সোনারগাঁ বিএনপির কমিটি নিয়ে মান্নানের লুকোচুরি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ নভেম্বর ২০২২, ০৮:২৪ পিএম
সোনারগাঁ থানা বিএনপির এক চতুর নেতা এক সময় বদলি মান্নান হিসেবে পরিচিতি থাকলেও এখন অর্থবিত্তের বদৌলতে সোনারগাঁ থানা বিএনপির প্রভাবশালী নেতা বনে গেছেন। সেই অর্থবিত্তের প্রভাব খাটিয়ে পুরো সোনারগাঁয়ের বিএনপিকে মুঠোবন্ধি করে রেখেছেন মান্নান। যার ফলে সোনারগাঁ থানা বিএনপিতে একাই ছড়ি ঘোরাচ্ছেন মান্নান।
আর এই একক আধিপত্য সোনারগাঁ থানা বিএনপির নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতেও প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছেন মান্নান। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত সে কমিটি প্রকাশিত হচ্ছে না। আর এই কমিটি প্রকাশের জন্য দিনক্ষণ ঠিক করে বরাবরই সোনারগাঁয়ের বিএনপি নেতাদের চোঁখে ধূলা দিয়ে কখনো অযুহাত দেখোচ্ছে অথবা বিদেশ গমনে গিয়ে ঘা ডাকা দিচ্ছে মান্নান।
এতে করে সোনারগাঁয়ের তৃণমূলের নেতারা অভিযোগ করছেন যে সোনারগাঁ থানা বিএনপির পূরো কমিটিকে আবারও তার মুঠোবন্ধি করতে কমিটি নিয়ে একের পর এক লুকোচুরি খেলা খেলছেন মান্নান।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৪ জানুয়ারি সোনারগাঁ থানা বিএনপির ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। আর এই কমিটিতে আহবায়ক করা হয় সোনারগাঁ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম মান্নানকে এবং সদস্য সচিব করা হয় মোশারফ হোসেনকে। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ৩০ মার্চ সম্মেলনের মাধ্যমে আজহারুল ইসলাম মান্নানকে সভাপতি এবং মোশারফ হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে আংশিক কমিটি গঠন করা হয়।
এরপর গত ৮/১০/২২ সোনারগাঁ থানা বিএনপির ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু কমিটি গঠনের মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত প্রকাশ করতে পারেনি সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক। কমিটি প্রকাশের তারিখ নির্ধারণ করে বরাবরই সোনারগাঁ থানা বিএনপি নেতাদের ফাঁকি দিচ্ছে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক।
যার ফলে সোনারগাঁ থানা বিএনপির নবগঠিত কমিটি নিয়ে একের পর এক ধোয়াশা তৈরী হচ্ছে। আর এই ফাঁকি দেয়াসহ সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান তার একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করার জন্য মোশারফ হোসেনকে সোনারগাঁ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হওয়ার জন্য সহযোগিতা করেন। এর ফলে সোনারগাঁয়ের পুরো বিএনপিকে কুক্ষিগত করে রেখেছে একাই মান্নান।
থানা বিএনপি নেতাদের সুত্রে জানা যায়, উক্ত কমিটিতে সোনারগাঁয়ে বিএনপির অনেক প্রবীণ গুণী নেতা থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে বাদ দিয়েই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করছে। কারণ মান্নান তার একক সিদ্ধান্তে সোনারগাঁ থানা বিএনপি পরিচালিত করতে চায় যার কারণে বহু প্রবীণ নেতাদের বাদ দিয়েই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করেন। যার ফলে সোনারগাঁ থানা বিএনপি নেতাদের রোষানোল এড়াতেই কমিটি নিয়ে লুকোচুরি খেলায় লিপ্ত হয়েছে মান্নান।
আরও জানা যায়, কেন্দ্রের নির্দেশনা অমান্য করে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির পরিবর্তে থানা বিএনপির ১৬১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছিলেন মান্নান। পরবর্তীতে জেলা বিএনপি তাকে ১০১ সদস্য কমিটির অনুমোদন দেন। পরবর্তীতে এত জল ঘোলানোর পর গত ১ নভেম্বর পরিচিতি সভার মাধ্যমে কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন মান্নান।
১ নভেম্বর পরিচিতি সভার আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠিপত্র বিতরণ করেন নেতাকর্মীদের কাছে মান্নান। পরবর্তীতে মেঘনার মান্নানের নিজ বাসায় পরিচিত সভার আয়োজন করলেও পরিচিতি সভাকে কৌশল করে কেন্দ্রীয় বিএপির ১০ ডিসেম্বর মহাসমাবেশের প্রস্তুতি সভায় পরিণত করেন মান্নান।
এ সভায় মান্নান বক্তব্যে বলেন, আমি আমার দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে গতকাল রাতে ফোন করেছি। তাকে আমরা ভাইয়্যা বলি, ভাইও বলি না। এটা ছাত্রদল থেকে চলছে। আমি তাকে বলেছি, আমি সোনারগাঁ থানা বিএনপির ১৬১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি দেয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলাম। আপনি বলেছেন না, তাহলে সারা বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলায় দিতে হবে। কারণ কমিটি বড় করলেই দল শক্তিশালী হয় না। ত্যাগী নেতাদের দিয়ে তুমি কমিটি করবে।
এরপরও আমি তাকে বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিলাম। সোনারগাঁ এতবড় এলাকা। মানুষ আগ্রহী এখানে থাকার জন্য। তখন আমি উপকমিটি করার অনুরোধ করলে তিনি বললেন এটার বিধান নেই। তিনি বলেছেন নীতিনির্ধারকদের সাথে আলোচনা করে আমি তোমাদের উপদেশ দিবো। তোমরা ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ সফল করো।
পরবর্তীতে এই বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি অন্যদিকে প্রভাহিত করে অনুষ্ঠানে তার অনুগত নেতাদের দিয়ে তিনি ১০ নভেম্বর কমিটি গঠনের জন্য তারিখ দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। কিন্তু ১০ নভেম্বর কমিটি ঘোষণার তারিখ দিলেও মান্নান সোনারগাঁয়ের নেতাদের চোঁখে ধূলা দিয়ে বিদেশ চলে যান মান্নান। এতে করে সোনারগাঁ বিএনপির নেতাকর্মীরা তার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পরে।
কিন্তু মান্নানের বিরুদ্ধে সোনারগাঁয়ের বিএনপির কোন নেতা বিরুদ্ধচারণ করলেই তাকে কোনঠাসা করে ফেলা হয়। যার কারণে সোনারগাঁয়ে বিএনপি নেতারা তাকে নিয়ে কোন রকম মন্তব্য করছে না । কারণ জেলা থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত ম্যানেজ করে মান্নান পুরো সোনারগাঁ বিএনপিকে মুঠোবন্ধি করে রেখেছে।


