Logo
Logo
×

রাজনীতি

হতাশা ঢাকতে মহানগর আওয়ামী লীগে তাকিয়ে তৃণমূল

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০২২, ০৬:১৮ পিএম

হতাশা ঢাকতে মহানগর আওয়ামী লীগে তাকিয়ে তৃণমূল
Swapno


 # পরিবর্তন চায়, বর্তমান কমিটিতে থাকা নেতারাও
 

দীর্ঘদিন যাবত নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি উঠেছে। এই দাবির উপর ভিত্তি করে গত ২০১৯ সাল থেকেই সম্মেলনের চিন্তাভাবনা করেন কেন্দ্রীয় কমিটি। ২০২০ এর প্রথম দিকেই এই মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হতে পারে বলে ঘটা করে সংবাদও প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে করোনা মহামারীর কারণে তা আর সম্ভব হয়নি।

 

 

তবে গত বছর নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ এর নির্বাচনের সময় কমিটিগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠার পর কমিটিগুলোর নেতৃত্ব পরিবর্তনের জন্য তৃণমূল থেকে নতুন করে দাবি উঠে। একই সাথে গত সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের পর থেকে এই দাবি আরও জোরালো হলে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নেয় এবং গত ২৩ অক্টোবর জেলা আওয়ামী লীগ এবং ২৫ অক্টোবর মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারিত হয়।

 

 

এরই মধ্যে কম নাটক হয়নি জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়ে। সম্মেলনের পূর্বে নেতৃত্ব নিয়ে এসেছে বিভিন্ন মতামত। সভাপতির সম্ভাব্য তালিকায় নাম এসেছে সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, সিটি মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী, চলমান কমিটির সভাপতি আবদুল হাই, পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীসহ বেশ কয়েকজনের নাম।

 

 

অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে চলমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল এর পাশাপাশি জোর আলোচনায় আসে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর নাম। এর ফলে নতুন করে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে।

 

 

তবে গত ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের পূর্বের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক বহাল থাকবে বলে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে বাতিল করা হয় মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন।

 

 

তবে দীর্ঘদিনের পুরানো মহানগর আওয়ামী লীগের সেই কমিটির বিষয়ে এখনও কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। অনেকেই বলতে শুরু করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের মতো মহানগর আওয়ামী লীগেও এখন নেতৃত্ব পরিবর্তন না হওয়ারই সম্ভাবনা বেশি। কেননা দায়িত্বশীল পদগুলোর তুলনায় দায়িত্ব নিতে আগ্রহীদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।


 

যদিও নেতৃত্ব পরিবর্তন এবং নতুন নেতৃত্বের সুযোগ তৈরির বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের টপ-টু-বটম নেতৃবৃন্দের দাবি। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচিত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, “তৃণমূল হলো এই দলের অক্সিজেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা চান, যেন ত্যাগীরা মূল্যায়ন পায়।

 

 

মাথা থেকে পা পর্যন্ত যারা আওয়ামী লীগার তারাই যেন নেতৃত্বে আসেন, কারণ তারাই ত্যাগী ও তৃণমূলকে মূল্যায়ন করতে জানে, সম্মান দিতে জানে, রাজপথে যুদ্ধ করতে জানে। এ সময় তিনি বর্তমান কমিটির অনেককেই চিনেন না বলে জানান।”

 


 
শুধু এমপি শামীম ওসমানই না, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের সকল শ্রেণির লোকেরই দাবি, কোন হাইব্রীড ও কাউয়া মার্কা নেতাদের সুযোগ না দিয়ে তৃণমূল থেকেই উঠে আসা নেতৃবৃন্দকে কমিটিতে নেয়ার জন্য। যেহেতু জেলা আওয়ামী লীগ কমিটির নেতৃত্ব ঘোষণা করা হয়েছে; তাই এখন সবার টার্গেট মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি।

 

 

তাছাড়া সামনে যেহেতু নির্বাচনের সময় চলে এসেছে, তাই এই কমিটির উপরই নির্ভর করবে আগামী নির্বাচনের ভাল-মন্দ। তাছাড়া বর্তমানে যারা দায়িত্বে আছেন তাদেরকে সম্পুর্ণরূপেই ব্যর্থ হিসেবে মনে করছেন আওয়ামী লীগের তৃণমূল।

 

 

গত প্রায় দশ বছরেও কোনো ওয়ার্ডের কমিটি দিতে পারেননি মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। বর্তমান কমিটির ব্যর্থতার বিষয়টি কেন্দ্রের কাছে তুলে ধরে, তারা একটি সুষ্ঠু কাউন্সিলের মাধ্যমে বর্তমান মহানগর কমিটিসহ ওয়ার্ড কমিটিগুলো গঠনের দাবি করেছেন।
 

 

এরমধ্যে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃস্থানীয় পদগুলোর জন্য প্রস্তুতি সর্ম্পকে বেশ কয়েকজন নেতার নাম এসেছিল। সভাপতি পদের জন্য বর্তমান সভাপতি আনোয়ার হোসেন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহাসহ আরও বেশ কয়েকজনের নাম শোনা গেছে।

 

 

তবে সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য প্রস্তুতি ছিল বেশ কয়েকজন নেতার নাম। তারা হলেন, শাহ নিজাম, আহসান হাবিব, আহমেদ আলী রেজা উজ্জ্বল, জিএম আরাফাত ও জিএম আরমান।

 

 

তবে বর্তমান সভাপতি আনোয়ার হোসেন পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা যদি মনে করেন এবং বলেন, “মহানগরে ওনাকে প্রয়োজন, তাহলেই তিনি থাকবেন বলে জানিয়েছেন।” এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন