছে, মহানগর বিএনপির সভাপতি হিসেবে সাবেক সাংসদ আবুল কালাম ও  সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল থাকা অবস্থায় মহানগর বিএনপির দৈন্যতার চিত্রটিই বারবার ফুটে উঠেছিল। তবে সাখাওয়াত ও টিপুকে দায়িত্ব দেয়ার পর মহানগর বিএনপির রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে।

 

 

বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা তৈমূর আলম খন্দকার, তার ছোট ভাই যুবদল নেতা মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ এবং পদবঞ্চিত এবং পদত্যাগকারীরাও বিএনপিতে সক্রিয় কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। এদিকে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মনিরুল ইসলাম রবি এবং সদস্য সচিব মামুন মাহমুদের নেতৃত্বেও কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে তৃণমূল।

 

 

তবে সম্প্রতি কার্যক্রমে গতি বাড়াতে জেলা বিএনপিতে সাবেক সাংসদ মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনকে আহবায়ক এবং মাসুকুল ইসলাম রাজিবকে সদস্য সচিব হিসেবে চাইছে তৃণমূল। এই কাতারে রূপগঞ্জের বিএনপি নেতা মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূইয়াকেও জেলা বিএনপির নেতৃত্বে দেখার আহবান জানাচ্ছে তৃণমূল।

 

 

সোনারগাঁয়ে আজহারুল ইসলাম মান্নানও তার কার্যক্রম বাড়িয়ে দিয়েছেন। তবে আড়াইহাজারের বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম আজাদের তৎপরতা হ্রাস পেয়ে; সেখানে সাবেক সাংসদ আতাউর রহমান আঙ্গুরের কার্যক্রম বেড়েছে যা মাঠ পর্যায়ে বর্তমানে লক্ষ করা যাচ্ছে। বিএনপি যে নারায়ণগঞ্জে রাজপথ দখলের চেষ্টায় মরিয়া তা ইতিমধ্যে পরিষ্কার।

 

 

এদিকে নারায়ণগঞ্জে জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে শামীম ওসমান আসলে আরো গতিশীল হতো আওয়ামী লীগ বলছে তৃণমূল। আবদুল হাই ও ভিপি বাদল সম্মেলনের এক সপ্তাহের মধ্যেই নিজেদের অবস্থানে বিভক্তি পরিষ্কার করেছে, এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দল। জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়েও যে বিভক্তি আরো বাড়বে তা সহজেই অনুমেয়।

 

 

এদিকে মহানগর আওয়ামী লীগ এখন পর্যন্ত সিটি এলাকার কোন ওয়ার্ড কমিটিই সম্পন্ন করতে পারেনি। মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহার বিভক্তিই অনেকটা ঘুচে গেলেও  অতীতের ব্যর্থতার দরুণ তাদের দুইজনকেই চাচ্ছেনা মহানগর আওয়ামী লীগ।

 

 

আগামীতে রাজপথে বিএনপিক মোকাবিলা করতে মহানগর আওয়ামী লীগ যাতে চাঙা থাকে সেই দিকটায় মনোযোগী হতে পরামর্শ দিচ্ছে রাজনৈতিক বোদ্ধারা। এক্ষেত্রে নেতৃত্বগুন সম্পন্ন কর্মীবান্ধব আওয়ামীলীগ নেতারাই যাতে মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে থাকেন সেই কথাই বলছে তৃণমূল।

 

 

না হলে বিএনপিকে মোকাবেলা করতে মুখে ছড়ানো বুলি ছাড়া তেমন কার্যক্রম পদক্ষেপ নাও আসতে পারে। শামীম ওসমানের যে কর্মীবাহিনী রয়েছে তাও যেন এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ কাজে লাগাতে পারে; সেই পরামর্শ দিচ্ছে রাজনৈতিক বোদ্ধারা।

 

 

এদিকে জাতীয় পার্টির নীরব ভূমিকাকে শক্তি হিসেবে কাজে লাগিয়ে আগামী নির্বাচনে জেলার সবগুলো আসনে নিজেদের প্রার্থী দিতে পারে আওয়ামী লীগ। সেখানে আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপিকে কিভাবে মোকাবেলা করবে সেই রোডম্যাপও নিশ্চিত করতে হবে জাপাকে।

 

 

এক্ষেত্রে বর্তমান জোট আওয়ামী লীগেই থাকছে জাপা না কি ভিন্ন কোন সিদ্ধান্ত নেবে সেটির উপর বর্তমান দুই এমপির ভবিষ্যত। তবে এখন পর্যন্ত দেশের রাজনীতির পরিস্থিতি বুঝে পর্দার অন্তরালে থাকাকেই শ্রেয় মনে করছে জাপা। জাপার সিদ্ধান্ত বর্তমান দুই এমপি কীভাবে সামলাবেন তাও এখন বড় প্রশ্ন। বড় এই তিনদল এসব চিন্তাভাবনা নিয়েই রাজপথকেন্দ্রিক রয়েছে সারাদেশে। তবে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ রাজপথে নারায়ণগঞ্জে থাকলেও নীরব জাপা। এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন