Logo
Logo
×

রাজনীতি

সাংগঠনিক নিয়মের বাইরে কমিটি মানবে না তৃণমূল আওয়ামী লীগ

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২২, ০৮:২৭ পিএম

সাংগঠনিক নিয়মের বাইরে কমিটি মানবে না তৃণমূল আওয়ামী লীগ
Swapno


 
# সর্বশেষ ২০০৩ সালের নভেম্বরে ইউনিয়ন কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়
 
 
পকেট কমিটি করা এখন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি প্রচলিত ধারা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শক্তিশালী কোন প্রতিরোধ গড়ে না উঠায় এখন জেলা বা উপজেলা কমিটিগুলোর কর্তারা নিজেদের পকেট ভারি, নিজেদের সমর্থন বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে নিজেদের অবস্থান আরও পাকাপোক্ত করার জন্য নিজেদের পছন্দের লোক ও নিজেদের চাটুকারদের কমিটিতে টানার প্রবণতা দিনদিন বেড়েই চলছে।

 

 

আর এই প্রবণতা নিয়ে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কমিটির বিরুদ্ধেই অভিযোগের তীর নিক্ষেপ হচ্ছে। তবে শক্তিশালী কোন প্রতিবাদ না হওয়ায় এবং বড় ধরণের কোন প্রতিবন্ধকতার মুখে না পরার কারণে অতি সহজেই এসকল সুবিধাবাদী নেতারা পার পেয়ে যান।

 

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক গঠন করা বেশ কয়েকটি কমিটির বিরুদ্ধেও এই একই ধরণের অভিযোগ পাওয়া গেলেও বেশি বিতর্কিত হয়ে উঠে বন্দর ও সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটির বিষয়ে।

 

 

তাছাড়া এই দু’টি উপজেলায় দীর্ঘদিন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য থাকায় এখন আওয়ামী লীগের অবস্থান অনেকটা ব্যাকফুটে। ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত হওয়া বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়ে অনেক সমালোচনা হলেও এর প্রায় আড়াই বছর পর ঘোষণা করা পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়েও রয়েছে ব্যাপক সমালোচনা।

 

 

মুখ চিনে নিজেদের পছন্দের লোকদের কমিটিতে স্থান এবং পছন্দের পদ দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃবৃন্দের দাবি। তাই এবার আসন্ন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনে তৃণমূল কোন পকেট কমিটিকে মেনে না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

 

 

তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি দলীয় হাই কমান্ড থেকেও কমিটি গঠনে যত্নবান এবং দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটি নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন একাধিক সূত্র।
 

 

সূত্রমতে প্রায় দুই দশক পর বন্দর আওয়ামী লীগের পাঁচটি ইউনিয়নের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সর্বশেষ ২০০৩ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই সম্মেলন। তারপর আর কোন ইউনিয়ন কমিটির সম্মেলন দেখেনি বন্দর আওয়ামী লীগ।

 

 

এরই মধ্যে কেউ বয়সের ভারে নুয্য হয়ে শয্যাশায়ী আছেন আবার কেউ বা এই দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে চলে গেছেন পরপারে। এরফলে পাঁচটি ইউনিয়নের চারটিতেই হয়তো সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক পদশূণ্য হওয়ার কারণে ভারপ্রাপ্তদের দিয়েই কার্যক্রম চলছে বছরে পর বছর।

 

 

এতে তরুণ নেতা-কর্মীসহ নতুন নেতৃত্ব তৈরি হওয়ার পথরুদ্ধ হয়ে গেছে বলে বিভিন্ন সময় তৃণমূলের নেতৃবৃন্দকের ক্ষোভ প্রকাশ করতে শোনা যায়। সূত্রমতে, একই ব্যক্তি দীর্ঘ সময় একই পদে অধিষ্ঠিত থাকার কারণে ইউনিয়নগুলোর হাজার হাজার আওয়ামী লীগের সমর্থক উৎসাহ ও উদ্দীপনা হারিয়ে ফেলছে বলেও মনে করছেন অনেকে; যোগ্যতা দেখানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

 

 

দীর্ঘ বিশ বছর যাবত সেই একই কমিটি দিয়েই চলছে কার্যক্রম। তবে এবার সেই প্রতীক্ষার অবসান যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন বন্দর আওয়ামী লীগ। বন্দর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের ইচ্ছা এবার উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের কমিটি হবে স্বচ্ছ, তরুণ, ত্যাগী ও মেধাবীদের মাধ্যমে।

 

 

দল ও সংগঠনের জন্য যাদের কোন কোন ভূমিকা ছিল না তাদের কমিটিতে স্থান হবে না বলে দলীয় হাই কমান্ড থেকেও কঠোর হুশিয়ারী প্রদান করা হয়েছে। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কাউন্সিলের মাধ্যমেই প্রতিটি ইউনিয়ন কমিটি করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন সূত্র। মুখ দেখে কোন নেতা নির্ধারণ করা হবে না।

 

 

এখানে ভোটার হিসেবে থাকবেন বন্দরে বসবাসকারী যারা জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে আছেন তারাসহ বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটির সদস্য, ইউনিয়ন কমিটির বর্তমান সদস্যগণ। এর বাইরেও কিছু বিশেষ ব্যবস্থায় ভোটার করা হয়। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রবীণ ও সম্মানিত নেতৃবৃন্দ থাকেন।
 

 

এই বিষয়ে জানতে চাইলে কলাগাছিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এবং বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আকতার হোসেন (বিএ) বলেন, “আমাদের ইচ্ছা এখানে সুন্দরভাবে সম্মেলন হোক। এই সম্মেলনের মাধ্যমে এলাকার নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হবে এবং বঙ্গবন্ধু কন্যার হাত আরও শক্তিশালী হবে।

 

 

যেহেতু দীর্ঘদিন যাবত কোন কাউন্সিল হয়নি, তাই কমিটির পদগুলোতে দীর্ঘ একটি সময় যাবত একই লোক নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাই এই কাউন্সিলের মাধ্যমে আশা করি এখানে নতুন নেতৃত্বের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

 

 

যারা বিভিন্ন পদে এখন আছে তারা যদি ভাল কাজ করে থাকে তাদেরও মূল্যায়ন হোক, তাদেরকে আরও ভাল পদে মূল্যায়ন করা হোক। আমি মনে করি ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটিগুলোতে নতুন নেতৃত্বের সৃষ্টি হবে।”
 

 

ধামগড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলী জানান, “এখানে যারাই নেতৃত্বে আসবে তারা যেন আওয়ামী লীগের ত্যাগী এবং প্রকৃত প্রেমিক হন। এখানে কারো আত্মীয় বা কাছের মানুষ হিসেবে কমিটিতে আসুক এটা আমরা চাই না।

 

 

যারা ভালো লোক, আওয়ামী লীগের জন্য নিবেদিত প্রাণ, কোন অন্যায় কাজে জড়িত না এমন ধরণের নেতৃত্ব এখন বন্দর আওয়ামী লীগের জন্য খুবই দরকার।”

 

 

তিনি বলেন, “আমরা চাই ইউনিয়ন কমিটিগুলোতে যেন প্রকৃত কাউন্সিলের মাধ্যমেই নেতা নির্ধারণ করা হয়, ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারণ করা হয়। এখানে কেউ কাউকে নির্ধারণ করে দিয়ে গেল, এমনটা যেন না হয়।”
 

 

বন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন পনির জানান, “আমি দীর্ঘদিন যাবত বন্দর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি। তবে এবার ইচ্ছা আছে সভাপতি পদের প্রার্থী হওয়ার।

 

 

দীর্ঘদিন পর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হতে যাচ্ছে বিধায় সেই কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে এলাকায় উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আমরা চাই যারা প্রকৃত আওয়ামী লীগ করে, আওয়ামী লীগের প্রতি যাদের দরদ আছে এমন ধরণের নেতৃত্ব যেন নতুন কমিটিতে থাকে। তবে বিষয়টি নির্ভর করবে কর্মীদের বা ভোটারদের চাহিদার উপর।”


 

এই বিষয়ে মুসাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি মজিবুর রহমান বলেন, “এবারের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর নিয়ে স্থানীয় নেতা কর্মীরা অনেক উৎফুল্ল। আমিও চাই একটি সুন্দর পরিবেশের মাধ্যমে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে।

 

 

এতে করে কর্মীরা একটি উৎসব মুখর পরিবেশে তাদের পছন্দ মতো নেতৃত্ব বেছে নিবে। কর্মীদেরকে তাদের পছন্দের লোক বেছে নেওয়ার জন্য আমাদের সুযোগ করে দিতে হবে।

 

 

যেহেতু দীর্ঘদিন যাবত এই একই দলের রাজনীতি করছি আমাকে আমার যোগ্যতা অনুযায়ী নেতাকর্মীরা মূল্যায়ন করবে বলেই আমি মনে করি।”
 

 

বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ¦ কাজিম উদ্দিন প্রধান বলেন, “আমরা আশা প্রকাশ করছি এই মাসের মধ্যেই আমরা বন্দরের পাঁচটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কাউন্সিল সম্পন্ন করতে পারবো।

 

 

এই বিষয়ে আমরা তাদেরকে চিঠি প্রদান করেছি। শীঘ্রই হয়তো আমরা একটি তারিখ নির্ধারণ করে ফেলব। শুধু তাই নয়, আমরা এই পাঁচটি ইউনিয়নের কাউন্সিল শেষ করে যত দ্রুত সম্ভব ওয়ার্ডগুলোর কমিটি গঠন করে ফেলার বিষয়েও চেষ্টা করবো।” এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন