Logo
Logo
×

রাজনীতি

মন্তু-সজলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গেল কেন্দ্রে

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১০ নভেম্বর ২০২২, ০৩:১৪ পিএম

মন্তু-সজলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গেল কেন্দ্রে
Swapno


# গোমড় ফাঁস করে দিয়েছে যুবদল নেতা মুছা

# ওর মতো টোকাইরে দিমুনি সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দায়িত্ব : মন্তু

# আমি এত নষ্ট চরিত্রের লোক না : সজল



নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলে মন্তু-সজলের একক আধিপত্যে ধুকছিল যুবদল। তাদের স্বার্থলোভী নেতৃত্বের প্রতি অতিষ্ঠ হয়ে ফুসছিল মহানগর যুবদলের নেতারা। পাশাপাশি তাদের নানাবিধ বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা; কমিটি বাণিজ্যের কারণে বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে মহানগর যুবদলের নেতারা।

 

 

যার কারণে যুবদলে মন্তু-সজলের রাহুগ্রাস থেকে বাঁচতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের নেতা-কর্মীরা। মন্তু-সজলের প্রতি যুবদল নেতাদের চাপা বিষবাষ্প যেকোন সময় বিস্ফোরিত হতে পারে। কেন্দ্রে অভিযোগের মাধ্যমে এমনটাই অনুমেয় করছিল যুবদলের নেতারা।

 

 

আর সেই বিষবাষ্প বিস্ফোরিত হয়েছে যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের বরাবর অভিযোগের মাধ্যমে। আর কেন্দ্রের বরাবর এই অভিযোগটি করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনজুরুল আলম মূছা।

 

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ৯/১১/২২ তারিখে কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের বরাবর নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহবায়ক এবং সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ সাধারণ সম্পাদক সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবদল, সভাপতি ৮ নং ওয়ার্ড যুবদল নেতা মনজুরুল আলম মূছা।

 

 

মহানগর যুবদল নেতা মূছার অভিযোগটি তুলে ধরা হলো: 

 

এই মর্মে অভিযোগ করিতেছি যে, বর্তমান নারায়নগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব তাদের মনগড়া মতো গঠনতন্ত্র বহির্ভূতভাবে সংগঠন পরিচালনা করছে। আহবায়ক সদস্য সচিব এর সাথে যুগ্ম আহ্বায়কদের সাথে সম্মিলিতভাবে কোনো আলোচনা না করে তারা দুইজন ব্যাক্তিগত স্বার্থ নিয়ে সংগঠন পরিচালনা করছে।

 

 

এবং হামলা মামলার স্বীকার সিনিয়র ও ত্যাগী নেতা কর্মীদের সংগঠনের নতুন কমিটির বাইরে রেখে; নতুন লোক মামলা মোকাদ্দমা বিহীন ও অর্থ স্বার্থ বিনিময়ে ইউনিয়ন পর্যায়ের লোক দিয়ে নতুন কমিটি করে কেন্দ্রে জমা দিয়েছে মর্মে শুনতে পাই।

 

 

আমাকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবদলের সভাপতি করবে বলে সংগঠনকে গতিশীল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সময় আমার কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়েছে। কিন্তু এখন আহ্বায়ক সদস্য সচিব অযোগ্য লোকদের কাছ থেকে অনেক মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাদেরকে সংগঠনের তিনটি থানা ও মহানগর কমিটির বিভিন্ন পদগুলো বিক্রি করে দিয়েছে বিভিন্ন দামে।

 

 

আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের অর্থের বিনিময়ে যে কমিটি বাণিজ্য করছে, তা আমরা জাতীয় ও স্থানীয় পত্র-পত্রিকায় ও অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে এবং আমরা দেখেছি। এমতাবস্থায় সংগঠনকে গতিশীল করতে হলে অত্র সংগঠনের সুপার ফাইভকে নিয়ে কেন্দ্রীয় নেত্রীবৃন্দ আলোচনার মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করলে সংগঠন শক্তিশালী হবে ও সরকার বিরোধী আন্দোলন তরান্বিত করতে সহজ হবে।

 

 

উল্লেখ্য থাকে যে, আহ্বায়ক সদস্য সচিব দ্বারা যেই কমিটিগুলো কেন্দ্রে জমা দিয়েছে ঐ কমিটি সম্পর্কে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও অন্যান্য যুগ্ম আহ্বায়করা অবগত নয় বলে আমি জানতে পেরেছি। আরো উল্লেখ্য থাকে যে, আড়াইহাজারের কেন্দ্রীয় এক বি.এন.পির এক নেতার প্রভাব খাটিয়ে তারা নাকি যে ভাবে চাইবে সেভাবেই কমিটি হবে, ‘কোনো যুগ্ম আহ্বায়কের বেইল নাই’, বলে ঘোষণা দেয়।

 

 

অতএব, মহোদয়ের নিকট আকুল আবেদন এই যে, উপরোক্ত বিষয়গুলো তদন্তপূর্বক নতুন কমিটি গঠন করে দিলে আপনাদের নিকট চির কৃতজ্ঞ থাকিব।

 

 

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহবায়ক জানায়, “এগুলো অসত্য ও ভিত্তিহীন কথাবার্তা; এগুলো মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।অভিযোগতো আমি আপনার বিরুদ্ধে করতে পারি আপনে আমাকে ফোন করে টাকা চাইতাছেন এটাওতো আমি বলতে পারি। আমরা বাঙালি জাত একহাজার কথার মধ্যে নয়শ নিরানব্বই কথা কই মিথ্যা কথা।

 

 

লক্ষ লক্ষ টাকার অভিযোগ লক্ষ লক্ষ টাকা আকাশে উড়ে, আর টাকা লইয়া বইয়া রইছে নাকি। কার থেকে টাকা নিছি, কেডা টাকা দিছে, লক্ষ লক্ষ টাকা কমিটি বাণিজ্যের টাকা, এটা আপনি বলতে পারবেন না আমি বলতে পারব কারণ আমার সৎ সাহস আছে।

 

কার থেকে টাকা নিছি, আমরা কে সদস্য সচিব হইব, কে আহবায়ক হইব, যার যার যোগ্যতায় হইব, ওর মতো টোকাইরে দিমুনি সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দায়িত্ব।”

 

 

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব মনিরুল ইসলাম সজল জানান, “এগুলোর কোন সত্যতা নাই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে তাকে বলতে বলবেন, আমার সাথে তার এই ধরণের রিলেশন আছে কিনা।

 

 

আমি আপনাদের বলি যারা এই নোংরামি করে আল্লাহর দুনিয়ায় তাদের বিচার একদিন হবে। এ ধরণের মিথ্যা কথা মূছার মত লোক আমাকে টাকা দিবে এই ধরণের লোক আমি সজল না।”

 

 

“দয়া করে এই প্রশ্ন গুলি আর বার বার করবেন না আমি বিব্রত হই। আর মুছার মত লোক থেকে আমি টাকা নিব কেন? আর তার কাছ টাকা নিয়ে থাকলে মোবাইলে এভিডেন্স থাকবে ফোন রেকর্ড থাকবে বা টাকা দিলে টাকার কোন রিসিট থাকবে যে মাধ্যমেই হোক এভিডেন্স থাকবে।”

 

“সেগুলো নিয়ে আসতে বলেন; কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করা ঠিক না। আমারতো এতো খারাপ লোক না; মুছার মত লোক থেকে আমরা টাকা নিয়ে যাব, এমন রাজনীতি আমরা করি না। আর আমি এত নষ্ট চরিত্রের লোক না।” এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন