# জাকির খানের মুক্তি চেয়ে মিছিল
নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি পলাতক জাকির খানের মুক্তি জানিয়ে দাবী করেন তারই সমর্থকরা। জাকির খান জেলা ছাত্রদলের অন্যতম শক্তিশালী নেতা। কথায় আছে হাতি মরলেও লাখ টাকা বাচলেও লাখ টাকা। ঠিক তেমনি বিএনপি নেতা জাকির খানের অনুসারীদের কাছে তিনি তেমন এক নেতা। তিনি কারাগারে থাকলেও শক্তিশালী এবং কারাগরের বাইরে থাকলে দিগুন শক্তিশালি।
আর এজন্য তার মুক্তির দাবী তুলেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা থেকে শুরু করে তার অনুসারীরা। বিশেষ করে গতকাল আদালত পাড়ায় এই নেতার মুক্তির দাবীতে মিছিল করেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিএনপি নেতা জাকির খান দলের পদে আমার জন্য গ্রেপ্তার হওয়ার আগে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ করেন। তাছাড়া রাজনৈতিক বোদ্ধমহলের মতে আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির এই নেতাকে দলের জন্য প্রয়োজন।
সেই সাথে দলে ভূমিকা রাখার জন্য তার বাহিরে থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন নেতা কর্মীরা। তার সমর্থকদের প্রত্যাশা দ্রুত মামলায় জামিনও নিয়ে বীরে বেশে তিনি নেতা কর্মীদের কাছে ফিরবেন। তখন আর রাজনীতি করতে কোন বাধা থাকবে না। তাছাড়া জাকির খানের বিশাল একটি কর্মীবাহিনী রয়েছে। তারা এখনো তার পক্ষে রাজপথে ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন।
দলীয় সূত্রে জানাযায়, বিএনপি নেতা জাকির খান এক সময়ে ছাত্রদলের নায়ক ছিলেন। জাকির খান দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগেরও কাছাকাছি সময় ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। আর এই র্দীর্ঘ সময় দেশের বাহিরে অবস্থান করেও এখনও তিনি তার কর্মী বাহিনীকে ধরে রেখেছেন।
বিএনপি দলীয় আন্দোলন সংগ্রাম সহ যে কোনো কর্মসূচিতেই তার কর্মী সমর্থকরা নারায়ণগঞ্জের রাজপথে বড় শোডাউন করে থাকেন। যেখানে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অনেক নেতা দেশে অবস্থান করেও নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন সেখানে জাকির খান কারাগারে থেকেও সক্রিয় ভূূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। দীর্ঘ সময় ধরে পলাতক থেকেও নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে রাজকীয় দাপটে রয়েছে তার।
সূত্র বলছে, ১৯৮৯ সালে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের হাতে ধরে জাতীয় পার্টির ছাত্র সমাজে যোগদানের মাধ্যমেই জাকির খানের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেন। তার পিতা দৌলত খান ছিলেন তৎকালীন টানবাজার পতিতালয়ের গডফাদার। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর জাকির খানের সাথে নাসিম ওসমানের বিরোধ বাধলে কামালউদ্দিন মৃধার নেতৃত্বে সে ১৯৯৪ সালে বিএনপিতে যোগ দেয়।
১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকারের শেষ দিকে জাকির খান শহরের খাজা সুপার মার্কেটে হামলা ও ভাঙ্গচুরের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রাপ্ত হয়ে জেলে যায়। ১৯৯৯ সালে স্বল্প সময়ের জন্য জেল থেকে বের হয়ে জাকির খান জেলা ছাত্রদলের সভাপতির পদটি পেয়ে যান। সর্বশেষ ২০০৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী তৎকালীন জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও বিআরটিসির তৎকালীন চেয়ারম্যান তৈমুর আলম খন্দকারের ছোট ভাই ব্যবসায়ী নেতা সাব্বির আলম খন্দকার আততায়ির গুলিতে নিহত হয়।
এ ব্যাপারে জাকির খানকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন তৈমুর আলম খন্দকার। এর পর জাকির খান নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে পাড়ি জমায় থাইল্যান্ডে। পরে আবার তিনি দেশে গোপনে ফিরে আসেন। ১৯ বছর পর ব্যবসায়ী সাব্বির হত্যা মামলায় গতকাল ২০ নভেম্বর রবিবার সকালে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে জাকির খানকে হাজির করা হয়।
এদিন সাক্ষী না আসায় তার জামিন আবেদন করা হলে বিচারক উম্মে সরাবান তহুরার আদালত জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসবক দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, জাকির খানের অনেক সমর্থন আছেন। তার নামের উপরে হাজার হাজার যুবক আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়েন।
আমাদের দল এবং ক্ষমতাসীন দলের ষড়যন্ত্রের সিকার হয়ে তিনি কারাগারে আছেন। কেননা আজকে জাকির খান বাহিরে থাকলে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি রাজপথে আরও শক্তিশালী থাকত। যারাই তার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা মালা দিছে তারাও আজ দল থেকে বহিস্কার হয়ে আছে। তিনি যেন নারায়ণগঞ্জে না থাকতে পারেন তাই ষড়যন্ত্র করে তার বিরুদ্ধে সাব্বির হত্যা মামলা দেয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, জাকির খান দশজন কর্মীর মাঝে ৮ জনের ভালোবাসা পান। দলের নিবেদিত এই নেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার খুব কাছের কর্মী। বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার খোজ খবর নিতেন। নারায়ণগঞ্জের অনেক নেতাই ঈর্ষানিত হয়ে তা মেনে নিতে পারেন নাই। তাই তাকে মিথ্যা মালা দিয়ে দমিয়ে রাখতে চায়। কিন্তু আমরা তার নিঃশর্ত মুক্তি চাই।
বিএনপি নেতা পারভেজ মল্লিক জানান, আমরা জিয়াউর রহমানের আদর্শে রাজনীতি করি। আগামী দিনে যার নেতৃত্বে সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে সেই তারেক রহমান অতি শিগ্রই দেশে ফিরে আসবে। এই দেশে তখন আর কোন মায়ের চোখে কান্না থাকবে না।
জাকির খান হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রত্ন। বিএনপিকে দমানোর জন্য ষরযন্ত্র করে তাকে মিথ্যা মালা গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাই আমরা তার মুক্তির দাবী জানাই। উল্লেখ্য গত ২ সেপ্টেম্বর র্যাব-১১ বিশেষ অভিযানে ডিএমপি ঢাকার ভাটারা থানার বসুন্ধরা এলাকা হতে বিদেশী পিস্তলসহ জাকির খানকে গ্রেফতার করে।


