‘পিকনিক’ করা প্রসঙ্গে বিএনপি নেতাদের ভাষ্য
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২২ নভেম্বর ২০২২, ০৩:৩৭ পিএম
# জনস্রোত থামিয়ে রাখতে পারছে না : খোকন
# ভয় থেকেই তারা আবোল-তাবোল বলছে : টিপু
সম্প্রতি সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বিএনপির বিভিন্ন সমাবেশ নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, “আমরা দেখতে পাচ্ছি বিএনপির সমাবেশগুলো আসলে বড় পিকনিক। সিলেটের সমাবেশে তারা তিন দিন আগে গেছে, হোটেলে খাওয়া দাওয়া, তাস খেলা আবার মাঠের মধ্যে তাঁবু টানিয়ে রান্নাবান্না করে খেয়েছে- এটা একটা বড় পিকনিক।”
“শীতের সময় আমরা যেমন পিকনিকে যেতাম, বিএনপির নেতাকর্মীরাও শুধু সিলেট অঞ্চল থেকে নয়, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, ঢাকা থেকেও গেছে এবং সেখানে গিয়ে সমাবেশের নামে বড় পিকনিক করেছে।
এগুলোর জন্য সারা দেশে চাঁদাবাজি করছে। অনেক ব্যবসায়ী আমাদের অভিযোগ দিয়েছেন- বিএনপি ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে বা করার চেষ্টা করছে।”
তথ্যমন্ত্রীর এই ধরনের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিলেন বিএনপির নেতৃবৃন্দরা- এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম ফারুক খোকন যুগের চিন্তাকে বলেন, “বিএনপি বিভাগীয় সমাবেশ গুলোর মধ্যে যেভাবে রাষ্ট্রীয় হরতাল করছে এ সরকার কিন্তু তার পরে ও জনস্রোত থামিয়ে রাখতে পারছে না।
এখানে শুধু বিএনপির কর্মীরা বললে ভুল হবে দেশের সাধারণ জনগণ ও অনেকটা আগ্রহী হয়ে উঠেছে, এ বিভাগীয় সমাবেশগুলো নিয়ে। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাওয়ার জন্য যদি সব বন্ধ ও থাকে তার পরেও নদীতে সাতাঁর কেঁটে খাবার জন্য চিড়া মুড়ি নিয়ে কিন্তু অনেকে মাঠে চলে আসছে।
এগুলোকে যদি বর্তমান সরকারের মন্ত্রীরা পিকনিক বলে তাহলে তো এটা আমি বলবো; তাদের বুঝার ভুল। গতকাল সোনাগাঁয়ে অফিস ভাংচুরে মামলা হয়েছে। বন্দরে তারা নিজেরা নিজেদের অফিস ভেঙ্গে বিএনপির লোকদের নামে মামলা দিচ্ছে।
কাঁচপুরে একজন পাগল মহিলা রাতে কাঁথা নিয়ে ঘুমায়; সে রাতে শীতের অন্ধকারে আগুন পোহাতে গিয়ে তার শরীরে আগুনের কালি লেগেছে তারা সেটাকে বলতেছে বিএনপি নাকি নাশকতা করছে।”
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ যুগের চিন্তা বলেন, “তথ্যমন্ত্রীকে সকলেই হাসাও মাহমুদ নামে চিনে থাকে। কারণ তার প্রতিটি কথা অনেকটাই হাস্যকর। বিএনপি পিকনিক করছে আমরা ধরে নিলাম তার কথা ঠিক আছে।
বিএনপি সমাবেশগুলো করার কথা ছিল একদিন কিন্তু তারা পরিবহন ধর্মঘট রাষ্ট্রীয় হরতালের কারণে একদিনের সমাবেশে তিনদিনে পরিনত হচ্ছে। তিনদিন হওয়ার কারণে কর্মীরা সেখানে খায়, ঘুমায় তাহলে তো এটাকে এক ধরনের পিকনিক বলা যায়।
কিন্তু তারা যে পিকনিক করছে তার পিছনে একটি শক্তি বা উদ্দেশ্য কাজ করছে সেটিকে মনে হয় তথ্যমন্ত্রী অনুভব করতে পারছে না। লোকজন এখানে ত্যাগ স্বীকার করছে, তারা প্রতিটি সমাবেশে ডাল চালের খিচুরি খেয়ে শীতের রাতে খোলা আকাশের নীচে অবস্থান করছে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের নেতাকর্মীরা দেখিয়ে দিচ্ছে গণতন্ত্রপূর্ণ উদ্ধারের আন্দোলন থেকে তারা পিছপা হবে না। যত বাধা আসুক তারা রক্ত দিয়ে হলেও এ গণতন্ত্রকেপূর্ণ উদ্ধার করবে এবং এই সরকারের এমপি মন্ত্রীদের কথাতে কান না দিয়ে; আমার সকলে মিলে আন্দোলন আরো কীভাবে শক্তিশালী করা যায় সে বিষয়ে কাজ করছি।”
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল আল ইউসুফ খান টিপু যুগের চিন্তাকে বলেন, “আওয়ামী লীগের যে চরিত্রের অধিকারী; তারা সেটা অন্যকেও মনে করে। বিএনপি জনগণের মৌলিক অধিকার এবং দেশেকে বাঁচানোর জন্য দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নির্দেশে কাজ করছে।
আওয়ামী লীগ যেভাবে আমাদের নেতাকর্মীদের হত্যা করছে এবং নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যেমূল্যে ঊর্ধ্বগতি হচ্ছে; তাতে জনগণ স্বাভাবিকভাবেই ক্ষিপ্ত। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিভাগীয় কর্মসূচিগুলো হচ্ছে।
তারা অনেক বাধা সৃষ্টি করছে, তাই জনগণ চিরা, মুড়ি, কলা খেয়ে এমকি নদী পথে ভেলা ভাসিয়ে সমাবেশে যোগদান করছেন। এ কারণে আওয়ামী লীগের লোকেরা টেনশনে মন্ত্রী-এমপি, নেতারা কী বলছেন হয়তো তারা বুঝতে পারছেন না।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লুৎফর রহমান খোকা যুগের চিন্তাকে বলেন, “তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ যা বক্তব্যে দেয়; আমি বলতে চাই, পাগলে কিনা বলে ছাগলে কিনা খায়, এই দশা হয়েছে তাদের। এ পর্যন্ত তারেক রহমান কোকো রহমান খালেদা জিয়াদের বিরুদ্ধে তারা যে মিথ্যাচার করেছে।
তারা এখন যাই বলুক তাদের আর শেষ রক্ষা হবে না। এখন আর ১৮ কোটি জনগণ তাদের সাথে থাকতে চায় না। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা দেশের মানুষকে একটি সুন্দর গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।”
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এইচ মামুন যুগের চিন্তা বলেন, “তথ্যমন্ত্রী এই ধরনের বক্তব্যে কিভাবে দেয় এটা আমার বুঝে আসে না। সে তার মুখ দিয়ে যে ধরনের কথাবার্তা বলে; আমি মনে করি তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে নতুন প্রজন্মেও যারা রাজনীতিতে আসতে চায় তারা বাধাগ্রস্থ হয়ে পড়ছে।
নতুন প্রজন্মের আগামী দিনের সন্তানরা বলছে, তারা কিভাবে মন্ত্রী হল। আমি বলতে চাই, এখন দেশের যে অবস্থা এই অবস্থায় তাদের কোনো কথাই আর জনগণ শুনতে চায় না।”
এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি যুগের চিন্তাকে বলেন, “বিএনপি প্রায় ১৫ বছর যাবৎ ক্ষমতার বাহিরে অবস্থান করছে। এখন আামদেরকে কি কোনো ব্যবসায়ী বা শিল্পপতিরা এখন আমাদের ভয় পায় না। যদি ভয় পেয়েই থাকে, তাহলে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা; আওয়ামী লীগের লোকদের ভয় পায়।
বিএনপির সংগঠন একটি আদর্শের সংগঠন। শহিদ রাষ্ট্রপ্রতি জিয়াউর রহমান অনেক আদর্শ দিয়ে দলটাকে তৈরি করেছে। তাই এ সংগঠন যারা করে তারা কখনোই চাঁদাবাজি সাথে সংযুক্ত থাকতে পারে না।”
এ বিষয়ে মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহেদ আহম্মেদ যুগের চিন্তাকে বলেন, “মানুষ যখন দেওলিয়া হয়ে যায়। যখন কোনো কিছু বলার খুঁজে না পায়। তখন তারা মাথা খারাপ হয়ে আবোল-তাবোল বলে।
তারই প্রতিচ্ছবি আমরা দেখতে পাচ্ছি, বর্তমান সরকারের মন্ত্রী এমপিদের মাঝে। আওয়ামী লীগ সরকার এখন ক্ষমতায় বসে আছে আর বিএনপি চাঁদাবাজি করতেছে পিকনিক করেছে এটা অকেটাই হস্যকর একটা বক্তব্য।”
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য ডা. মজিবুর রহমান যুগের চিন্তাকে বলেন, “তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ যা বলছে তার কোনটাই সত্য নয়। তারা এখন বিএনপির আন্দোলনকে দেখে মাথা খারাপ হয়ে গেছে তাই তারা বিভিন্ন রকম কথা-বার্তা বলছে। আমি বলতে চাই বিএনপি কখনো চাঁদবাজি করে সংগঠন চালায় না; কারা এগুলো করে জনগণ সেটা জানে।” এন.এইচ/জেসি


