Logo
Logo
×

রাজনীতি

কঠিন অঙ্কে শামীম ওসমান

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর ২০২২, ১১:০০ এএম

কঠিন অঙ্কে শামীম ওসমান
Swapno


 # জেলা কমিটির নেতৃত্বে না আসায় হতাশ শামীম শিবির

# এই গিয়াস উদ্দিনের কাছেই প্রথম হারের স্বাদ পান তিনি

# গিয়াসের কামব্যাকে হতাশ শামীম ভক্তরা

# ওনারা নিজেদের ঘর গোছাতেই ব্যস্ত : লুৎফর রহমান খোকা
 

জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের পূর্বে দীর্ঘ একটি সময় জুড়ে আলোচনায় ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। শামীম ওসামানের আলোচনা শুধু ভক্তদের মুখেই নয়, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীসহ রাজনীতির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমের সংবাদের কেন্দ্রবিন্দুতেও ছিলেন শামীম ওসমান।

 

কমিটির নেতৃত্বে শামীম ওসমান আসছে বলে কেউ কেউ ধারণা পোষণ করেছেন, কেউবা বলছেন নেতৃত নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সর্বোচ্চ মহলে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন শামীম ওসমান। যদিও সম্মেলনের আগে অনুষ্ঠিত এক প্রস্তুতি সভায় কমিটির কোন পদে না থাকার গ্যারান্টি দিয়েছিলেন শামীম ওসমান।

 

 

অনেকেই ধারণা করেন নেতৃত্বের বিষয়টি বুঝতে পেরে আগেই তিনি কোন পদে না আসার বিষয়টি কনফার্ম করেছেন। তবে সম্মেলনের পর শামীম ওসমান নেতৃত্বে না আসায় হতাশ হয়েছেন শামীম শিবির। তাদের ধারণা এবার জাতীয় নির্বাচনে যদি বিএনপি অংশগ্রহণ করে তাহলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার আর সুযোগ থাকছে না।

 

 

অন্যদিকে গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মুফতী মনির হোসেন কাশেমীর মতো কোন প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে যে রকম হিসাব হবে, তার জায়গায় শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলে হিসেবে অনেক কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছিলেন তারা।

 

 

একদিকে দলীয় কোন্দল, অন্যদিকে শক্ত প্রতিপক্ষ তাই শামীম ওসমানের নির্বাচনের অংকটা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন তারা। তবে শামীম ওসমান এবার সেই কঠিন অংকের গ্যাঁড়াকলে পড়ছেন বলেই মনে হচ্ছে বোদ্ধামহলের।

 

 

গত ১৫ নভেম্বর বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিনকে জেলা বিএনপির আহবায়ক হিসেবে ঘোষণা করায় শামীম ওসমানকে নতুন করে হিসেবে মিলেতে হবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক মহল।

 

 

এই গিয়াস উদ্দিনের কাছেই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের জাঁদরেল নেতা শামীম ওসমানের নিকট সর্বপ্রথম হারের স্বাদ পেতে হয়েছিল। তারপর হার মানতে হয়েছিল নিজ দলীয় নেত্রী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে।

 

 

তাছাড়া নেতা হওয়া বা কমিটি পরিচালনা করার যতটা না কঠিন, তার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন জন সমর্থন নিয়ে জনপ্রতিনিধি হওয়া, যা সবার পক্ষে সম্ভব না।

 

 

বিরাট সমর্থক গোষ্ঠী গড়ে তোলা এবং জনগণের সমর্থন আদায় করার গুনটি যেমন শামীম ওসমানের আছে, তেমনি সাবেক এমপি গিয়াসও এই গুনটির অধিকারী। তাই এবার নির্বাচন সেয়ানে সেয়ানে হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা।

 


 
ওসমান পরিবারের প্রভাবশালী নেতা আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান ভক্তদের ধারণা ছিল রাজনীতিতে সবকিছুকে জয় করার জন্যই তার জন্ম। এমনকি ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়ে লংমার্চের ডাক দেয় ৭ দলীয় জোট।

 

 

১৯৯৮ সালের ৯ জুনে যখন তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে লংমার্চের বহরটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চিটাগাং রোড এলাকায় প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়।

 

 

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের নেতৃত্বে সেই লংমার্চকে প্রায় ১২ ঘন্টা আটকে রাখা হয়। এরপর দলীয় নির্দেশে সেই লংমার্চের অবরোধ সরিয়ে নেন শামীম ওসমান। আর সেই থেকেই তিনি গডফাদার খেতাব লাভ করেন, বলে জানিয়েছিলেন শামীম ওসমান।

 

 

তবে সিংহ পুরুষ খ্যাত এই বীর নেতা গত ২০০১ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজয়ের স্বাদ গ্রহণ করেন তখন আওয়ামী লীগ থেকে সদ্য যোগদান করে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হওয়া গিয়াস উদ্দিনের কাছে। এরপর থেকেই গিয়াস উদ্দিনের প্রতি আওয়ামী লীগের এই আসনের কর্মী ও সমর্থকদের এক ধরণের ভয় কাজ করে।

 

 

দীর্ঘদিন রাজনীতি থেকে নিজেকে দুরে সরিয়ে রাখায় এই এলাকার অনেক নেতাকর্মীরা স্বস্তি বোধ করছিলেন বলেও জানা যায়। অনেকে আবার মনে করেন গিয়াসকে বিএনপির রাজনীতি থেকে সরিয়ে রাখতে বিভিন্ন কৌশলও অবলম্বন করেন শামীম ওসমান।

 

 

দলীয় কমিটিতে নাটক সাজানোর অভিযোগও আসে বারবার। বিভিন্ন ইস্যুতে বিএনপির বিভিন্ন কমিটিতে শামীম ওসমানের অস্তিত্বের বিষয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মুখেও বক্তব্য শোনা যায়। শামীম ওসমান বিএনপির বিভিন্ন বিষয়ে কলকাঠি নাড়েন বলেও তাদের বক্তব্যে প্রকাশ পায়।

 

 

তবে সাবেক এমপি গিয়াসের বিএনপির কমিটিতে রাজকীয় প্রবেশে অনেকটাই হতাশ আওয়ামী লীগের শামীম ভক্তসহ বিএনপিতে লুকিয়ে থাকা শামীম অনুসারীরাও।

 

 

একদিকে শামীম ওসমানের আওয়ামী লীগের জেলা কমিটির নেতৃত্ব হাতছাড়া অন্যদিকে গিয়াসের বিএনপির জেলা কমিটির নেতৃত্বে আসা। তাই এবার নির্বাচনে শামীম ওসমানের সমীকরণই পাল্টে যাচ্ছে বলে মনে করেন তারা।


 


এসব বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির নবগঠিত আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক লুৎফর রহমান খোকা জানান, “গিয়াস উদ্দিন বিএনপির ঘরের মানুষ, তাই তিনি বিএনপির কাঠামোতে থেকেই রাজনীতি করবেন।

 

 

কেউ যদি আমাদের (বিএনপিকে) চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে চায়, আমরাও সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করব। বিএনপির এই নতুন কমিটিসহ সব নেতাকর্মীরই এটা দায়িত্ব। তিনি বলেন, শামীম সাহেব এখন আর সেই রকম চ্যালেঞ্জ গড়ে তুলতে পারবে না।

 

 

বিএনপি এখন অনেক অগ্রগামী, বাংলাদেশের মানুষ এখন সবাই বিএনপির নেতৃত্বে একীভূত হয়েছে। ওনারা এখন নিজেদের ঘর গোছাতেই ব্যস্ত থাকবেন। আমি মনে করি না, আমাদের জন্য সামনে একটা কঠিন কিছু অপেক্ষা করতেছে।

 

 

ওনারা নিজেদের অবস্থান নিজেরাই নাজুক করেছেন। এ সরকার এদেশের মানুষকে মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে ভুগিয়েছে। তারা ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াবে বলেছিল, ঘরে ঘরে চাকরি দেওয়াসহ শতভাগ বিদ্যুত থাকার ঘোষণা দিয়েছিল।

 

 

এর কোন বাস্তবায়ন করতে পারেনি, যা জনগণের সাথে প্রতারণার শামিল। এখন তাদের ঘর ঘোছানোর সময়। তাদের এই হুংকার আমরা থোরাই কেয়ার করি। জনগণ এখন বিএনপির সাথে থাকায় বিএনপির শক্তি সামনে শুধু তরান্বিতই হবে।

 

 

এই বিচার আমরা জনগণের উপরই ছেড়ে দিয়েছি। আমি মনে করি দেশের মানুষ একটি নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করবে। তারা ১০ থেকে ১৫টি আসন পাবে।

 

 

আর যদি নির্বাচন নিয়ে তারা কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনার সৃষ্টি করে তাহলে বিষয়টি অনেক দুর পর্যন্ত এগিয়ে যাবে। এখন বিএনপি নেতৃবৃন্দকে দমিয়ে রাখা যাবে না। তারা যেহেতু একবার মরতে শিখেছে, এখন আর তারা পিছু হটবে না।” এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন