Logo
Logo
×

রাজনীতি

সায়েম-মাহাবুবের অযোগ্য নেতৃত্বেই যত বিপত্তি!!

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর ২০২২, ০১:৪৫ পিএম

সায়েম-মাহাবুবের অযোগ্য নেতৃত্বেই যত বিপত্তি!!
Swapno


# জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলে বিশৃঙ্খলার নেপথ্যে তারা

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলে সায়েম-মাহাবুবের দ্বিমুখী নেতৃত্বের কারণে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিভক্তিতে জর্জরিত হয়ে আছে। যার ফলে তাদের অযোগ্য নেতৃত্বের ফলে সংগঠনটি আন্দোলন সংগ্রামে তাৎপর্যপূর্ণ কোন ভূমিকা রাখতে পারছে না। এছাড়া সায়েম-মাহাবুবের বিরোধের চিত্রটি এখন প্রকাশ্যেই চলে এসেছে।

 

 

দলীয় আন্দোলন সংগ্রামেও তাদের ভূমিকা নিয়ে সন্তুষ্ট না নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা। কারণ সায়েম জেলা বিএনপির শীর্ষ পদ ভাগাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন এবং মাহাবুব ফের জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি পদে হয়ে আসতে মড়িয়া হয়ে উঠেছে।

 

 

যার কারণে ছন্নছাড়া অবস্থায় পড়ে গিয়েছে জেলা স্বেচ্ছাসেবকদল। এ থেকে পরিত্রান পেতে শীঘ্রই জেলা স্বেচ্ছাদলের নতুন কমিটি চাচ্ছে জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতারা।

 

 

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৬ জুন নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আংশিক কমিটি গঠন করা হয় সেখানে সভাপতি করা হয় আনোয়ার সাদাত সায়েমকে সাধারণ সম্পাদক করা হয় মাহাবুব রহমানকে। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর ১৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়।

 

 

কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটির গঠন প্রক্রিয়ার পর থেকেই সভাপতি সায়েম ও সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবের বিরোধের চিত্র লক্ষ্য করা যায়। এক পর্যায়ে তাদের বিরোধের কারণে জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের কমিটি দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং সংগঠনটি সাংগঠনিকভাবে দূর্বল হয়ে পড়ে।

 

 

পরবর্তীতে থানা পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবকদলের কমিটি গঠন করা হলে তাদের চোঁখ পড়ে থানা পর্যায়ে নেতাদর দিকে। থানা স্বেচ্ছাসেবকদলের কমিটিগুলো কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতাদের দ্বারা গঠিত হলেও কমিটি গঠনের পর থানা পর্যায়ের শীর্ষ পদে থাকা নেতাদের নিয়ন্ত্রেণে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠে সায়েম-মাহাবুব।

 

 

পরবর্তীতে সায়েম-মাহাবুব তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ণ করতে সফল হয় বর্তমানে প্রতিটি থানা কমিটির আহবায়ক এবং সদস্য সচিব কেউ সায়েমের নেতৃত্বে অথবা মাহাবুবের নেতৃত্বে রাজনীতি করছেন। এছাড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সংগঠন পরিচালনায় রয়েছে চরম ব্যর্থতা সায়েম-মাহাবুবের।

 

 

এছাড়া পূর্ণাাঙ্গ কমিটি গঠনের পর একাধিকবার কর্মী সভা করতে ব্যর্থ হয়েছেন; জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক। জানা যায়, রূপগঞ্জে সভাপতি-সেক্রেটারির বাড়ি হওয়ার কারণে তারা তাদের নিজ এলাকার ভিতরে স্বেচ্ছাসেবকদলের কর্মী সভা করতে গিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন।

 

 

শুধু তাই না সোনারগাঁও একাধিকবার কর্মীসভার আয়োজন করেও তা করতে পারেনি তারা। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে প্রশাসনকে দোষারোপ করে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মৌখিকভাবে জানান তারা। মূলত তাদের দ্বিমুখী নেতৃত্বে সায়েম-মাহাবুবের স্বেচ্ছাসেবকদলের কর্মীসভা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

 

 

এছাড়া তাদের বিভক্তি সম্পর্কে রূপগঞ্জের স্থানীয় নেতাদের সূত্রে জানা যায়, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি সায়েম মূলত দিপু ভূইয়ার হাত ধরে রাজনীতি করেন এবং তার ইশারায় জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলকে পরিচালিত করেন।

 

 

অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী মনির বলয়ে রাজনীতি করেন আর কাজী মনিরের নির্দেশেই তার রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করেন।

 

 

কারণ রূপগঞ্জে দিপু এবং কাজী মনিরের আলাদা বলয় আর জেলা স্বেচ্ছাসেকদলের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক দুজন নেতাই দিপু-কাজী মনিরের আলাদা বলয়ের। এর ফলেই তাদের মধ্যে আভ্যন্তরীণ কোন্দলটা বেশি প্রকাশ পায়।

 

 

এছাড়া জেলা বিএনপিতে কালো শক্তি হিসেবে পরিচিত আড়াইহাজারের নজরুল ইসলাম আজাদের আর্শীবাদও সায়েম-মাহাবুবের মাথার উপর রয়েছে। যার কারণে সায়েম-মাহাবুব বেপড়োয়াভাবে জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলকে পরিচালনা করছেন।

 

 

কিন্তু স্বেচ্ছাসেবকদলের ব্যর্থতার পর এবার জেলার বিএনপির শীর্ষ পদে আসার খায়েশ জেগেছে জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি সায়েমের। খায়েশ জাগলেও সেটা পূরণ হওয়ার সম্ভবনা খুবই ক্ষীণ; কারণ সে জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতৃত্ব দিতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। যার ফলে সায়েমের উপর সন্তুষ্ট জেলার শীর্ষ নেতারা।

 

 

অপরদিকে জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি পদে আসতে ফের মরিয়া হয়ে উঠেছে মাহাবুব। কিন্তু সে জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি প্রার্থী হলেও তাকে জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতারা পূণরায় সভাপতি দেখতে চায় না। কারণ সে ইতিমধ্যেই রূপগঞ্জ থানা বিএনপির যুগ্ম  আহবায়ক পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

 

সে মূল দলের দায়িত্ব পালন করেও জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি হতে চায়। এছাড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের রাজনীতিতে গ্রুপিং সৃষ্টের ক্ষেত্রে তার ভূমিকাই ছিল সবচেয়ে বেশী। যার কারণে জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতারা পূণরায় তাকে নেতৃত্বে দেখতে চায় না। এন.এইচ/জেসি 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন