# নতুনভাবে কমিটিগুলো হলে সেগুলোও চাঙা হবে : আনোয়ার হোসেন
# কেন্দ্রীয় নির্দেশনা নেই : আরজু ভূঁইয়া
# আমাদের নেতার নির্দেশে নতুন করে কার্যক্রম শুরু করছি : শাহ্ নিজাম
# আমাদের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চলমান আছে : সাজনু
গত ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হলো জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। সেই সম্মেলনের আগে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে এবং আরো বেশ কিছু ইস্যু নিয়ে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে বেশ তৎপর থাকতে দেখা গেছে। কিন্তু সম্মেলনের ঠিক পর মুহুর্তে থেকেই যেন নীরব হয়ে গেছেন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।
মাঠে, রাজপথে কিংবা কার্যালয়ে, কোন জায়গায়ই তাদের কোন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বলে সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে। অন্যান্য দলগুলোর যখন মাঠে সরব উপস্থিতি ঠিক তখনই কেন ক্ষমতায় থাকা এই দলটির নারায়ণগঞ্জের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেল; কেন সেই বিষয় নিয়ে রয়েছে নানা মতামত।
অথচ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দু’দিন পর ২৫ অক্টোবর মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তা নির্দিষ্ট তারিখে করা সম্ভব হবে না বলে; জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দিন জানিয়ে দেওয়া হয়।
তবে কবে নাগাদ হবে কিংবা আদৌ হবে কি না তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। অন্যদিকে জেলা কমিটিতে আগের কর্ণধারদেরই নতুন করে বহাল রাখা হয়েছে। যা মহানগর কমিটিতেও হতে পারে বলে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
এই মুহর্তে নেতৃত্ব নিয়ে টানাটানি করার সম্ভাবনা খুব কম বলে জানান তারা। এজন্য হয়তো পুরানো কমিটিতেই ভরসা করবে কেন্দ্র। তাই এতদিন সম্মেলনে নিজেদের পদের জন্য লড়াইয়ে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের বেশি তৎপরতা ছিল বলেও মনে করেন অনেকে।
এখন যেহেতু সেই সম্ভাবনা শেষ তাই হয়তো তাদের সক্রিয়তাও কমে গেছে। তাছাড়া সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ও তার পাশাপাশি সময় আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকটি সহযোগেী সংগঠনের কমিটি ভেঙ্গে দেওয়া হয়।
সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনগুলোর মেয়াদ শেষ হয়েছে দীর্ঘ বছর পার হয়েছে। এতে করে পুরানোরা আর এই একই কমিটিতে থাকতে চান না, অন্যদিকে নতুনদের আসার জন্যও কোন সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে না।
এতে করে কমিটির নেতৃবৃন্দের মধ্যে অনেকটা ঝিমে বা ঢিলেভাব চলে এসেছে বলেও মনে করেন রাজনৈতিক মহল। তাই সবকিছু মিলিয়ে এখন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের মধ্যে একটি স্থবিরতা বিরাজ করছে বলে মনে করেন তারা।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন জানান, “নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ চাঙা আছে। কেন্দ্রে নতুন করে সম্মেলন হতে যাচ্ছে, সেসব সম্মেলন হওয়ার পর সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন হবে। এখন সহযোগী সংগঠনগুলো প্রায় নাই বললেই চলে।
দলীয় কার্যক্রম না করার অভিযোগে বেশ কয়েকটি সহযোগী কমিটি ভেঙেও দেওয়া হয়েছে। এখন কেন্দ্রীয় সম্মেলনের পর জেলা কমিটি এবং বিভিন্ন সংগঠনের সম্মেলনগুলো করবে, তখন নতুনভাবে কমিটিগুলো হলে সেগুলো চাঙা হবে।”
জেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম বলেন, “সম্মেলনের বিষয়ে কেন্দ্র থেকে একটি নির্দেশনা ছিল। সেই নির্দেশনা মোতাবেক জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেছে। কিন্তু সম্মেলন পরবর্তীতে রাজনৈতিক কর্মসূচীর বিষয়ে জেলা বা মহানগর আওয়ামী লীগের জন্য কেন্দ্র থেকে তেমন কোন নির্দেশনা আসেনি।
তাই এখন তেমন কোন কর্মসূচী পালন করতে দেখা যাচ্ছে না। তবে বিষয়টাকে অন্যভাবে দেখার কোন সুযোগ নেই। তবে আমাদের রাজনৈতিক মুরুব্বি, পথ-প্রদর্শক কিংবা আদর্শ আমাদের জননেতা একেএম শামীম ওসমান সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনকে নির্দেশনা দিয়েছেন, আমরা যেন প্রত্যেক ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রোগ্রাম করি।
সেই ধারাবাহিকতায় আমরা আগামী কাল থেকে কুতুবপুর ৫নং ওয়ার্ডে প্রোগামের মাধ্যমে কাজ শুরু করতেছি। এখন কুতুবপুরের ওয়ার্ডগুলোতে পরে ফতুল্লাসহ বিভিন্ন এলাকায় এই কর্মসূচী শুরু হবে। আমাদের যেখানে প্রত্যাশা ছিল জেলা আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্ব আসবে।
কিন্তু কেন্দ্র থেকে কিন্তু আগের কমিটিকেই বহাল রেখেছে। সামনে হয়তো মহানগরের আগের কমিটিই বহাল রাখবে। আবার কেন্দ্র যদি মনে করে পরিবর্তন করবে তাহলে হয়তো পরিবর্তনও করবে সেটা সম্পুর্ণ নির্ভর করবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপর।”
জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি আরজু রহমান ভূইয়া এই বিষয়ে বলেন, “কেন্দ্র থেকে কি আওয়ামী লীগের কোন কর্মসূচী আছে? কেন্দ্রীয়ভাবে যদি আওয়ামী লীগের কোন কর্মসূচী না থাকে তাহলে এখানে আওয়ামী লীগের কর্মসূচী কীভাবে হবে? কেন্দ্রীয় নির্দেশনাতো থাকতে হবে।
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ সম্মেলনের মাধ্যমে আগের কমিটির সভাপতি ও সম্পাদককে বহাল রেখেছেন, কারণ তারা মনে করেছেন তারা যোগ্য। তবে এখন কার্যক্রম কেন হচ্ছে না তা বুঝবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। এখন আওয়ামী লীগের যেহেতু কোন কর্মসূচী নাই সেহেতু এখানে কর্মসূচী পালন করার বিষয়টি কীভাবে আসবে।
কেন্দ্র থেকে যদি নির্দেশনা থাকতো যে, মাঠে থাকতে হবে, কর্মসূচী করতে হবে, তাহলে একটা কথা ছিল। যেহেতু জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি এখনও হয়নি এবং এই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতেও সময়ের প্রয়োজন। তাছাড়া মহানগর কমিটির বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি এবং ওয়ার্ড কমিটিগুলোও গঠন করা হয়নি। এসকল বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও অবগত আছেন।
জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের বিষয়েও কেন্দ্রীয় কমিটির সাথে আলাপ আলোচনার প্রয়োজন আছে। এমনিতেই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব-বিভক্ত আছে বলে বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সামনে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কনফারেন্স আছে, তখন নির্দেশনা দিবে যোগদান ও প্রয়োজনীয় কর্মসূচীর বিষয়ে তখন আবার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বেড়ে যাবে।”
নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়া সাজনু বলেন, “আমরা যুবলীগের পক্ষ হতে ঢাকার সমাবেশে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সহিত অংশগ্রহণ করেছি বিভিন্ন জায়াগায় বৃক্ষরোপণ করতেছি। আমাদের কর্মসূচী চলমান আছে। বিশেষ করে আমাদের মহানগর যুবলীগের কর্মসূচী চলমান আছে।
আমাদের প্রতি নির্দেশ আছে প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী পালন করার জন্য, আমরা সেই নির্দেশ মোতাবেকই কাজ করে যাচ্ছি।” তিনি বলেন, “বছরব্যাপী আমাদের এই কর্মসূচী চলবে। এছাড়াও আমাদের বিভিন্ন কর্মসূচী আছে। কেন্দ্র থেকে যখনই আমাদের কোন কর্মসূচীর নির্দেশ দিবে তখনই আমরা সেই নির্দেশনা মোতাবেক কর্মসূচী পালন করব।” এন.এইচ/জেসি


