Logo
Logo
×

রাজনীতি

রাজপথ দখলের প্রস্তুতি

Icon

রাকিবুল ইসলাম

প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২২, ০৫:০৬ পিএম

রাজপথ দখলের প্রস্তুতি
Swapno


# বিএনপির সকল সংগঠন তৎপরতা বাড়িয়েছে

# আওয়ামী লীগও দ্বন্দ্ব-বিভেদ ভুলে প্রতিহতের প্রস্তুতি

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠছে টানা মেয়াদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির রাজনীতি। নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে ততোই প্রতিনিয়ত পাল্টাপাল্টি বক্তব্যসহ সমাবেশ, পাল্টা-সমাবেশে শক্তির মহড়ায় নিজেদের শক্তির জানান দিচ্ছে দুই দলের নেতারা।

 

 

ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জের ক্ষমতাসীন দল এবং বিরোধী দল বিএনপি নেতারা রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তার মাঝে বিএনপি নানা মামলা হামলা খেয়েও রাজনীতির মাঠের ময়দান ছেড়ে দেন নাই। তাছাড়া ওয়ার্ড ইউনিয়ন পর্যায়ে এই বছরের শুরু থেকে দ্রব্যমূল্যবৃদ্ধি সহ নানা ইস্যুতে সভা সমাবেশের মাধ্যমে নেতা কর্মীদের জাগিয়ে তুলেছে।

 

 

সেই সাথে নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে অঙ্গ সংগঠন সহ বিএনপি শক্তিশালী হচ্ছে। এরই ধারাবাবিহকতার বিএনপির সমাবেশের একই দিনে ঢাকার রাজপথে শক্তির জানান দিতে শান্তি সমাবেশে ও প্রতিবাদ মিছিল করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। মূলত এর মধ্য দিয়ে ডিসেম্বর থেকে ঢাকার রাজপথ দখলের কঠোর বার্তা দিলেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

 

 

আগে থেকে ঘোষনা দিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে মহা সমাবেশ করছে বিএনপি। সর্বশেষ ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগের সমাবেশের মাধ্যমে সরকার পতনের ঘন্টা বাজনোর হুঙ্কার দিচ্ছে বিএনপি। আর সেই সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ জেলা মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন গুলোও ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে জেলা মহানগর বিএনপি ১০ ডিসেম্বর সামবেশকে বাস্তা বায়নের জন্য কয়েক হাজার লোক নিয়ে জরো হওয়ার জন্য প্রস্তুতি সভা করেছে।

 


এদিকে শুক্রবার ঢাকা ১১ নভেবম্বর আওয়ামী লীগের প্রধান সহযোগি যুব সংগঠন যুবলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে যুব মহা সমাবেশে নারায়ণগঞ্জের যুবলীগের নেতারা কয়েক হাজার নেতা কর্মী নিয়ে ঢাকার রাজপথ কম্পন তৈরী করেন। ওই দিন ঢাকা সহ নারায়ণগঞ্জের নেতাদের নেতৃত্বে ঢাকার ওলিতে গলিতে মিছিলে ভরপুর ছিল। অর্থাৎ ঢকারা সোহরাওয়ার্দি উদ্যান যেন জেলা মহানগর যুবলীগের মিছিলে ঢাকার রাজপথ দখলে চলে আসে।

 


খোজ নিয়ে জানাযায়,নারায়ণগঞ্জজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সদ্য নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদলের নেতৃত্বে মিছিল নিয়ে যোগদান করেন। ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি মীল সোহেল আলী, ফতুল্লা থানা ছাত্র লীগের সভাপতি আবু মো. শরীফুল হক , সাধারণ সম্পাদক এম এ মান্নান, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু, সাধারণ সম্পাদক আলী রেজা উজ্জল। 

 

 

সোনারগাঁ থানা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু, সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দার খান, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের সভাপতি মতিউর রহমান মতি,সদর থানা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এসটি আলমগীর সরকার আওয়ামী লীগ নেতাদের নেতৃত্বে ঢাকার রাজপথ মিছিল নিয় দখল করেন। এযেন নারায়ণগঞ্জের সেই আগের রূপের ফিরে যেতে শুরু করেছে।

 

 

অর্থাৎ ক্ষমতাসীন দলের আন্দোলন সংগ্রামে নারায়ণগঞ্জের নেতাদের লোকজন দিয়ে ঢাকার রাজপথ দখলে রাখা। ১১ নভেম্বর তাই হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের ক্ষমতাসীন দলের নেতারা গত শুক্রবার ঢাকার রাজপথে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে। বিএনপির যে কোন অরাজাকতাকে  প্রতিহত করার জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছেন।

 


অপর দিকে আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ জেলা মহানগর বিএনপি ও সহযোগি সংগঠন গুলোর পক্ষ হতে ব্যপক প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। তারাও ওই দিন ঢাকার রাজপথ দখলের রাখার জন্য এখন থেকে হ্ঙ্কুার দিয়ে যাচ্ছেন। সেই সাথে সরকার পতনের ঘন্টা বাজানোর ডাক দিচ্ছেন।

 

 

রাজনৈতিক বিষশ্লেকদের মতে, এখন থেকে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল রাজপথের মাঠ নিজেদের দখলে নেয়ার জন্য বিভিন্ন সভা সমাবেশ করে নেতা কর্মীদের জাগিয়ে তুলছেন। সেই এক অপরকে হুঙ্কার দিয়ে বক্তব্য দিচ্ছে। আর এতে করে রাজপথও দিনকে দিন গরম হয়ে উঠছে। দুই দলই একে অপরকে প্রতিহত করতে চায়।

 

 

এক দল ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায় আরেক দল সরকারি দলকে পতন ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসতে চায় তবে কে ক্ষমতায় থাকবে আর কে ছাড়বে তা আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংদ নির্বাচনে জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্ধারণ হবে।

 


দলীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সমাবেশকে সফল করার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা মহানগর বিএনপি প্রস্তুতি সভা করেছে। প্রস্তুতি সভায় নেতারা বলেছেন আওয়ামী লীগ কোন ভাবে বাধা দিয়ে ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় মহাবেশকে বাঞ্চাল করতে পারবে না। এমনকি মানুষকে আটকিয়ে রাখা যাবে না বলে মন্তব্য করেন বিএনপি নেতারা।

 


প্রস্তুতি সভায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য গিয়াস উদ্দিন বলেন, গনতান্ত্রিক আন্দোলনে আওয়ামীলীগ মোকাবেলা করতে পারছে না বলে স্বৈরাচারি শাসন ব্যবস্থায় থেকে তারা প্রশাসনকে কাজে লাগাচ্ছে। তারা আজ রাজনীতিতে বিফলগাম ও ব্যর্থ হয়ে গেছে।

 

 

তাদের ক্ষমতার দাপট বিনষ্ট হয়ে গেছে। তাই আজকে তারা পুলিশের উপর নির্ভরশীল। তারা আজকে মামলা-হামলার উপর নির্ভরশীল। তারা আমাদের সমাবেশ বন্ধ করার কাজে নিযুক্ত। তাদের প্রাথমিক পরাজয় রাজনৈতিকভাবে হয়ে গেছে। তাদের শেষ পরাজয় হয়েছে বিএনপির অন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে।

 

 

তিনি বলেন, আমাদের যেখানে মহা সমাবেশ হবে এর তিন-চারদিন আগ থেকে সে এলাকা হরতাল করে দেওয়া হয়। গাড়ি ঘোড়া সকল যানবাহন বন্ধ করে দেওয়া হয় যাতে জনসমাবেশ না করতে পারে সে ব্যবস্থা করা হয়। আওয়ামী লীগ আমাদের আন্দোলন এবং মহা সমাবেশকে দমাতে পারবে না।

 


জেলা বিএনপির  সদস্য সচিব মামুন মাহমুদ জানান, জনগণ আমাদের আন্দোলনের সাথে একাত্বতা প্রকাশ করেছে। কেননা আমরা জনগনেল অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করছি। ইতিমধ্যে আমাদে কয়েকটি সমাবেশ ক্ষমতাসীন দলের ব্যপক বাধা থাকা সত্বেও তা সফল ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই সমাবেশ জনতার সমাবেশ।

 

 

তিনি বলেন ইতোমধ্যে সব কটি বিভাগের একদিনের সমাবেশ ৩ দিনের সমাবেশে পরিনত হয়েছে। কেননা সরকার পরিবহন বন্ধ করে দেয়ায় তিন দিন আগে থেকে মানুষ উপস্থিত হচ্ছে। জনগনের দাবী নিয়ে আমরা মাঠে আছ্।ি আমরা অন্যান্য সভা সমাবেশে ৫০ হাজার লোক নিয়ে জরো হই।

 

 

এবার ১০ ডিসেম্বর সমাবেশে এক লাখ লোক নিয়ে আমরা ঢাকার সমাবেশকে সফল করবো। আমরা সরকারের অন্যায়, অবিচার, মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছি। আর এতেই তারা ভয় পেয়ে গেছেন।

 


মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, এই সরকার হলো অগতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। তারা গনতন্ত্রকে হরন করে ক্ষমতায় এসেছে।আমরা গনতান্ত্রিক ভাবে রাজনিতী র্চচা করতে চাই।  সেই সাথে দ্রব্যমূল্যবৃদ্ধি,জালা তেল দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আমরা মানুষকে জনমুখি করে তুলছি।

 

 

সেই সাথে আমাদের আন্দোলন সংগ্রামে মানুষও ভালো সারা দিচ্ছে। তাছাড়া আমরা জনগনের অধিকার আদায়ে আন্দোলন করছি। আগামী ১০ ডিসেম্বর আমরা নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি সবচেয়ে বেশি লোক নিয়ে ঢাকার সমাবেশকে সফল করবো। আর এজন্য এখন থেকে নেতা কর্মীরা নিজ থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছে। কোন বাধা হুমকি ধমকি দিয়ে সমাবেশকে আটকাতে পারবে না স্বৈরাচারি সরকার আটকাতে পারবে না।

 


মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এইচ মামুন বলেন, আগামী ১০ ডিসেম্বর আমার ওয়ার্ড থেকে কয়েক হাজার লোক নিয়ে ঢাকার সমাবেশকে সফল করে তুলবো। ইতোমধ্যে এই সরকার বিভিন্ন বিভাগীয় সমাবেশে বাধা দিয়েও মানুষের সমাগম থামাতে পারে নাই ক্ষমতাসীন দল।

 

 

যেহেতু ঢাকার সবচেয়ে নিকটতম জেলা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সে হিসেবে এখানকার নেতারা সে দিন ঢাকার রাজপথ আমাদের দখলে থাকবে। আওয়ামী লীগ যতই হুঙ্কার দেকনা কেন তারা আমাদের আন্দোলনকে দমাতে পারবে না।

 


জেলা যুবদলের আহ্বায়ক গোলাম ফারুক খোকন বলেন, আমরা জেলা বিএনপি সহ সকল অঙ্গ সংগঠন মিলে ১ লক্ষা লোক নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। ইতোমধ্যে আমরা প্রস্তুতি সভাও করেছি।

 

 

নেতা কর্মীদেরকে তাদের আত্মী স্বজনের বাসায় আগে থেকে থাকার জন্য বলে দেয়া হয়েছে। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জ হচ্ছে ঢাকার সবচেয়ে নিকটতম জেলা। এর পরেও যদি বাধা আসে তাহলে নেতা কর্মীরা হেটে চলে আসার জন্য প্রস্তুত আছে। ১০ ডিসেম্বরের মহা সমাবেশ হবে সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী সমাবেশ।

 


মহানগর ছাত্র দলের সভাপতি শাহেদ আহমেদ জানান, ১০ ডিসেম্বরের পরে দেশে এক পরিবর্তন আসবে। আর তা হলো এই সরকারকে হটানোর আন্দোলন। যে আন্দোলনে সর্ব স্তুরের মানুষ ঝাপিয়ে পরবে। তারই নমুনা দেখবে ১০ ডিসেম্বর। আমরা নারায়ণগঞ্জ থেকে এই সমাবেশকে সফল করার জন্য কয়েক হাজার লোক নিয়ে সমাবেশে উপস্থিত হবো। এন.এই/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন