১০ তারিখে আমরা মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করব : সাখাওয়াত
মেহেদী হাসান
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২২, ০৬:৪৪ পিএম
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহবায়ক এড.সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, আজকে বাঙ্গালী জাতির ইতিহাসের একটি ঐতিহাসিক দিন। এই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিলো এই পশ্চিমা শাসন গোষ্ঠির বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক নয় মাস যুদ্ধের মাধ্যমে।
সেই ঐতিহাসিক স্বাধীনতা যুদ্ধে, যারা ২৫ শে মার্চ ঐ পশ্চিমা গোষ্ঠি সারা বাংলাদেশে নিরিহ মানুষের উপরে যেই ভাবে জাপিয়ে পরেছিলো, সেই সময় তত কালিন আওয়ামী লীগ যারা ঐ সময় এই নেতৃত্বের কথা বলে, তারা ঐ কেউ পুলিশের হাতে, পশ্চিমা শাসন গোষ্ঠির হাতে ধরা দিয়েছিলো, কেউ গাঁ ডাকা দিয়ে ছিলো।
জাতিকে দিক নির্দেশনার দেওয়ার মতো যে সময় কোন ব্যক্তি ছিলো না, সে দিন আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যিনি তত সময় চট্টগ্রামে কর্মরত ছিলেন একজন মেজর হিসেবে। সেদিন কালো ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়ে ছিলেন “আমি জিয়া বলছি এদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করা হলো ”।
সে দিন থেকে নয় মাস যুদ্ধের মাধ্যমে ত্রিশ লক্ষ মানুষের রক্তের বিনিময়ে, দু লাখ মা-বোনের ইজতের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন হয়ে ছিলো। স্বাধীন হওয়ার পরে এ দেশে যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় অতিষ্ঠিত হয়েছিলো, ঐ পশ্চিমা শাসন গোষ্ঠির বিরুদ্ধে যুদ্ধ হয়ে ছিলো এই দেশের মানুষের গণতন্ত্রের জন্য, মোটা ভাত, মোটা কাপড়ের জন্য।
কিন্তু ১৯৭৪ সালে এই আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ উপহার দিয়ে ছিলো, এ দেশে সেই বাসন্তীরা চালকরে লজ্জা নিবারন করেছিলো। ১৯৭৫ সালে ২৫ শে জানুয়ারি এই বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ এই দেশে সকল রাজনৈতিক দল নির্শিদ করা হয়েছিলো। সকল পত্র-পত্রিকা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিলো শুধু চারটি পত্রিকা বাদে এবং এদেশে একটি মাত্র দল গঠন করা হয়ে ছিলো তার নাম হলো বাকশাল।
সেই বাকশাল এই দেশে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে, এ দেশকে সেই বিদেশি প্রভুদের ইন্ধরে এই দেশকে একটি তলা বিহীন ঝুড়িতে পরিনত করেছিলো। ভারত ও রাশিয়া ইন্ধরে ঐ সময় জিয়াউর রহমানকে গ্রেফতার করে বন্দি করা হয়েছিলো, সে দিন এ দেশের মানুষ, সাধারণ মানুষ এই বিষয়টি মেনে নিতে পারে নাই। যার জন্য সেই ৭ই নভেম্বর সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিলো।
সেনা বাহিনীর সিপাহী ও পুলিশের সিপাহীরা মিলে সে দিন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ক্যান্টরমেন্ট থেকে মুক্ত করে এদেশের শাসন ক্ষমতা অতিস্থিত করে ছিলো। গতকাল সোমবার বিকেল ৪ টায় নগরীর মিশনপাড়াস্থ হোসিয়ারী সমিতি চত্বরে ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এড.সাখাওয়াত হোসেন খান এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, এই সিপাহী বিপ্লব যেই শিক্ষা দেন, সেই শিক্ষা হলো সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানোর শিক্ষা দেয়। আজকে অঘোষিত ভাবে বাকশাল তৈরী করা হয়ে ছিলো, এই বাকশালের কবল থেকে ঐ ৭ই নভেম্বর আমাদেরকে মুক্তি দিয়ে ছিলো। তাই নব্ব বাকশালের কবল থেকে আমাদেরকে মুক্ত হতে হবে। সেই মুক্তির জন্য একটাই পথ সেটা হলো আন্দোলন।
সেই আন্দোলনের জন্য সারা বাংলাদেশের মানুষ আজকে অর্ধিক। এই বর্তমান সরকার ১৫ বছর যাবৎ এই দেশের মানুষকে যে ভাবে সুশন করছে , এই অবস্থা থেকে আজকে মানুষ মুক্তি চায়। এদেশের মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, এদেশে একটি সুষ্ঠ নির্বাচন চায়।
তাই সেই নির্বাচন করতে হলে আমাদেরকে সেই ১৯৭৫ সালের মতো ৭ই নভেম্বরের মতো সিপাহী জনতাকে নিয়ে সারা বাংলাদেশে একটি তুর্বাল আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ১০ই ডিসেম্বর ঢাকাকে দখল করতে হবে এবং ঢাকাকে জনগণের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এদেশের জনগণ সেই ৭ই নভেম্বরের মতো একটি জনগনের সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে এই সরকারকে বার্ধ করা হবে।
সকলের প্রতি আমার অনুরুধ থাকবে আপনারা সবাই প্রস্ততি গ্রহন করুন ১০ তারিখে আমরা ঢাকাতে এদেশের মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করব ইনশাল্লাহ। এ সময় মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড.আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন ১৯৭৫ এর পর ৩রা নভেম্বর অর্ভ্যথনা মেজর জেনারেল খালেদ মোশারফকে করতে গিয়ে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান কে বন্দি করেছিলো হত্যার উদ্দেশ্য।
এই দিনে এদেশের সিপাহী জনতা জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করেছিলো। তাই জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস কে আমরা দেশর জনগণ ভুলতে পারিনা। শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিকরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে ইনশাল্লাহ।
এ সময় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মনির হোসেন খান, আনোয়ার হোসেন আনু, ফতেহ মোঃ রেজা রিপন, এম এইচ মামুন, মহানগর কমিটির সদস্য ডাঃ মজিবুর রহমান, মাসুদ রানা, মাহমুদুর রহমান, বরকত উল্লাহ, হাবিবুর রহমান মিঠু, মোঃ ফারুক হোসেন সহ প্রমুখ।


