রাজনীতিতে কেউ চিরকালীন শত্রু-মিত্র নয়
পরিচয় প্রকাশ গুপ্ত
প্রকাশ: ১৫ নভেম্বর ২০২২, ০৫:৪৭ পিএম
# মহানগরে আরেক দফা পরিবর্তন সময়ের ব্যাপার
রাজনীতির একটি পুরনো ও সর্বমান্য আপ্তবাক্য হচ্ছে, ‘রাজনীতিতে কেউ চিরকালীন বন্ধু অথবা শত্রু হতে পারে না’। এ কথার অর্থ, রাজনীতিতে আজ যে পরম শত্রু, আগামীকালই সে পরম বন্ধুতে রূপান্তরিত হতে পারে। আবার এর উল্টোটাও ঘটতে পারে।
সম্প্রতি নব ঘোষিত মহানগর কমিটির বিরোধিতায় এমন ঘটনাই ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এক সময় সাবেক এমপি এড. আবুল কালাম ও তার অনুসারীদের সঙ্গে সাবেক মহানগর সভাপতি এড. তৈমূর আলম খন্দকার ও তার অনুসারীদের মধ্যে দা-কুমড়ো সম্পর্ক ছিল।
তৈমূর আলম খন্দকারের ছোট ভাই সাব্বির আলম খন্দকার হত্যা মামলার আসামী করা হয়েছিল সাবেক ছাত্রদল নেতা কারান্তরীন জাকির খানকে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। গত ১৩ সেপ্টেম্বর এড. সাখাওয়াত হোসেন খানকে আহ্বায়ক ও এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে সদস্য সচিব করে ৪১ সদস্য বিশিষ্ট মহানগর কমিটি ঘোষণার পর থেকেই এদের মধ্যে পুরনো বৈরীতার অবসান ঘটেছে।
বর্তমানে রাজপথে এড. কালাম, এড. তৈমূর ও জাকির খান অনুসারীদের একত্রে সাখাওয়াত-টিপুর নেতৃত্বাধীন কমিটি বিলুপ্তির আন্দোলন করতে দেখা যাচ্ছে। এ আন্দোলন করতে গিয়ে কালাম তৈমূর-জাকির গ্রুপ মিডিয়া কর্তৃক বিদ্রোহী গ্রুপ খেতাবপ্রাপ্ত হয়েছে। এ
বিদ্রোহী গ্রুপ বর্তমানে সাখাওয়াত-টিপুর মহানগর কমিটির পাশাপাশি ভিন্ন অবস্থান থেকে তাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে সাখাওয়াত-টিপু কমিটিতে পদপ্রাপ্ত ১৫ জন নেতা পদত্যাগ করে বিদ্রোহীদের সঙ্গে একীভূত হয়েছে। প্রবীন বিএনপি নেতা হাজী নূরুদ্দিন, আঃ মজিদ কমিশনার ও তার ছোট ভাই হাসান আহমেদও বিদ্রোহীদের সঙ্গে ঐক্য করেছে।
অভিযোগ রয়েছে, নবগঠিত মহানগর কমিটিতে জাকির খান ও তৈমূর আলম খন্দকারের ছোট ভাই ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরসেদকে রাখা হয়নি। এ কারনেই তারা অনুসারীসহ বিদ্রোহী শিবিরে। জাকির খানের অনুসারীরা আগে এড. সাখাওয়াতের সঙ্গেই দলীয় কর্মসূচী পালন করতো।
কিন্তু কমিটিতে জাকির খানকে কোন গদ না দেয়ায় তারা তাকে ছেড়ে গেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিদ্রোহীরা তাদের বর্তমান অবস্থান ধরে রাখতে পারলে অবশ্যই মহানগর কমিটিতে সাংগঠনিক পরিবর্তন আসবে।
কারণ, টিপু ওসমান পরিবারের এজেন্ট এবং বিএনপিতে অনুপ্রবেশকারী বলে অভিযোগ অনেক পুরনো। বিগত ১৯৯৬-২০০১ সময়কালে শামীম ওসমানের প্রথম এমপি থাকাকালীন টিপুর বিরুদ্ধে ডিআইটিতে আঃ মজিদের অফিসে অবস্থান করে বিএনপি মিছিলে হামলা করে নেতাকর্মীদের পেটানোর অভিযোগ রয়েছে। এন.এইচ/জেসি


