Logo
Logo
×

রাজনীতি

বিলুপ্ত কমিটিগুলোর নেতৃত্ব দিবে কারা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২২, ০৭:০০ পিএম

বিলুপ্ত কমিটিগুলোর নেতৃত্ব দিবে কারা
Swapno


# এসব কমিটিগুলো গঠন হলে প্রাণ ফিরতে পারে মূলদলেও

# পুরোনারা আসলেও শৃঙ্খলা ফিরবে কমিটিগুলোতে
 

আগামী ১০ ডিসেম্বর সর্বাত্মক আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। এর আগে একের পর এক মূল দলের কমিটি এবং অঙ্গসংগঠনগুলোর কমিটি দিয়ে নেতা-কর্মীদের চাঙা করছে দলটি। অপরদিকে গত ২৩ অক্টোবর জেলা আওয়ামী লীগের পুরনো নেতৃত্ব বহাল রাখলেও এখনও স্থগিত মহানগর কমিটির সম্মেলন।

 

 

চলতি বছর সিটি নির্বাচনের আগে চারটি অঙ্গসংগঠনের কমিটি বিলুপ্ত করে দেয় আওয়ামী লীগ। নেতৃত্বে প্রতিযোগিতার দরুণ এসব অঙ্গসংগঠনে অনেক উঠতি নেতৃত্ব কমিটিতে আসার অপেক্ষায়। বিএনপির কর্মসূচিগুলোর বিপরীতে আওয়ামী লীগের শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করতে এসব কমিটিগুলো চাঙা করার বিকল্প নেই।

 

 

কিন্তু বিলুপ্ত কমিটিগুলোর নেতৃত্ব দিবে কারা এই প্রশ্ন আবার নতুন করে সামনে এসেছে। সূত্র বলছে, মহানগর আওয়ামী লীগের সহযোগী  অঙ্গসংগঠনের কমিটিগুলো প্রায় বছর খানেক ধরেই জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে। কারণ ২০২২ সালের জানুয়ারী মাসে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের সময় নারায়ণগঞ্জ মহানগরের বেশিরভাগ অঙ্গসংগঠনের কমিটি বিলুপ্ত হয়।

 

 

আর এই অঙ্গসংগঠনগুলোর অগ্রভাগই ছিল শামীম ওসমানের অনুসারীদের নেতৃত্ব। আর এসব অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব হারিয়ে শামীম ওসমানের অনুসারীরা দিশেহারা হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্র থেকে কয়েকটি অঙ্গসংগঠনের কমিটি গঠনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আবারও শীর্ষ পদে আসতে মরিয়া সেই অনুসারীরা। কিন্তু আগের মতো শীর্ষপদে আসতে গুরুর ইশারা ঠিকমতো না পেয়ে আরো দিশেহারা হয়ে উঠেছেন অনুসারীরা।

 

 

সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৮ জানুয়ারি  গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রলীগ শুধু মেয়াদোত্তীর্ণের বিষয়টি উল্লেখ করলেও নারায়গঞ্জে সিটি নির্বাচনে মহানগর ছাত্রলীগ নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করায় কমিটি বিলুপ্তির বিষয়টি ইঙ্গিত পাওয়া যায়। অপরদিকে ২০২২ সালের ১৬ জানুয়ারি স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ ও সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবুর নির্দেশক্রমে নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগ এবং এর অন্তর্গত সকল কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

 

 

২০২২ সালের ১৭ জানুয়ারি জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক কে এম আযম খসরু স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ওই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। দলীয় সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগে সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দিতেন হাবিবুর রহমান রিয়াদ এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নেতৃত্ব দিতেন হাসনান রহমান বিন্দু তারা দুজনই শামীম ওসমানের অনুসারী।

 

 

পাশাপাশি শামীম ওসমানের পুত্র অয়ন ওসমানের নির্দেশনায় তাদের পছন্দের কর্মী সমর্থকদের নিয়ে কমিটি গঠন করে মহানগর ছাত্রলীগকে নেতৃত্ব দিতেন রিয়াদ-বিন্দু। কিন্তু তারা মহানগর ছাত্রলীগের নেতৃত্ব থাকা অবস্থায় নৌকার পক্ষে কাজ না করায় পাশাপাশি কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

 

 

কিন্তু কমিটি বিলুপ্তির প্রায় এক বছর অতিবাহিত হতে চললেও তারা নতুন করে কোন সংগঠনের নেতৃত্বে আসার কোন আগ্রহ প্রকাশ করছে না। কারণ তারা গুরুর ইশারা ছাড়া নেতৃত্ব আসার কোন রকম ইচ্ছা প্রকাশ করেন না। কারণ ইতিমধ্যেই অনেকে বিবাহিত হওয়ায় ছাত্রলীগ না করলেও যুবলীগে আসার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে বেশ জোরেশোরে।

 

 

কিন্তু নেতার ইশারা না পাওয়ায় ওইভাবে অন্য সংগঠনে করার বিষয়টি স্পষ্ট করতে পারছে না। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের সময় নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের কমিটি বিলুপ্তি করা হয়।নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন সভাপতি জুয়েল হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন সাইফুদ্দিন দুলাল।

 

 

কিন্তু মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগে আবারও নেতৃত্ব আসতে ফের মরিয়া হয়ে উঠেছেন। কারণ কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের পক্ষ থেকে মহানগরের প্রতিটি ইউনিটে কমিটি গঠনের কাজ চলমান রয়েছে। যার কারণে অতি শীঘ্রই নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি গঠন হতে যাচ্ছে আর সেই লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাথে সমন্বয় করে জুয়েল হোসেন রাজনৈতিক সভা সমাবেশে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে থেকে ব্যাপক  সক্রিয়তা দেখাচ্ছে।

 

 

কিন্তু সূত্রে জানা গেছে মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের শীর্ষ পদে আসতে নেতার ইশারা পাননি এখনো জুয়েল। এছাড়া মহানগর নতুন কমিটিতে আসীন হতে পারে যুবলীগ পরিচয়দারী এক নেতা যাকে কমিটিতে অর্ন্তভুক্ত করার জন্য নেতার ইশারা রয়েছে।  জুয়েল হোসেন এখনো নেতার ইশারা না পেয়ে দিশেহারা হয়ে গেছেন।

 

 

কারণ স্বেচ্ছাসেবকলীগে জুয়েলের ফের এত দিনের সক্রিয়তা ম্লান হতে চলছে। এছাড়া ১৭ জানুয়ারি জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক কে এম আযম খসরু স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিকলীগে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন আলমগীল কবীর বকুল এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কামরুল ইসলাম মুন্না দায়িত্ব পালন করছিলেন।

 

 

আগের কমিটির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক উভয়ই শামীম ওসমানের অনুসারী। কিন্তু গত সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলার বাইরে কাজ করায় তাদের স্বেচ্ছাসেবকলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে কেন্দ্র। জাতীয় শ্রমিকলীগের কেন্দ্র থেকে কমিটি গঠনের জন্য ফের পদক্ষেপ নেয়ার গুঞ্জন উঠলেও এখনো নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিকলীগের শীর্ষ পদে আসতে আগ্রহ প্রকাশ করেনি।

 

 

পূর্বের কমিটির সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম মুন্না আবার মহানগর শ্রমিকলীগের শীর্ষ পদে আসার আলোচনা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু মুন্নার রাজনৈতিক অভিভাবক শামীম ওসমানের ইশারা না পাওয়ায় এখনো বিষয়টি খোলাশা হচ্ছে না। যার কারণে নেতার ইশারা পেতে শ্রমিকলীগের ব্যানারে ব্যাপক সক্রিয়তা দেখাচ্ছে মুন্না। এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন