দুই চতুরে ধ্বংস জেলা স্বেচ্ছাসেবকদল
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২২, ০৫:২০ পিএম
# পদে থাকার জন্যই মরিয়া তারা
# নেতৃত্ব বিকাশে তারাই বড় অন্তরায়
নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলে শীর্ষ দুই পদে বর্তমানে নেতৃত্ব দিচ্ছে রূপগঞ্জের চতুর দুই নেতা হিসেবে পরিচিত সায়েম-মাহাবুব। সায়েম-মাহাবুবের কাদা ছোড়াছুঁড়ি আন্তঃকোন্দলে জেলা স্বেচ্ছাসেবকদল কয়েকটিভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এছাড়া সংগঠন পরিচালনায় চরম ব্যর্থতা রয়েছে সায়েম-মাহাবুবের।
এছাড়া দলীয় সভা সমাবেশ পৃথক পৃথকভাবে অংশগ্রহণ করতে দেখা গেলেও স্বেচ্ছাসেবকদলের দলীয় প্রোগ্রামে একত্রিত ভাবে উপস্থিত হতে দেখা যায়। স্বেচ্ছাসেবকদলের সংগঠনের প্রোগ্রামে সায়েম-মাহাবুব একত্রিত হলে প্রায়ই উত্তেজনা বিরাজ করে তাদের সমর্থকদের মধ্যে।
সংগঠনের প্রোগ্রামে শোডাউনের সময় প্রায়শই সায়েম-মাহাবুব সমর্থকদের মধ্যে মারমুখি আচরণ করতে দেখা যায়। ইতিমধ্যে জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের কমিটির মেয়াদউত্তীর্ণ হয়ে গেলেও কমিটি গঠনের কোন রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। কারণ তারা জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতৃত্বে আসতে আবারও কেন্দ্রে তদবির করছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৬ জুন নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আংশিক কমিটি গঠন করা হয় সেখানে সভাপতি করা হয় আনোয়ার সাদাত সায়েমকে সাধারণ সম্পাদক করা হয় মাহাবুব রহমানকে। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর ১৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়।
কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটির গঠন প্রক্রিয়ার পর থেকেই সভাপতি সায়েম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবের বিরোধের স্পষ্ট হয়ে উঠে আসে। তাদের বিরোধের কারণে জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলে প্রায় সময়ই বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতে দেখা যেত। পাশাপাশি সাংগঠনিকভাবে দূর্বল হয়ে পড়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবকদল।
এছাড়া পূর্ণাাঙ্গ কমিটির পর সোনারগাঁ রূপগঞ্জ উপজেলার কর্মীসভা হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন অজুহাতে তা করতে ব্যর্থ হয়েছেন দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। রূপগঞ্জে সভাপতি-সেক্রেটারি বাড়ি হওয়া সত্ত্বেও তারা নিজ এলাকার ভিতরে স্বেচ্ছাসেবকদলের কর্মী সভা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
শুধু তাই না সোনারগাঁও একাধিকবার কর্মীসভার আয়োজন করেও তা করতে পারেনি তারা। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে প্রশাসনকে দোষারোপ করে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মৌখিকভাবে জানান তারা। এতে তারা বিভিন্ন অজুহাত দেখাতে থাকে। এসব কোন কিছু না মূলত তাদেরকে নিজস্ব কোন্দলের কারণেই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় তারা স্বেচ্ছাসেবকদলের কর্মীসভা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ। পরবর্তীতে থানা কমিটিগুলো কেন্দ্রীয় নেতাদের মাধ্যমে অনুমোদন করাতে পারলেও প্রতিটি থানা কমিটিতে শীর্ষ দুই পদে তাদের নিজস্ব বলয়ের নেতা নিয়োগ দিয়েছেন। যার কারণে প্রতি থানার আহবায়ক বা সদস্য সচিব কেউ সায়েমের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবকদলের রাজনীতি করেন।
মাহাবুবের নেতৃত্বে রাজনীতি করেন থানা স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতারা। অনেক সময় থানার নেতারা সায়েম-মাহাবুবের নেতৃত্বে রাজনীতি করতে গিয়ে দুই নেতার সমর্থকের মধ্যে অনেক সময় সাংঘর্ষিক অবস্থার পরিস্থিতি হয়। যেটা ৩ নভেম্বর বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং তার সহ-ধর্মিনী ডা. জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
এই প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের বিক্ষোভ মিছিলের সময় ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবদলের আহবায়ক জাকির হোসেন মারমুখি হয়ে উঠেন। জাকির মূলত জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি সায়েমের নেতৃত্বে রাজনীতি করেন আর তিনি মারমুখি হন সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবের সমর্থকদের উপর যেটা মিছিল চলাকালীন সময়ে প্রকাশ্যে মিডিয়ার নজরে চলে আসে।
এছাড়া সায়েম-মাহাবুবকে আলাদা আলাদাভাবে রাজনীতি করার শেল্টার দিচ্ছেন রূপগঞ্জের দুই প্রভাবশালী নেতা। রূপগঞ্জের স্থানীয় নেতাদের সূত্রে জানা যায়, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি মূলত দিপু ভূইয়ার হাত ধরে রাজনীতি করেন এবং তার ইশারায় জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলকে পরিচালিত করেন।
অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী মনির বলয়ে রাজনীতি করেন আর কাজী মনিরের নির্দেশেই তার রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করেন। এছাড়া জেলা বিএনপিতে কালো শক্তি হিসেবে পরিচিত আড়াইহাজারের নজরুল ইসলাম আজাদের আশীবাদও সায়েম-মাহাবুবের মাথার উপর রয়েছে।
যার কারণে সায়েম-মাহাবুব বেপরোয়াভাবে জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের রাজনীতি পরিচারনা করছেন। ইতিমধ্যে জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের কমিটির মেয়াদউত্তীর্ণ হয়ে গেলেও কমিটি গঠনের কোন রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। কারণ তারা আবারও শীর্ষ পদে থাকতে মড়িয়া যার কারণে শোচ্চার হয়ে উঠেছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের নতুন নেতৃত্বে আসতে চাওয়া নেতারা।
কারণ সায়েম-মাহাবুব রূপগঞ্জ থানা বিএনপির আহবায়ক কমিটিতে যুগ্ম আহবায়ক পদে রয়েছেন। তাদের প্রশ্ন মূল দলে থেকে তারা কিভাবে তারা অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ পদে থাকার খায়েশ হয়। যার কারণে ইতিমধ্যেই রূপগঞ্জ থানা বিএনপির নেতারাসহ জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতারা সায়েম-মাহাবুবকে পদলোভী নেতা হিসেবে অখ্যায়িত করেছে। এন.এইচ/জেসি


