Logo
Logo
×

রাজনীতি

শামীম-দীপু জেলা আওয়ামী লীগে নেতৃত্বে; না আসার নেপথ্যে

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর ২০২২, ০৫:৫৬ পিএম

শামীম-দীপু জেলা আওয়ামী লীগে নেতৃত্বে; না আসার নেপথ্যে
Swapno


# দুই প্রভাবশালী নেতার বাগড়াতেই ছিটকে যান তারা
 

জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষ হয়েছে প্রায় এক মাস হলো। সম্মেলনে  পুরনো সভাপতি আবদুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদলকেই বেছে নেয়া হয়েছে। এক মাস পেরুলেও এখনো পুরনোদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন বেছে নেয়া হল; তাই নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

 

 

যুগের চিন্তার অনুসন্ধানে বেশ কিছু তথ্য জানা গেছে, জেলা আওয়ামী লীগের এই বহুল কাঙ্খিত সম্মেলন নিয়ে। সূত্র বলছে, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদলের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই।

 

 

কমিটি বাণিজ্য, স্বেচ্ছাচারিতা, পদবাণিজ্য, তৃণমূলে কোন্দল তৈরি, একক আধিপত্য বিস্তার, মনমর্জি মতো বহিষ্কার আবার পুনর্বহালসহ শত অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে। আর তাই যখন জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রসঙ্গটি সামনে আসলো তাতে জেলার আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে তীব্র আশা আকাঙ্খার সঞ্চার হলো।

 

 

অনেকটা অনুমেয়ই ছিল জেলা আওয়ামী লীগের এবার রদবদল হচ্ছে, পরিবর্তন আসছে। জেলা আওয়ামী লীগের এই সম্মেলন নিয়ে জেলার শীর্ষস্থানীয় নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত আগ্রহের অন্ত ছিলনা। তবে কেন পুরনোদেরই বেছে নেয়া হল শত বিতর্কের মধ্যে; এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে এখনো তৃণমুল আওয়ামীলীগ কর্মীরা।

 

 

সূত্র জানিয়েছে, জেলা আওয়ামী লীগে নেতা বাছাই করা নিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়েও সুনামি তৈরি হয়েছিল। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সূত্র হতে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় নেতারাও দ্বিধাবিভক্ত ছিল আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব বাছাই নিয়ে।

 

 

নারায়ণগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলা আওয়ামী লীগকে গতিশীল করার চিন্তাটাই ছিল কেন্দ্রীয় নেতাদের ভাবনায়।

 

 

আর এই ভাবনায় সভাপতি হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান, নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান বাচ্চু, আবদুল কাদির। 

 

 

সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নজরুল ইসলাম বাবু, জাতীয় পরিষদের অন্যতম সদস্য এড. আনিসুর রহমান দীপু, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের নাম ছিল অন্যতম।

 

 

সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় নেতাদের অধিকাংশ নেতাই নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গতিশীল করার পক্ষে ছিল। তাই ঘটা করে সম্মেলন সফল করার নির্দেশনাও দিয়েছিল কেন্দ্র। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেব দায়িত্ব পালন করার অভিজ্ঞতা ছিল সাংসদ শামীম ওসমানের।

 

 

আর আসন্ন সম্মেলন নিয়ে তার আগ্রহের বিষয়টিও তাই অনেক আগে থেকেই পরিষ্কার ছিল। সম্মেলনকে সামনে রেখে জেলার অন্যান্য নেতার মতো শামীম ওসমানও লবিং জোরদার করেছিলেন বলে জানায় সূত্র। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জে করেন, দফায় দফায় কর্মীদের নিয়ে সভা।

 

 

এদিকে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দারুণ পারফর্মেন্স দেখানোয় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এড. আনিসুর রহমান দীপু আসার কথাই প্রায় শেষ পর্যন্ত অনুমেয় ছিল। এদিকে শামীম ওসমানের প্রবল আগ্রহে কেন্দ্রের একটি বড় অংশও চাইছিল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে শামীম ওসমানই আসুক।

 

 

আওয়ামী লীগ সভানেত্রীও যে এর বাইরে ছিলেন এমনটিও নয় জানিয়েছে সূত্র। শামীম ওসমান সভাপতি এবং আনিসুর রহমান দীপু সাধারণ সম্পাদক এমন প্রস্তাবনা করেই জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ প্রায় কাছে চলে এসেছিল।

 

 

কেন্দ্রীয় একাধিক সূত্র হতে জানা গেছে, কেন্দ্রের একটি অংশ বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে আবদুল হাইকে সভাপতি করার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তবে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এড. আনিসুর রহমান দীপুর নামটি তখনও চূড়ান্তই ছিল।

 

 

কিন্তু তখনও শামীম ওসমান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদের জন্য ব্যাপক দৌঁড়ঝাঁপ এবং লবিং করে যাচ্ছিলেন। কেন্দ্রের একটি বড় অংশও শামীম ওসমানের এই আবেদনকে; গুরুত্বসহকারে কেন্দ্রের বিভিন্ন শাখা প্রশাখায় আলোচনা করছিলেন।

 

 

নেতাদের প্রায় প্রতিটি আড্ডাতেই নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়ে তীব্র আলোচানা-সমালোচনা চলতো। শেষ পর্যায়ে নারায়ণগঞ্জে দুই প্রভাবশালী নেতার বাগড়াতেই শামীম ওসমান এবং এড. আনিসুর রহমান দীপু বাদ পড়েন বলে জানিয়েছে সূত্র।

 

 

সূত্র জানিয়েছে, প্রভাবশালী ওই দুই নেতা কেন্দ্রের কাছে শামীম ওসমানের সভাপতি হওয়া প্রসঙ্গে নিজেদের ব্যাখ্যা দাঁড় করান অনেকটা এভাবে, তারা বলেন, ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকার যখন ক্ষমতা থেকে চলে যায় তখন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শামীম ওসমান। দলের দুঃসময়ে শামীম ওমসান পালিয়ে দেশের বাইরে চলে যান।

 

 

সামনে যদি দলের দুঃসময় আসে তখনও পাওয়া যাবেনা শামীম ওসমানকে। এসময় গতবারের মতোই বিশৃঙ্খল হয়ে পড়বে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা; নেতৃত্ব সংকটে পড়বে আওয়ামীলীগ।

 

 

কিন্তু কেন্দ্র তখনো শামীম ওসমান ও দীপুকে নিয়েই জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব সাজানোর পক্ষে রায় দিয়েছিল। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের দুই প্রভাবশালী নেতার বাগড়াতেই তখন শামীম ওসমানকে না নেয়ার পক্ষে আসে সিদ্ধান্ত।

 

 

উপরন্তু নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো এমন কথার মতোই; পুরনোদেরই সাবধান বানী দিয়ে বহাল রাখাটাই উপযুক্ত হবে বলে মত দেন জেলার ওই দুই প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা। আর তাতেই শামীম ওসমানের সাথে ছিটকে যান এড. আনিসুর রহমান দীপু।

 

 

আর একারণেই জেলার আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কাউন্সিলরদের ভোট প্রদানের কোন সুযোগ না দিয়েই; শুধু পুরনোরা বহাল বলেই সম্মেলন শেষ করা হয়। তবে যে কারণেই হোক জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের পর থেকে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ যে গতি হারিয়েছে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

 

 

জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগে স্থবিরতা বিরাজ করছে। প্রাণ চাঞ্চল্যও যেন কোথায় হারিয়ে গেছে। একদিকে শামীম ওসমান শিবির যেমন ঝিমিয়ে পড়েছে; তেমনি উত্তাপ নেই দক্ষিণেও।

 

 

জেলার অন্যন্যা থানাতেও চলছে স্থবিরতা। সম্মেলনে কতখানি লাভ হয়েছে, সেই হিসাব কষতেই যেন ব্যস্ত তৃণমূল। এর পরিস্থিতি মোকাবেলায় কেন্দ্রকেই পথ দেখাতে হবে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।  এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন