# দুই দলই পকেট কমিটি থেকে বেরিয়ে আসছে
রাজনীতি এবং তার বাহিরে বিভিন্ন সময় নানা ইস্যুতে সারা দেশে আলোচনায় থাকেন। তা পজিটিব কিংবা নেতিবাচক হোক। তবে সারা দেশে রাজনৈতিক দল গুলো নারায়ণগঞ্জকে বিশেষ ভাবে নিয়ে থাকেন। কেননা দেশের অর্ধেক জেলা যোগাযোগ ব্যবস্থা নারায়ণগঞ্জের সাথে সংযোগ রয়েছে।
এছাড়া ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এবং দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি আন্দোলন সংগ্রামে এই জেলাকে বেছে নেন। সাংগঠনিক ভাবেও এখানে একে অপরকে দূর্বল করে নিজেকে শক্তিশালী করতে চায়। ইদানিং আওয়ামী লীগ যেমন সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী হচ্ছে তার বিপরীতে বিএনপিও পিছিয়ে নেই। তারা কমিটি গঠনের মাধ্যমে শক্তিশালী হচ্ছে।
এদিকে দেখা যায়, ফতুল্লার ইউনিয়ন গুলোতে ওয়ার্ড পর্যায়ে আওয়ামী লীগ শক্তিশালী কমিটি গঠন করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে সংগঠনকে শক্তিশালীতে রূপ নিচ্ছে বলে আওয়ামী লীগ নেতাদের মন্তব্য। অপর দিকে জেলা মহানগরে নতুন কমিটি পাওয়ায় তারাও কোন অংশে পিছিয়ে নেই। ইাতোমধ্যে মহানগর বিএনপি ইউনিয়ন পর্যায়ে সম্মেলনে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন শুরু করেছে।
যা রীতিমত রাজনৈতিক মহল বিরল হিসেবে দেখছে। কেননা বিএনপি দীর্ঘ দিন যাবৎ ক্ষমতার বাইরে রয়েছেন। এছাড়া মামলা হামলায় ঠিক মত বাড়িতে পর্যন্ত থাকতে পারেন না বিরোধী দলের নেতারা। সেই জায়গায় আজকে তারা ভোটের মাধ্যমে ইউনিয়নে নেতা নির্বাচিত করছেন। সাংগঠনিক তৎপরতার মাধ্যমে দুই দলের নেতা কর্মীরাও উজ্জীবিত হচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানাযায়, শনিবার বিকেলে সদর উপজেলার দুই ইউনিয়নের দুই দলের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ফতুল্লার এনায়েতন নগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তার বিপরীতে গোগনগর ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তবে বিরল দৃষ্টান্তের বিষয় হলো এখানে কোন পকেট কমিটি হয় নাই। সরাসরি কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমে কমিটির নেতা নির্বাচিত হয়েছে।
এনায়েত নগর ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। সভাপতি পদে প্রতিযোগিতা করেন ইউসুফ আলী মল্লিক ও করিম মন্ডল। সাধারণ সম্পাদক পদে লড়াই করেন জাহাঙ্গীর আলম জুয়েল ও ওয়ালি উদ্দিন ওলিদ। তার মাঝে ১৭৩ জন ভোটার তাদের ভোট প্রয়োগ করে সভাপতি পদে ১৩৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন ইউসুফ আলী মল্লিক। আর সাধারণ সম্পাদক পদে ১১০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন জাহাঙ্গীর আলম জুয়েল।
এছাড়া এর আগে এনায়েত নগর ইউনিয়নের আর কয়েকটি ওয়ার্ডে ভোটের মাধ্যমে সভাপতি সেক্রেটারি পদে নেতা নির্বাচতি হন। তার আগে তাদের মাঝে সমঝোতা করে নেয়ার জন্য সময় দেয়া হলে তারা তখন কেউ কাউকে ছাড় না দেয়ায় পরে দুটি পদেই ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়।
তবে এই পদ্ধতিতে একটু সময় বেশি লাগলেও তৃণমূল নেতা কর্মীরা তা সতস্ফুর্ত ভাবে গ্রহন করছেন নির্বাচন পদ্ধতিকে। তাছাড়া কমিটি গুলোও শৃ্খংলা ভাবে হচ্ছে। নেতারাও একে অপরকে সানন্দে অভিনন্দন জানিয়ে কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার জানাচ্ছেন। নেতা কর্মীরাও এমনটাই চেয়েছেন।
অপর দিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আওতাধীন গোগনগর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটির ত্রি বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এখানেও কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমে গোগনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদে আক্তার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক পদে জাহাঙ্গীর হোসেন নির্বাচিত হন। গোগনগর ইউনিয়নের সম্মেলনে ১২৬ জন ভোটারের মধ্যে ১২১ জন ভোট প্রয়োগ করেন। ভোটে আক্তার হোসেন সভাপতি ও জাহাঙ্গীর আলম মিয়াজী সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হোন।
সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন মোক্তার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন আইয়ুব আলী। বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হোন মঈনুল হাসান লিমন। তাদের মাঝেও তুমুল লড়াই হয়। দীর্ঘ দিন ক্ষমতার বাহিরে থেকে আজকে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠন করায় ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ে নেতা কর্মীরা জাগ্রত হয়ে উঠেছে। সেই সাথে নতুন কমিটির মাধ্যমে ওই ইউনিয়নে বিএনপি শক্তিশালী হয়ে উঠবে বলে আশাবাদী নেতা কর্মীরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদরে মতে, ক্ষমতাসীন দল এবং বিরোধী দলের তৃনমূলে যেভাবে ভোটের মাধ্যমে গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নেতা নির্বাচিত হচ্ছে তা রাজনীতিতে মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মনে করেন নেতা কর্মীরা। এছাড়া রাজনৈতিক বোদ্ধ মহলের মতে এটা বিরল দৃষ্টান্ত। একই ভাবে যেন জেলা মহানগরে নেতা নির্বাচন করা হয় সেই প্রত্যাশা করেন রাজনৈতিক বোদ্ধ মহল।
এনায়েত নগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ত্রি বার্ষিক সম্মেলন নিয়ে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী বলেন, আমাদের দলের মাঝে একে অপরের মাঝে প্রতিযোগিতা থাকতে পারে কিন্তু প্রতিহিংসা নেই। তাছাড়া নেতা কর্মীরা যেই ভাবে শংখল ভাবে ভোটের মাধ্যমে তাদের পছন্দ মত নেতা নির্বাচন করেছে এতে করে দল শক্তিশালী হয়ে উঠছে বলে আমি আশাবাদি।
সেই সাথে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যারা নেতৃত্বে আসছে তারা একে অপরে মিলে মিশে কাজ করার অঙ্গীকার করছে। সেই সাথে এমপি শামীম ওসমানের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করে তুলছে এই তৃনমূল নেতারা। আমরা এনায়েত নগরে ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করায় কর্মীরাও উজ্জীবিত হচ্ছে।
এনায়েত নগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নব নির্বাচিত সভাপতি ইউসুফ আলী মল্লিক জানান, আমাদের মাঝে প্রতিযোগিতা থাকতে পারে কিন্তু প্রতিহিংসা নয়। আমরা সকলকে নিয়ে মিলে মিশে দলীয় কমসূচি পালন করে যাবো। তাছাড়া আমাদের সাংসদ শামীম ওসমানের নির্দেশে ফতুল্লা থানার কর্ণধার বাদল শওকতের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তুলবো। তার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
অপরদিকে গোগনগর ইউনিয়নের বিএনপির ত্রি বার্ষিক সম্মেলনে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এইচ মামুন বলেন, বিএনপি দীর্ঘ দিন ক্ষমতার বাহিরে থাকলেও মানুষের মনের কোঠায় ঠিকই আছে। কেননা মানুষ এখন বিএনপি সরকারকে চায়। তাছাড়া বিএনপি অতীতের চেয়ে এখন সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে আমরা গোগনগরে ভোটের মাধ্যমে এই ইউনিয়নের নেতা নির্বাচন করে কাউন্সিলরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। যা রাজনীতিতে বিরল হয়ে থাকবে।
মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, বিএনপির জনসমুদ্র দেখে দিশেহারা হয়ে গেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। বিএনপির চলমান আন্দোলনে জনগণের সম্পৃক্ততা এখন চোখে পড়ার মতো। আমাদের এভাবেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে, তবেই এই সরকারের পতন সম্ভব।
ক্ষমতাসীনদের সকল বাধা উপেক্ষা করে আগামী ১০ ডিসেম্বর সমাবেশ সফল করতে হবে। সরকার পতন না করে সেদিন আমরা কেউ ঘরে ফিরে যাব না। এখানে যারা কমিটি নেতৃত্বে আসবেন তারা আগামীতে বিএনপি শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তুলবেন। সেই সাথে একই দলের মাঝে যেহেত প্রতিযোগিতা তাই সকলে মিলে মিশে কাজ করবেন।


