জেলায় গতি চায় যুবলীগ; সিনিয়ররা চান তারুণ্য এগিয়ে আসুক
লতিফ রানা
প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর ২০২২, ০১:২৫ পিএম
# যুবকদের প্রাধান্য দিয়ে কমিটি গঠনের দাবি
# কেতাবে আছে, গোয়ালে নাই, এমন যেন না হয়!!!
নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের কমিটি নিয়ে চলছে নানা মতামত। একদিকে জেলা যুবলীগের কমিটি গঠন করার পূর্বে ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও থানা কমিটিগুলোকে নতুন করে গঠন করার জন্য কেন্দ্রীয় যুবলীগের কমিটি থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন একাধিক সূত্র।
তবে এরই মধ্যে এসব বিভিন্ন সংগঠনের কমিটিগুলোর নেতৃবৃন্দ দীর্ঘদিন যাবত এইক পদে থাকার কারণে এবং বর্তমানে বয়স ও অভিজ্ঞতার কারণে যুবলীগের কমিটিতে না থেকে মূল কমিটিতে আসতে আগ্রহী হয়ে পড়েছেন। তাই এখন যুবলীগের কমিটিগুলো নিয়ে তারা বেশি একটা মাথা খাটাতে চান না বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে।
এই বিষয়ে কমিটির শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ যুবলীগের থাকতে নারাজ বলে জানালেও অসহযোগিতার বিষয়টি তারা মানতে নারাজ। থানা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে জানা যায়, যেহেতু যুবলীগ ও ছাত্রলীগ করার জন্য একটি বয়সের বাধ্যবাধকতা থাকে তাই দীর্ঘদিন যুবলীগে থেকে এখন তারা মূল কমিটিতে আসতেই বেশি আগ্রহী।
বেশিরভাগ নেতৃবৃন্দই যুবলীগের কমিটিতে থাকার বয়স নাই বলে জানান। তবে কয়েকটি থানায় ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটি গঠনের কাজ করছেন, কেউ কেউ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন আবার কেউ কেই শীঘ্রই শুরু করবেন বলে জানান।
“তবে জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কাদির যুবলীগের কমিটি গঠনের বিষয়ে থানা কমিটিগুলো বেশি একটা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না; বলে অভিযোগ করেন। এই বিষয়টি তিনি কেন্দ্রে জানাবেন বলেও জানান।”
বর্তমান জেলা ও থানা যুবলীগের কার্যক্রমের বিষয়ে জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের সভাপতি মতিউর রহমান মতি বলেন, “কেন্দ্রের কাছে আমরা নতুন কমিটি চাইতেছি, কিন্ত তারা বলতেছে এই কমিটি পরে হবে। কিছুদিন আগে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের অফিসে কেন্দ্রীয় যুবলীগের নেতৃবৃন্দ এসেছিল।
সেখানে আমাদের থানা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দকে ডাকা হয়েছিল যুবলীগের হালচাল জানার জন্য। তখন আমি বলেছিলাম আমি সিদ্ধিরগঞ্জ যুবলীগের পক্ষ থেকে এসেছি। তখন আমাকে বলেছে, এখানকার কমিটির বিষয়ে পরে আলাপ করব।
এই কমিটি মহানগরে পড়ায়, এই কমিটি নিয়ে বিশেষ একটি কথা হয়নি। তবে শীঘ্রই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে আমরা আশা প্রকাশ করি। এই বিষয়ে জেলা যুবলীগের পক্ষ হতে কোন প্রকার আলাদা কথা হয়নি বলে জানান তিনি। তবে জেলা যুবলীগের নেতৃবৃন্দকে যদি দায়িত্ব দিয়ে থাকে; তাহলে বিষয়টি খুবই ভাল।” তিনি বলেন, ‘আমিও চাই কমিটি দ্রুত সম্পন্ন হোক।’
বন্দর থানা যুবলীগের সভাপতি হাবিব আল মুজাহিদ পলু বলেন, “থানা যুবলীগের কমিটিগুলো নতুন করে গঠনের প্রক্রিয়া চলতেছে। কিছুদিন আগে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভার সময় আমাদের ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটিগুলো দ্রুত গঠন করার জন্য তাগিদ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু থানা কমিটিগুলো নিয়ন্ত্রণ করে কেন্দ্র, আর ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি নিয়ন্ত্রণ করে জেলা যুবলীগ।”
তিনি বলেন, “জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কাদির ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির পদে চলে গেছেন, অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক বাদল ভাই (ভিপি বাদল) চলে গেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে।
এর পর যদি কেন্দ্র থেকে জেলা যুবলীগের কমিটি রিনিউ করা হতো তাহলে সংগঠনটি মনে হয়ে আরও বেশি সচল থাকতো। এখন যেহেতু কেন্দ্রীয় কমিটি উদ্যোগ নিয়েছে তাই হয়তো খুব দ্রুতই বাকি থানা কমিটিগুলোসহ ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটিগুলোও খুবই শীঘ্রই গঠন করা হবে।
এরই মধ্যে আমরা ইউনিয়ন কমিটিগুলো গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। গত পরশু দিন (রোববার) আমরা একসাথে বসেছি। কমিটিগুলো গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এরই মধ্যে যুবলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতেও কিন্তু নারায়ণগঞ্জ এর বিভিন্ন থানা যুবলীগের নেতৃবৃন্দ ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে অংশগ্রহণ করেছে।”
তিনি বলেন, “আমরা যারা সিনিয়র আছি তারা এখন আর যুবলীগে থাকতে ইচ্ছে প্রকাশ করি না। এখন আমরা যোগ্যতা অনুযায়ী জেলা কিংবা মহানগরের মূল কমিটিতে চলে যাওয়ার আশা প্রকাশ করছি।
ছাত্রলীগ বলেন আর যুবলীগ বলেন, এসব কমিটিতে থাকার জন্য বয়সের একটি ব্যাপার আছে। তিনি বলেন, আমরা বন্দরের কমিটির বিষয়ে এতটুকু বলতে পারি, জেলা যুবলীগের কমিটি যে সময় যেভাবে চাইছে আমরা সেভাবেই সহযোগিতা করতেছি। আমি সর্বাত্মভাবেই সহযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত আছি। আমি আরও চাই, যুবলীগে নতুন নেতৃত্বের সুযোগ করে দিতে।”
ফতুল্লা থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাইজুল ইসলাম বলেন, “গত মাসে অনুষ্ঠিত এক বর্ধিত সভায় যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে আমাদের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে ফতুল্লা থানার পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে যে কমিটিগুলো নাই; সেগুলো গঠন করে তাদের কাছে জমা দেওয়ার জন্য।
আমরা জমা দেওয়ার পর আমাদের থানা যুবলীগের কাউন্সিল করার জন্য তারিখ দিয়ে দিবেন। এছাড়াও কিছুদিন আগে কেন্দ্রীয় এক বর্ধিত সভায় আমাদেরকে বলা হয়েছে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শেষ হওয়ার পর ইউনিয়ন কমিটিগুলো শেষ করে জমা দিতে।
এরপর আমরা প্রত্যেকটি ইউনিয়ন ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে আমরা থানা কমিটি গঠন করব। এরমধ্যে আব্দুল কাদির ও বাদল ভাইয়ের সাথে আমার কথা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের কমিটি গঠন করার বিষয়েও একটি প্রক্রিয়া চলতেছে। এই সম্মেলনটি বিশালভাবে করারও একটি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সেখানে প্রতিটি থানা থেকেই যারা তৃণমূলে ছিল এবং বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে যারা দলের হয়ে কাজ করেছেন, যারা রাজপথে সক্রিয় ছিল, যারা প্রকৃতভাবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে দীর্ঘদিন যাবত জড়িত আছে সেসব লোকজনকে নিয়েই কমিটি হবে।”
তিনি বলেন, “আমি আমাদের নেতা শামীম ওসমান ভাইয়ের নেতৃত্বে রাজনীতি করি। গত কাউন্সিলে যেখানে নানক ভাই, আজম ভাই ছিলেন, তখন তিনি চিন্তা করেছেন আমাকে ফতুল্লা থানা যুবলীগের কমিটিতে রাখলে কমিটির জন্য কাজ করতে ভাল হবে, আমাকে দিয়ে কাজ করানো যাবে এইজন্যে আমাকে থানা কমিটিতে রেখেছিলেন।
এখন যদি ওনি (শামীম ওসমান) চিন্তা করেন যে, আমাকে জেলা কমিটিতে রাখবেন তাহলে আমি জেলা যুবলীগের কমিটিতে থাকবো। বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ আমার নেতা শামীম ওসমানসহ থানা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ যে সিদ্ধান্ত নিবেন; আমি সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই কাজ করব।”
তিনি বলেন, “কাদির ভাই এবং বাদল ভাইয়ের নেতৃত্বেই আমরা যুবলীগের কাজ করে যাচ্ছি। কাদির ভাই যখনই আমাকে ডাকছেন, তখনই আমি হাজির হওয়ার চেষ্টা করেছি। আগামী সপ্তাহ থেকে আমাদের কমিটি গঠনের কাজ আবারও মাঠ পর্যায় থেকে শুরু হবে।”
সদর থানা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এসটি আলমগীর বলেন, “আমাদের বয়স হয়েছে এখন ৫৮ চলতেছে, আমরা আর কত যুবলীগ করবো। আমি সদর থানা যুবলীগের সহ-সভাপতি ছিলাম। আমাদের সভাপতি ফুটবলার সালাহউদ্দিন ভাই মারা যাওয়ার কারণে আমি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে আছি।”
তিনি বলেন, “এখনতো এই কমিটি নতুনদের জন্য ছেড়ে দিতে হবে, এখানে নতুন নেতৃত্ব আসবে। আমরাও যোগ্যতা অনুযায়ী জেলা কমিটিতে প্রবেশের আশা প্রকাশ করতেছি। আমরা দীর্ঘদিন যাবত এই কমিটির দায়িত্ব আছি, এখন নতুনদের সুযোগ করে দেওয়া দরকার।
এখন আমরা জেলা যুবলীগের নেতৃবৃন্দের সাথে উপস্থিত থেকে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটিগুলো করে দেওয়ার চেষ্টা করতেছি। তারপর সবাই মিলে থানা কমিটি তৈরি করে দেওয়ার চেষ্টা করবো। তবে বর্তমান সাধারণ সম্পাদকসহ আমরা যারা সিনিয়র আছি তাদের এখন আর থানা কমিটিতে থাকার বয়স বা ইচ্ছে নেই।”
তিনি বলেন, ‘আমাদের এই থানা কমিটি ২০০১ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে গঠন করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, “কেন্দ্রীয় যুবলীগের পক্ষ হতে আমাদের ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনের জন্য একমাসের সময় দিয়েছিল। আমরা সেই হিসেবে ওয়ার্ড কমিটিগুলো গঠন করেছি, এখনও ইউনিয়ন কমিটি গঠন করা বাকি আছে।
তবে আমরা সবার সাথে যোগাযোগ করে, যারা থানা যুবলীগের কমিটিতে আসতে আগ্রহী; তাদের সাথে কথা বলা শুরু করে দিয়েছি। এখন একটি তারিখ দিয়ে ইউনিয়নের কমিটি গঠন করা হবে। এখানে আমাদের কোন অলসতা নেই। তবে যুবলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আমাদের কিছুদিন সময় ব্যয় হয়েছে।” এন.এইচ/জেসি


