# থানা কমিটিগুলো গুরুত্ব দিচ্ছে না : আব্দুল কাদির
গত ১১ নভেম্বর শুক্রবার বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ৫০ বছর পুর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হলো মহা যুবসমাবেশ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে ১৯৭২ সালের এই দিনে শেখ ফজলুল হক মনির নেতৃত্বে যুবলীগের যাত্রা শুরু হয়।
এই যুবলীগের একটি গুরুত্ব পূর্ণ অংশ ছিল নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগ। এমনিতেই নারায়ণগঞ্জ রাজধানী সংলগ্ন হওয়ায় প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জন্যই এখানকার রাজনীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং এখনও আছে। তবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নারায়ণগঞ্জের গুরুত্ব একটু আলাদা।
এর প্রথম কারণ স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী এই সংগঠনের সূতিকাগার এই নারায়ণগঞ্জ। তাছাড়া জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অন্যতম সহচর কাছের মানুষ ছিলেন নারায়ণগঞ্জ ওসমান পরিবারের অন্যতম রাজনীতিবিদ একেএম শামসুজ্জোহা (প্রয়াত)।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী সংগঠন হলো নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগ। নারায়ণগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে যে সংগঠনটি রাজনৈতিক বিভিন্ন কর্মকান্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে শুরু করে।
অথচ এক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেই যুবলীগের কমিটিই এখন অস্তিত্ব সংকটে বিলীন হওয়ার পথে। গত কয়েক বছর যাবতই জেলা যুবলীগের কমিটি নতুন করে গঠন করার জন্য কর্মীদের মধ্য থেকে জোরালো দাবি লক্ষ্য করা গেছে।
আর কর্মীদের সেই দাবি থেকেই হয়তো গত মাসে অনুষ্ঠিত জেলা যুবলীগের এক বর্ধিত সভায় জানানো হয় কেন্দ্র থেকে খুব শীঘ্রই যুবলীগের সম্মেলনের প্রস্তুতির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সূত্রমতে ২০০৫ সালে বিএনপি সরকারে থাকাবস্থায় এক সম্মেলনের মাধ্যমে আবদুল কাদিরকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদলকে সাধারণ সম্পাদক করে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের কমিটি গঠন করা হয়। সেই সম্মেলনে জাকিরুল আলম হেলালকে সিনিয়র সহসভাপতি, আসিফ হোসেন মানুকে সহসভাপতি ও শাহ নিজামকে করা হয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
এরপর প্রায় দেড় যুগ পেরিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সেই কমিটি পুনর্গঠনের কোন উদ্যোগ নেই। অথচ দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এই কমিটিগুলো তিনবছর মেয়াদী হয়ে থাকে। এরই মধ্যে জেলা যুবলীগ কমিটির দায়িত্বশীল পদে থাকা নেতৃবৃন্দও এখন আরও ভাল পদ পেয়ে উপরের পদে চলে যাওয়ায় (জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে) এই কমিটি এখন অনেকটাই অভিভাবক শূন্য হয়ে পড়েছে।
যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কাদিরকে পরবর্তীতে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এবং যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদলকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পদায়ন করা হয়। এছাড়া যুবলীগের শাহ নিজামকে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জাকিরুল আলম হেলালকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়।
এরপর থেকেই এই কমিটি একেবারে কোমায় চলে যাওয়ার অবস্থায়। কান্ডারীর অভাবে কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দও একেবারে নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েন। এর আঞ্চলিক কমিটিগুলোতেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করে। তাই নতুন করে কমিটি হওয়া এখন জরুরী হয়ে পড়েছে। এতে করে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হওয়ার পাশাপাশি পদপ্রত্যাশী নেতারাদের অপেক্ষার প্রহর গোনাও শেষ হবে।
এরই মধ্যে জেলা যুবলীগের বিভিন্ন পদে আসতে ইচ্ছুকদের তালিকায় বেশ কয়েকজনের নামও শোনা যাচ্ছে। এদের মধ্যে বেশি শোনাযাচ্ছে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হক নিপু, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট মহসিন মিয়া। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়াত আলম সানী, ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু মো. শরিফুল হক।
যুবলীগ নেতা জানে আলম বিপ্লব ও মতিউর রহমান মতি, আব্দুল মান্নান, মামুন আহমেদ ইমন ও সানোয়ার হোসেন জুয়েল, সেলিম হোসেন দিনার, আলী হোসেন সজীব, রফিকুল ইসলাম নান্নু, আলী হায়দার, মোস্তাফিজুর রহমানসহ বেশ কয়েকজনের নাম। এরা কমিটির বিভিন্ন পদে আসার জন্য আলোচনায় আছেন।
এদের অনেককেইে গত ১১ নভেম্বর শুক্রবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়া বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ৫০ বছর পুুর্তি উপলক্ষে যুব সমাবেশে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। এছাড়াও জেলা যুবলীগের কমিটির বিভিন্ন পদে আসার আলোচনায় রয়েছেন নারায়ণগঞ্জের যুবলীগের একঝাঁক নেতা।
জেলা যুবলীগের বর্তমান সভাপতি এবং জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বীল মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদির বলেন, ২০০৫ সালে জেলা যুবলীগের পদে দিলেও কমিটির অনুমোদন দিতে অনেক সময় লেগে যায়। আর অনুমোদন পাওয়ার আগ পর্যন্ত কোন কাজ করার অনুমতি থাকে না।
তাছাড়া জেলা যুবলীগের কমিটি গঠনের বিষয়টি নির্ভর করবে কেন্দ্রের উপর। তবে আমাদের উপর এখন আবার দায়িত্ব অর্পণ করেছে। এর আগে আমি দুইবার পদত্যাগ করেছি, কিন্ত সেই পদত্যাগ তারা গ্রহণ করেনি। তিনি আরও বলেন, আমি তিনটি থানা যুবলীগের কমিটি গঠন করেছি।
সেখানে কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাদলও উপস্থিত হয়নি। সেখানে সংসদ সদস্যসহ ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিল। এখন বাকি থানা কমিটির বিষয়ে চিঠি দিয়েছি, তারা সময়ও দেয় না, ফোন দিলে কোন সময় ধরে, আবার কোন সময় ধরে না। তাই ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ সদর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের কমিটি গঠন করতে পারছি না।
তাই আমি চিঠি দিয়ে জানিয়েছি যে, আমি তিনটি করেছি কিন্তু এই তিনটি আমি করতে পারছি না। তাই এখানে আপনাদের হস্তক্ষেপ করা দরকার। তিনি বলেন যুবলীগের দিকে খেয়াল নাই কারো। এখানকার অনেকেই মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে চলে গেছে।
তিনি বলেন, আমরা আজকে বন্দরে গিয়ে সেখানকার সভাপতি ও সম্পাদকসহ কলাগাছিয়া আওয়ামী লীগকে নিয়ে বসেছিলাম। এখানে একটি জটিলতা তৈরি হয়েছে, সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এক একটি ইউনিয়নে যদি নয়টি ওয়ার্ডের কমিটি গঠন করতে চাই, তাহলে অনেক সময় লেগে যাবে।
তাই এখন প্রতি ওয়ার্ডে নয়টি ওয়ার্ডের কমিটির অনুমোদন দিবে নাকি পাঁচটি ইউনিয়নের অনুমোদন দিবে সেই বিষয়গুলো নিয়ে আমরা উপরের মহলে আলোচনা করবো। তাই আগে ওয়ার্ড কমিটি হবে নাকি ইউনিয়ন কমিটি হবে সেই বিষয় নিয়ে একটি জটিলতা তৈরি হয়েছে। এন.এইচ/জেসি


