আ.লীগে স্থবিরতা কিন্তু বিএনপিতে তৎপরতা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১০ নভেম্বর ২০২২, ০২:২৮ পিএম
# বিএনপি নেতারা মামলাকে ভয় পায় না: সাখাওয়াত
# যুবলীগই এখন সবচাইতে সক্রিয়
আওয়ামী লীগে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, আর বিএনপিতে মামলার ভয়ের ফলে দুইটি দলের তৃণমূলে প্রকৃত অর্থে রাজনীতি নেই; আছে সংঘাত আর ভয়। যদিও দুইটি দলই ২০২৩ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলকে চাঙা করতে মাঠে নামার কথা বলছে। তবে ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা মহানগর বিএনপি সভা সমাবেশের মাধ্যমে জেগে উঠেছে।
অপরদিক জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা ঝিমিয়ে আছে বলে মনে করেন খোদ দলীয় নেতারা। গত ২৩ অক্টোবর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ক্ষমতাসীন দল জেলা আওয়ামী লীগ বিভক্ত হয়ে আছে। দলীয় কর্মসূচি গুলো ক্ষমতাসীন দলের জেলা সভাপতি ও সেক্রেটারি নেতৃত্বে পৃথকভাবে পালন করে আসছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৩ নভেম্বর জেল হত্যা দিবসে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সেক্রেটারি ভিপি বাদল আলাদা ভাবে পৃথক ভাবে কর্মসূচি পালন করেন। সকালে কর্মসূচি পালন করেন ক্ষমতাসীন দলের জেলার সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদল; অপরদিকে একই দিনে বিকেলে জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে আব্দুল হাইয়ের সভাপতিত্বে দোয়া ও আলোচনা সভা করা হয়।
তার আগে এই দুই নেতা জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহামনের স্মৃতিতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনেও তারা পৃথকভাবে ফুলেল শ্রদ্ধা প্রদান করেন। এখানেও তারা যে বিভক্ত, তা তাদের কর্মসূচির মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছেন।
অপরদিকে মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন স্থগিত হওয়ায় মহানগর আওয়ামীলীগের স্থবিরতা রয়েছে। তাছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের পর থেকে নেতারা ঝিমিয়ে আছেন বলে অভিমত রাজনৈতিক বোদ্ধা মহল। যদিও সম্মেলনকে কেন্দ্র করে গত মাসে দুয়েক ধরে শামীম ওসমানের নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন দলের দক্ষিণ বলয়ের আওয়ামী লীগের নেতারা জাগ্রত হয়ে উঠেছিলেন।
রাজনৈতিক বোদ্ধা মহলের মতে, করোনার কারণে দলের মাঠ পর্যায়ে যে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে নির্বাচনের এক বছর আগেই কাটিয়ে ওঠার সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী লীগের দলীয় হাই কমান্ড। অন্যদিকে বিএনপির বিভন্ন পর্যায়ের নেতারা তৃণমূলে সংগঠন সক্রিয় করতে জেলায় জেলায় তৃণমূলে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ শাওন হত্যা এবং নানা ইস্যুতে প্রতিবাদ সভা করে নেতা কর্মীদের জাগ্রত করে তুলেছেন।
স্থানীয় ইউপি নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় দলীয়ভাবে এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একক আধিপত্য থাকলেও প্রায় প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদেই অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকট হয়েছে। এর একমাত্র কারণ বিএনপি নির্বাচনে না থাকায় সহজেই ইউপি চেয়ারম্যান হওয়ার সুযোগ তাদের কেউই হাতছাড়া করতে চায় নাই।
রাজনৈতিক বিষশ্লেকদের মতে, গত বছর পর্যন্ত বিএনপির নেতারা মামলায় জর্জরিত হয়ে বেশিরভাগ সময় কাটাতেন আদালত পাড়ায়। বিএনপির এক একজন নেতা একাধিক মামলার আসামী হয়ে হাজিরা দিতে এসে গত বছর পর্যন্ত তারা আদালতে সময় পার করতেন।
তবে এই বছরের শুরুতে বিএনপি নানা ইস্যুতে শহরে চাষাড়ায় একাধিক সভা সমাবেশ করে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছেন। সেই সাথে কেন্দ্রীয় নেতারা এসে এখান থেকে ঘন্টা বাজানোর হুংকার দিয়েছেন। এমনকি সরকার পতনের ডাক এখান থেকে শুরু হবে বলে জানান, জেলা মহানগরের বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ক্ষতাসীন দলে নানা গ্রুপিং, কোন্দল আছে। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কোন্দল প্রকট হয়। তার কথা, দলে এখন অনেক নেতা। সবাই জনপ্রতিনিধি হতে চায়। বিভিন্ন এলাকায় অনেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছে। আর এজন্য অনেকের কপাল পুড়েছে, দল থেকে বহিস্কার হয়েছে।
তাছাড়া অনেক দিন ধরে দল ক্ষমতায় থাকায় স্বার্থের দ্বন্দ্বে নানা গ্রুপ ও উপদল হয়েছে। তবে তাদের দাবি, এরপরও তৃণমূলে দল চাঙা আছে। উপজেলা পর্যায়ে মূলত নানা প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারি, নানা উন্নয়নমূলক কাজকে কেন্দ্র করেই আওয়ামী লীগে বিভক্তি।
স্থানীয় পর্যায়ে অধিপত্য ধরে রাখতেও জেলা এবং কেন্দ্রীয় নেতারা এই গ্রুপিং-এ জড়িয়ে পড়ছেন। ফলে বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালন, ফুল দেয়া নিয়ে বিভক্তি, টেন্ডার এসব নিয়ে সংঘাত সংঘর্ষ লেগেই আছে । কেন্দ্রীয় নির্দেশেও তা বন্ধ হচ্ছেনা। অপরদিকে বিএনপি নানা কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের চাঙা করার চেষ্টা করছে।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মামুন মাহমুদ জানান, ‘বিএনপির নেতারা মামলা হামলা খাওয়ার পরেও রাজপথ ছাড়ে নাই। এলাকায়ও দলের নেতা-কর্মীরা অনেকেই মামলার আসামি। আর মিছিল মিটিং করলেই গায়েবি মামলা, রাজনীতি করা এখন কঠিন। তারপরও দলের নেতা কর্মীরা শহীদ জিয়ার আদর্শে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বিএনপির থানা এবং জেলা পর্যায়ের অনেক নেতাই এখন আর এলাকায় যান না। তারা ঢাকা অথবা বড় বড় শহরে থাকেন। সেরকমই একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘দুই কারণে এলাকায় যাই না, প্রথম কারণ মামলা। আর দ্বিতীয়ত, এলাকায় গেলে কর্মীদের কষ্টের কথা শুনে অসহায় বোধ করি। কিছু করতে পারি না।’
মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘সারাদেশে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কয়েক লাখ মামলা চলমান আছে। এই মামলা আর পুলিশি হয়রানি মোকাবেলা করেই আমরা দলকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছি।
নেতা কর্মীরা এখন বুঝতে পেরেছে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করলেও মামলা খায় আবার না করেও গায়েবি মামলা খায়। তাই আমরা এখন সিদ্বান্ত নিয়েছি এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গুড়ে তুলে তত্তাবধায়ক সরকারে মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন প্রতিষ্ঠা করে দেশে সুশাসন কায়েম করবো।
সেই লক্ষ্যবাস্তাবায়নেরে জন্য নারায়নগঞ্জ মহানগর বিএনপি জেগে উঠেছে। বিএনপি নেতারা এখন আর মামলা হামলাকে ভয় পায় না।’
মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এইচ মামুন জানান, ‘বিএনপি এখন রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে জেগে উঠেছে। তারা সরকারের পেটুয়া বাহিনীকে ভয় পায়না। এই সরকারের পতন ঘটিয়ে বিএনপি ঘরে ফিরবে।। এখানে যদি কেউ বাধা দিতে আসে তাহলে তা প্রতিরোধ করা হবে।’
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাইয়ের সাথে “যুগের চিন্তা’র” প্রতিবেদক একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। এন.এইচ/জেসি


