হাই-বাদল কি দায়িত্ব পাওয়ার মর্যাদা রাখতে পারছেন??
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২২, ০৫:৫৩ পিএম
# সম্মেলনে বহাল ঘোষণার পর থেকেই বিভক্ত তারা
দীর্ঘ ২৫ বছর বহু উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু সম্মেলনে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছিল কে হতে যাচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। টান টান উত্তেজনা বিরাজ করলেও সেই উত্তেজনা থেমে যায় কমিটি ঘোষণার সময় পূর্বের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকে বহাল রেখেই জেলা আওয়ামী লীগের নবগঠিত কমিটির ঘোষণা দেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
কিন্তু কমিটি ঘোষণার পূর্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সভাপতি আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক বাদলকে উদ্দেশ্যে করে তাদের পূর্বের কমিটি বাণিজ্যের কর্মকান্ড নিয়ে শাসান এবং পাশাপাশি তাদের সংশোধন হতে বলেন এতে তারা মাথাও নারায়।
তবে তৃণমূলের নেতারা দাবি করছে হাই-বাদলকে শাসিয়ে পূণরায় সংশোধন হওয়ার জন্যই ফের সুযোগ দেয়া হয়েছে। পূণরায় সংশোধন হওয়ার সুযোগ দিলেও তারা সংশোধন হতে পারছে না কমিটি ঘোষণা পর্যন্তই ছিল হাই-বাদলের একতাবদ্ধ সংশোধনমূলক আচরণ। কমিটি গঠনের সাপ্তাহ খানেক পরই গত ৩১ অক্টোবর হাই-বাদল আলাদা আলাদা ভাবে জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের নিয়ে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে দেখা যায়।
এছাড়া জেল হত্যা দিবসেও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের আলাদা আলাদা ব্যানারে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের পার্টি অফিসে দিবসটি পালন করেন। এত প্রতিয়মান হয় যে হাই-বাদলের ভিতরে কোন্দলের বিষয়টি আবারও প্রকাশ্যে চলে আসছে পাশাপাশি দলের সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশও সম্বনিত রাখতে ব্যর্থ হচ্ছেন হাই-বাদল। তাদের এসব কর্মকান্ড নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা সমালোচনা চলছে এবার কোন পথে নিয়ে যাচ্ছে জেলা আওয়ামী লীগকে হাই-বাদল।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ২৫ বছর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হলেও এই সম্মেলনে পূর্বের কমিটিই বহাল রাখা হয়েছে। কিন্তু কমিটি গঠনের পূর্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাই এবং সাধারণ সম্পাদক বাদলকে উদ্দেশ্য করে তাদের দ্বারা নানা রকম কর্মকান্ড নিয়ে সংশোধন হওয়ার আল্টিমেটাম দেন।
গত ২৩ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, দলের ভেতরে কোন্দল সৃষ্টি করা যাবে না। দল ভারী করার জন্য আপনারা খারাপ লোক, সুবিধাবাদী লোকজনকে ভেড়াবেন না। ‘ঘরের ভেতরে ঘর, মশারির ভেতরে মশারি টানাবেন না।’ কমিটিকে ঘিরে পদ বাণিজ্যের কথা যেন না শুনি।
ডেকে ডেকে পকেটের লোক বসাবেন তাও চলবে না। এবার তদন্ত করে খোঁজ খবর নেব। পয়সা খেয়ে কমিটি করা লোকদের আমাদের প্রয়োজন নেই। ভালো হয়ে যান, নিজেদের সংশোধন করুন। কমিটি একটা হবে। নতুন নেতা আসতে দেন। ‘বসন্তের কোকিল আছে দুঃসময়ের লোক নেই।’ কিছু মানুষ টাকা ছাড়া কিছু বোঝে না। আর কত টাকা দরকার?
মানুষ সব লক্ষ্য করে। কে কী করে তা শেখ হাসিনাও জানে। তখন ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্য শুনে মাথা নারতে থাকেন হাই-বাদল। পরবর্তীতে বক্তব্য শেষে হাই-বাদলকে আবারও বহাল রেখে কমিটি ঘোষণা করেন ওবায়দুল কাদের। কিন্তু কমিটি গঠনের পর আবারও নিজেদের মধ্যে কোন্দলের বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসে।
কমিটি গঠনের পর গত ৩১ অক্টাবর পৃথক পৃথক ভাবে হাই-বাদলকে নবগঠিত জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে দেখা যায়। এখানেই শেষ নয় ৩ অক্টোবর জেল হত্যা দিবস উপলক্ষ্যে নারায়গণঞ্জ আওয়ামী লীগের পার্টি অফিসে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের আলাদা আলাদা ব্যানারে জেলার নেতৃবৃন্দদের দিবসটি পালন করতে দেখা যায়।
এতে আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে হাই-বাদলের ব্যাক্তিগত কোন্দল। এর মাধ্যমে বুঝা যায় জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের আগেই জেলা আওয়ামী লীগ দুই ভাগে বিভক্ত করে ফেলেছে হাই-বাদল। তারা এখনো তাদের নিজেদের পূর্বের নির্দেশিত পথেই হাটছে। দলীয় সাধারণ সম্পাদক তাদেরকে সংশোধন হওয়ার নির্দেশনা দিলেও তারা নিজেদেরকে সংশোধন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। দলীয় সাধারণ সম্পাদক নির্দেশনা মোতাবেক দল পরিচালনায় ব্যত্যয় ঘটতে দেখা যাচ্ছে।
এতে করে জেলার তৃণমূলের নেতৃবৃন্দদের মনে প্রশ্ন জাগছে আবার হাই-বাদল জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকে কোন পথে ধাবিত করতে যাচ্ছে। পাশাপাশি তারা আবারও মন্তব্য করেন তাদেরকে সংশোধন হওয়ার জন্য দল আবারও তাদের সুযোগ দিয়েছে। এতে করে তারা দলের সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশনাকেও সম্বনত রাখতে ব্যর্থ হচ্ছেন। এন.এইচ/জেসি


