# কমিটি নিয়ে আখের গুছিয়ে চুপচাপ বলছে তৃণমূল
অনেকটা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি যেন রক্ষা পেল, এমন মন্তব্য রাজনৈতিক সচেতন মহলের। গত ১০ নভেম্বর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি গিয়াস উদ্দিন। তার সাথে অন্যতম সহযোগি হিসেবে সদস্য সচিব পদে দায়িত্ব পেয়েছেন জেলা গোলাম ফারুক খোকন।
তাদের নেতৃত্বে বিএনপি শক্তিশালী হিসেবে গড়ে উঠবে বলে মন্তব্য নেতা কর্মীদের। এছাড়া বিএনপির ছাড়া ক্ষমতাসীন দলের নেতারাও এখন বিএনপিকে নিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন। কেননা এখানে সাবেক এমপি জেলা বিএনপি’র দায়িত্ব পেয়েছেন।
এছাড়া তিনি এর আগে আওয়ামী লীগে দক্ষতার সাথে নেৃতত্ব দিয়েছেন। কিন্তু সাবেক সাংসদ জেলার দায়িত্ব পাওয়ায় বিএনপি’র, একাধিক নেতা ব্যকফুটে রয়েছেন বলে জানান তৃনমূল নেতা কর্মীরা।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, অলিখিত ভাবে জেলা বিএনপির কমিটি গঠনে প্রভাব বিস্তার করেছে, কেন্দ্রীয় বিএনপির আর্ন্তাজাতিক বিষয়ক সম্পাক ও আড়াই হাজার বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম আজাদ এমন অভিযোগ রয়েছে। একই সাথে তার শিষ্য মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মমত্জা উদ্দিন মন্তু এবং সদস্য সচিব মনিরুল ইসলাম সজলের বিরুদ্ধেও কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।
তাই বলা হচ্ছে গুরু যেমন শিষ্য তেমন। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতা কর্মীদের কাছে নজরুল ইসলাম আজাদের পরিচয় ‘কমিটি মেকার’। কমিটি গঠনের সময় হলেই নজরুল ইসলাম আজাদ পদ-পদবি কেনাবেচার দোকান খুলে বসেন।
এবার গিয়াস-খোকন জেলা বিএনপির দায়িত্ব পাওয়ায় বিএনপি নেতা আজাদ ব্যকফুটে রয়েছে বলে মনে করে খোদ নিজ দলীয় নেতা কর্মীরা। কেননা তিনি এখন তার কমিটি বানিজ্যের দোকান বন্ধ হয়ে যাবে। এ কারণেই তৃনমূল নেতা কর্মীরা এখন জেগে উঠেছে।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতা কর্মীদের কাছে মূর্তিমান আতঙ্ক কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। তার বাড়ি আড়াইহাজার হলেও সমগ্র নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন তিনি।
তার রাহুগ্রাস থেকে মুক্তি পায়নি বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ কোনো সংগঠনের ইউনিট কমিটিও। এর ফলে সর্বত্র আজাদ আতঙ্ক বিরাজ করলেও বর্তমানে বিএনপি’র নেতা কর্মীদের মাঝে আনন্দ ফুটে উঠেছে।
নানা কর্মকান্ডে বিতর্কিত আজাদ এবার ব্যাকফুটে পড়ে গিয়েছেন। কেননা এখন জেলা বিএনপিতে তার মাদবরি চলবে না। জেলা বিএনপিতে এখন দক্ষনেতারদের হাতে দায়িত্ব পড়েছে।
অপর দিকে সোনারগাঁ থানা বিএনপির এক চতুর নেতা এক সময় বদলি মান্নান হিসেবে পরিচিতি থাকলেও; এখন অর্থবিত্তের বদৌলতে সোনারগাঁ থানা বিএনপির প্রভাবশালী নেতা বনে গেছেন। সেই অর্থবিত্তের প্রভাব খাটিয়ে পুরো সোনারগাঁয়ের বিএনপিকে মুঠোবন্ধি করে রেখেছেন মান্নান; এমন অভিযোগ স্থানীয় নেতাদের।
যার ফলে সোনারগাঁ থানা বিএনপিতে একাই ছড়ি ঘোরাচ্ছেন এই নেতা। আর এই একক আধিপত্য সোনারগাঁ থানা বিএনপির নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতেও প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছেন তিনি। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত সে কমিটি প্রকাশিত হচ্ছে না।
আর এই কমিটি প্রকাশের জন্য দিনক্ষণ ঠিক করে বরাবরই সোনারগাঁয়ের বিএনপি নেতাদের চোঁখে ধূলা দিয়ে কখনো অযুহাত দেখোচ্ছে অথবা বিদেশ গমনে গিয়ে ঘা ডাকা দিচ্ছে মান্নান।
এতে করে সোনারগাঁয়ের তৃণমূলের নেতারা অভিযোগ করছেন যে, সোনারগাঁ থানা বিএনপির পুরো কমিটিকে আবারও তার মুঠোবন্ধি করতে কমিটি নিয়ে একের পর এক লুকোচুরি খেলা খেলছেন মান্নান।
সেই কমিটিতে সোনারগাঁয়ে বিএনপি’র অনেক প্রবীণ গুণী নেতা থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে বাদ দিয়েই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করছে। কারণ মান্নান তার একক সিদ্ধান্তে সোনারগাঁ থানা বিএনপি পরিচালিত করতে চায় যার কারণে বহু প্রবীণ নেতাদের বাদ দিয়েই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করেন।
যার ফলে সোনারগাঁ থানা বিএনপি নেতাদের রোষানোল এড়াতেই, কমিটি নিয়ে লুকোচুরি খেলায় লিপ্ত হয়েছে মান্নান। এছাড়া তার এক আধিপত্য ধরে রাখার জন্য সোনারগাঁ বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলাম স্বপনকে ব্যকফুটে রাখা হয়েছে।
তবে এবার জেলা বিএনপিতে শক্তিশালী আহ্বায়ক কমিঠি গঠন হওয়া নেতৃবৃন্দ এখন নতুন উদ্যোমে কাজ করার শক্তি পাচ্ছেন। আর এতে করে এবার সোনারাগাঁয়ে মান্নানে ব্যকফুটে পড়তে যাচ্ছেন; তাছাড়া তার আধিপত্যও কমতে যাচ্ছে।
তাই সব কিছু মিলিয়ে আজাদ মান্নান এখন ব্যকফুটে। সেই সাথে জেলা বিএনপি শক্তিশালী হচ্ছে বলে মনে করে দলীয় নেতারা। এমনকি ক্ষমতাসীন দলের নেতারাও একই মন্তব্য করেন। এন.এইচ/জেসি


