অর্থ সংগ্রহ নিয়ে যা বললেন বিএনপি নেতারা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২২, ০৫:৪৯ পিএম
প্রায় এক যুগের বেশি সময় ধরে ক্ষমতার বাহিরে অবস্থান করছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় না থাকার কারণে অনেক হামলা, মামলার মোকাবেলা করতে হয়েছে তাদের। তারা শান্তিপূর্ণভাবেও কোন সভা সমাবশে করতে সক্ষম হয়নি।
গত এক বছর যাবত বর্তমান সরকার দেশের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুত, গ্যাস ইত্যাদির জিনিসের মূল্যবৃদ্ধির ইস্যুতে তারা এখন মাঠে নেমেছেন। মাঠে সকল আন্দোলন সংগ্রামে তাদের দলের অনেকই পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারায়। এই ধরনের দিকগুলোকে সামনে রেখে তারা এখন সকল সংগ্রাম আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঠ গরম রেখেছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিএনপি ৯টি বিভাগে গণসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ১২ অক্টোবর চট্টগ্রাম, ১৫ অক্টোবর ময়মনসিংহ, ২২ অক্টোবর খুলনা, ২৯ অক্টোবর রংপুর, ৫ নভেম্বর বরিশাল, ১২ নভেম্বর ফরিদপুর, ১৯ নভেম্বর সিলেট, ২৬ নভেম্বর কুমিল্লা, ৩ ডিসেম্বর রাজশাহী এবং শেষ সমাবেশটি হবে আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে ওই সমাবেশকে ‘মহাসমাবেশ’ ঘোষণা দিয়েছে দলটি।
ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনা, রংপুর বিভাগীয় সমাবেশে শেষ হয়েছে। সকল সমাবেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের ব্যাপকভাবে অংশ গ্রহণ হতে দেখা দিয়েছে। গত ২ নভেম্বর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশগুলোতে ‘বিদেশি একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার’ পক্ষ থেকে অর্থায়ন করা হচ্ছে শুনতে পেয়েছি।
তিনি আরো বলেন, ‘আমি তো আগেও বলেছি, বিএনপি এই বিভাগীয় সমাবেশের নামে চাঁদাবাজির একটা বড় প্রকল্প নিয়েছে। তারা সমস্ত কালো টাকার মালিকদের কাছ থেকে টাকা কালেকশন করছে, ব্যবসায়ীদের বাধ্য করছে টাকা দেওয়ার জন্য।
যে গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে খালেদা জিয়া টাকা নিয়েছিলেন, সেই গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান সে দেশের আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে সেই কথা বলেছিলেন। সেই সংস্থার কাছ থেকে তারা এবারও অর্থ পেয়েছে বলে আমি শুনতে পেয়েছি।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবি যুগের চিন্তাকে বলেন, তথ্যমন্ত্রী সাহেব যে ধরণের কথা বলেছেন। এ বিষয়ে আমার বক্তব্যে দেওয়ার মত কিছু নেই শুধু বলতে চাই। চাঁদাবাজি কখন করা যায় যখন একটা লোক দলীয় ক্ষমতায় থাকে।
তাহলে আমাকে ব্যবসায় বেশি মুনাফা হয়েছে আমাদের কিছু দিল। কিন্তু এখনতো আমরা বিরোধী দল আমাদের হাতে এখন কিছু নেই। কিন্তু তারা বলছেন আমাদের নাকি বিদেশের থেকে অর্থয়ান করা হচ্ছে। এই ধরণের বক্তব্যে হাস্যকর।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মামুন মাহমুদ যুগের চিন্তাকে বলেন, দেশের তথ্যমন্ত্রীতো হাছান মাহমুদ। তাই উনার কথা হাস্যকর তার ব্যাপারে বাংলাদেশের পুরো জাতি জানেন। এই ধরনের কথা বলার কারণে উনি হাস্যরসের পাত্রতে পরিনত হয়েছে।
যারা এই ধরনের অভিযোগ করে তারা এগুলো করে। বিএনপির বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত এই ধরনের কোন অভিযোগ আমরা শুনতে পাইনি। এই সকল বড় বড় বিভাগীয় সমাবেশগুলো বিএনপির সকল নেতাকর্মীদের পকেটের টাকায় করা। তাই আমরা বলতে চাই এই ধরনের অভিযোগের চান্স আমাদের পাওয়ার কথা না।
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান যুগের চিন্তাকে বলেন, বিএনপি জনগণের দল বিএনপি কোন বিদেশী প্রভুদের উপরে ভর করে কোন কাজ করে না। তথ্যমন্ত্রী যে গোয়েন্দা সংস্থার কথা বলেছেন। এই ধরণের কথা বলে তারা ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করার একটি অপচেষ্টা। বাংলাদেশে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, খুন, গুম এই অপশাসন চালাচ্ছে এই হাছান মাহমুদের সরকার।
তারা এই চাঁদাবাজির সাথে পরিচিত তারা এই জনগণের উপরে যে চাঁদাবাজি করে দেশটাকে আজকে এই দূর্ভিখের পর্যায়ে ফেলে নিয়ে এসেছে। সুতরাং তখ্যমন্ত্রীর মুখে এই ধরনের বক্তব্যে অশোভা পায়। তারা সব সময় মিথ্যা প্রচারনা চালানোর জন্য বসে থাকে।
প্রতিদিন বিএনপি এবং বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য উনি সব সময় বসে থাকে। তার এই ধরনের বক্তব্যেকে বাংলাদেশের মানুষ কোন গুরুত্ব দেয় না। সে যে অসত্য কথা বলে এটা জনগণ বুঝে ফেলেছে।
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু যুগের চিন্তাকে বলেন, প্রথমে আমি বলতে চাই এই তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেওয়া উচিত। উনি যেহেতু এই ধরনের কথা বলছেন নিশ্চুই যখন গোয়েন্দা সংস্থা টাকা দিয়েছে তখন তিনি সামনে ছিলেন।
আমি বলতে চাই যে অপরাধ করে আর যে সামনে দেখে সবাই সমান অপরাধী অতএব তাকে রিমান্ডে নিয়ে তার থেকে তথ্য বেড় করা উচিত। যে কোন সংস্থা টাকা দিয়েছে কোন কালোবাজারীরা দিয়েছে এবং কোন বিএনপির নেতাকর্মীরা নিয়েছে।
হাছান মাহমুদ নিজেই একজন তথ্য সন্ত্রাসী, মিথ্যাবাদি, চাঁদাবাজ। এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতা চুক্ত হবে এবং তার মন্ত্রীপদ চলে যেতে পারে সেই জন্য। সেই কারণে তার নেত্রীকে খুশি করানোর জন্য সে এই মিথ্যা কথা বলে এবং রাজনৈতিকভাবে তার পায়ের তলে মাটি নেই।
আমি ৩৮ বছর ধরে রাজনীতি করি হাছান মাহমুদ নামে ছিল আমার জানা নেই। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে শুনি তার নাম। এর আগে তার নাম গন্ধ ছিল না। আমি তাকে বলতে চাই উনি একটি চাপাবাজ মিথ্যাবাদি এবং তথ্যসন্ত্রাসী।
এ বিষয়ে মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি শাহেদ আহম্মেদ যুগের চিন্তাকে বলেন, আসলে তথ্যমন্ত্রী একজন বিনোদনের পাত্র। তাকে তথ্যমন্ত্রী না দিয়ে বিনোদনমন্ত্রী দেওয়া দরকার ছিল। যখন দেশে কোন অস্থিতিশীল অবস্থা হয়।
তখন বর্তমান অবৈধ সরকারের কিছু মন্ত্রী আছে তারা বিনোদন মূলক বক্তব্যে দেয়। তাহলে আমাদের একটাই কথা যদি বিএনপি বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার থেকে টাকা নিয়ে আসতে পারে তাহলে সরকারের থেকে লাভ কি। যদি বিএনপি চাঁদাবাজি করে থাকে তাহলে উনারা কিছু করতে পারছেন না কেন। বাস্তবতা হল উনারদের মনে ভয় ঢুকে গেছে। দেশের মানুষের জগরণে দেশের মানুষের বিস্ফোরণে।


