Logo
Logo
×

রাজনীতি

‘খেলা হবে’র জবাবে ‘গিয়াসউদ্দিন আইলো’ স্লোগান

Icon

পরিচয় প্রকাশ গুপ্ত

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২২, ১২:৩২ পিএম

‘খেলা হবে’র জবাবে ‘গিয়াসউদ্দিন আইলো’ স্লোগান
Swapno

 

# শামীম ওসমানের ‘খেলা হবে’র জবাব দেয়া হচ্ছে


সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ কর্মীদের প্রতিপক্ষ, বিএনপি কর্মীদের প্রতি এমপি শামীম ওসমান উদ্ভাবিত ‘খেলা হবে’ সংলাপ ছুড়তে দেখা গেছে। তবে তাদেরও শুনতে হয়েছে বিএনপি কর্মীদের ছুঁড়ে দেয়া পাল্টা ‘গিয়াসউদ্দিন আইলো’ সংলাপ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির ‘গিয়াসউদ্দিন আইলো’ সংলাপটি ক্রীড়াঙ্গন থেকে আমদানী করা।

 

 

রাজনৈতিক অঙ্গনে আওয়ামী লীগ- বিএনপিতে যে বৈরীতা বিরাজমান, তেমনি বৈরীতা রয়েছে ক্রীড়াঙ্গনে, বিশেষ করে ফুটবল অঙ্গনে আবাহনী-মোহমেডান এ দুটি ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের  মধ্যে। বর্তমানে ক্রিকেট খেলা জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকলেও এক সময় ফুটবলই ছিল জনপ্রিয়তার শীর্ষে। ফুটবল খেলা নিয়ে এক সময় এ দেশের যুব ও তরুন সমাজ আবেগ-উত্তেজনায় উদ্বেলিত হতো।

 

 

ফুটবল খেলা নিয়ে দু’পক্ষের সমর্থকদের মাঝে মারামারি ছিল, একটি নিত্য নৈমত্যিক ঘটনা। উপন্যাসিক শরৎচন্দ্রের ‘শ্রীকান্ত’ উপন্যাসের দুটি কালজয়ী চর্রিত্র শ্রীকান্ত ও ইন্দ্রনাথের মধ্যে প্রথম পরিচয় হয়েছিল ফুটবল মাঠের মারামারির ঘটনায়। আমাদের দেশে পাকিস্তান আমলে অর্থাৎ পূর্ব পাকিস্তানে ফুটবল নিয়ে চির প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব ছিল, মোহমেডান ও ওয়ান্ডার্স।

 

 

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ওয়ান্ডার্সের জায়গা দখল করে আবাহনী। স্বাধীন বাংলাদেশে আবাহনী ও মোহমেডানের পতাকা নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে যুব সমাজ। অতীতে এ দুটি দলের খেলা থাকলেই সেদিন আকাশে উড্ডীন হতো মোহমেডানের সাদা-কালো ও আবাহনীর আকাশী রংয়ের শত শত পতাকা। শুধু ঢাকা-নারায়ণগঞ্জে নয়, প্রত্যন্ত গ্রামেও দেখা যেতো এ পতাকা উড়তে।

 

 

দু’দলের এ দ্বন্দ্ব-মধুর বৈরীতার কারণে ঢাকা স্টেডিয়ামের গ্যালারীও বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। স্টেডিয়ামের উত্তরের গ্যালারিটি ছিল মোহমেডান সমর্থকদের এবং পশ্চিম গ্যালারিটি ছিল আবাহনী সমর্থকদের দখলে। পূর্বের গ্যালারিটি ছিল, নিরপেক্ষ জোন। তবে, এ গ্যালারীতে বসলে সূর্য্য ডোবার আগ পর্যন্ত কপালে রোদ পড়তো।

 

 

তখন অবস্থা এমন ছিল যে, কোন গোবেচারা সমর্থক যদি ভুলক্রমে আবাহনী বা মোহমেডানের গ্যালারীতে ঢুকে পড়তো এবং নিজ দলের পক্ষে কোন প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করতো, তাহলে তাকে প্রতিপক্ষের সমর্থকদের হাতে চরম নাজেহাল হওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফিরতে হতো। দুটি গ্যলারী থেকেই নিজ দলের খেলোয়াড়দের উৎসাহ ও বাহবা দেয়া এবং প্রতিপক্ষকে দুয়ো দেয়া হতো।

 

 

নিজ দলের খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেয়া হতো হর্ষধ্বনি ও গ্যালারীতে শরীর আন্দোলিত করে ঢেউ তোলার মাধমে। আর দুয়ো দিতে নিত্য নতুন নানা কৌশল উদ্ভাবিত হতো। ১৯৭৯ সালের ফুটবল লীগে আবাহনী অপেক্ষাকৃত  দুর্বল দল ওয়ারীর কাছে হেরে যায়। আর যায় কোথা। সে বছর আবাহনীর গ্যালারীতে হর্ষধ্বনি হলেই মোহমেডান গ্যালারী থেকে এক সাথে তুলে ধরা হতো কয়েক ডজন ব্যানার, যাতে লেখা ছিল, ‘ওয়ারী আইলো’।

 

 

এবার শামীম ওসমান সমর্থকদের দুয়ো দিতে বিএনপি সমর্থকরা ‘গিয়াসউদ্দিস আইলো’ বলে সেই কৌশলটিই গ্রহণ করেছে। কারণ, অপরায়জেয় শামীম ওসমানকে ২০০১ সালে বিএনপি নেতা মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনই প্রথম পরাজয়ের তিক্তস্বাদ প্রদান করেন। শামীম ওসমানের জীবণে সে পরাজয় ছিল সুদূর প্রসারী।

 

 

সে পরাজয়ের পর থেকে শামীম ওসমান পরাজয়ের বৃত্তেই আটকে আছেন। জীবনে আর জয়ী হতে পারেননি। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি এমপি হলেও দুটি নির্বাচনই ছিল প্রহসনের নির্বাচন, যাতে প্রকৃত জয়ের আনন্দ নেই। এবার নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আবার শামীম ওসমানের সঙ্গে লড়তে গিয়াসউদ্দিনও প্রস্তুতি নিচ্ছেন, বলে সূত্রমতে জানা যায়। এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন