# ভাইয়ের বন্দনা, জয়ধ্বনি ও দোহাই দিয়েই চলে তাদের সকল কার্যকলাপ
নারায়ণগঞ্জে পত্র পত্রিকায় এবং রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের আলাপ আলোচনায় ‘ভাইলীগ’ নামে একটি সংগঠনের কথা শুনা যায়। স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ‘ভাইলীগ’ কি এবং কাকে বলে তা জানলেও বহিরাগত সহ অনেকেই বুঝতে পারে না, ভাইলীগ আসলে কি জিনিস?
এদেশে যে কোন নামবাচক শব্দের শেষে ‘লীগ’ শব্দটি যুক্ত দেখলে বেশীর ভাগ লোক মনে করেন ইহা সম্ভবত আওয়ামী লীগের কোন অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন। যেমন, ছাত্রলীগ, শ্রমিকলীগ, হকার্স লীগ ও বাস্তুহারা লীগ ইত্যাদি। তবে, ‘ভাইলীগ’ আসলে আওয়ামী লীগের কোন অঙ্গ বা সহযোগী সংগগঠন নয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।
শনিবার (১২ নভেস্বর) ‘বোস কেবিনে’ আলাপকালে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রবীন নেতা মাহফুজুর রহমান জানান, “আওয়ামী লীগের সাতটি শাখা বা অঙ্গ সংগঠন রয়েছে, তবে, এর মধ্যে ‘ভাইলীগ’ পড়ে না।”
এ সময় আরও কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী এ আলোচনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে বলেন, “ভাইলীগ’ আওয়ামী লীগের কোন অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন না হলেও এটি একজন আওয়ামী লীগ নেতা, যিনি একজন প্রতাপশালী সংসদ সদস্যও বটে, তার ব্যাক্তিগত সহযোগী সংগঠন।”
তিনি আরো বলেন, “ভাইলীগের যারা নেতা-কর্মী তারা কেউ কেউ মূলত আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতা কর্মী। তবে, ব্যাতিক্রম এই, তারা উচ্চকন্ঠে বলে থাকেন, আমরা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ বা শ্রমিকলীগ নই, আমরা মূলতঃ ভাইলীগ করি।
তারা তাদের ভাইকে ইষ্টনেতা বা কান্ডারী মনে করে; তার বন্দনা করেন, তার নামে জয়ধ্বনি দেন এবং তার দোহাই দিয়েই তারা শহরে বেপারোয়াভাবে চলাফেরা করেন।”
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ‘ভাইলীগের’ অনেক নেতা কর্মীই এখন কোটিপতি। তারাই এ শহরে ভাইয়ের দোহাই দিয়ে সড়কও জনপথ, গণপূর্ত, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল, স্থানীয় সরকার অধিদফতর প্রভৃতি সরকারী সংস্থাগুলোতে ঠিকাদারীর নামে লুটপাট, যানবাহন, ফুটপাত ও গার্মেন্টস্ সেক্টরে চাঁদাবাজী, ভূমিদস্যূতা ও মাদক ব্যবসা করেন।
‘ভাইলীগ’ করেই এ শহরে তারা আজ বেপারোয়া, বলে অভিযোগ করেন, সুশীল ও সচেতন নাগরিক সমাজের গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ। তারা মনে করেন, যে বা যারা এই ‘ভাইলীগ’ করেন বা যার নাম ভাঙ্গিয়ে চলেন, তিনি হয়তো তাদের সকল কার্যক্রম সম্পর্কে ঠিকমত অবগতও নন।” এন.এইচ/জেসি


