কার স্বার্থে আটকে আছে; না’গঞ্জ যুবলীগের কমিটি???
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর ২০২২, ০৮:০২ পিএম
# আমি যুবলীগে নাই; দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পদ বিলীন হয়ে গেছে : বাদল
নারায়ণগঞ্জে দীর্ঘদিন পর হতে যাচ্ছে, জেলা যুবলীগের সম্মেলন। আর এতে করে নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ উদ্দীপনার কোন কমতি নেই। জানা যায়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, আর এই যুবলীগে প্রধান্য পায় যুবকেরা। তবে নারায়ণগঞ্জে যুবলীগে দেখা গেছে, এখন আর যুবক নেই অনেক নেতাকর্মী বয়ষ্ক হয়ে গেছে।
আর অনেক নেতাকর্মী যুবলীগের পদবি থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ন পদে রয়েছেন। আর এতে করে অনেক যুবলীগের অনেক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগের পদে আসার পর আওয়ামী লীগের যুবলীগ নিয়ে তেমনটা মাথা ঘামাতে দেখা যায়নি।
আর দীর্ঘদিন কমিটি না হওযার কারণে ছাত্রলীগ থেকে সাবেক হওয়া অনেক নেতাকর্মী যুবলীগে আসতে চাইলেও কমিটি না হওয়ার কারণে সেটা আর সম্ভব হয়নি। আর এতে করে বিভিন্ন সময় তৃনমূলের নেতা কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এর কোন সুরহা মেলেনি।
তবে দীর্ঘদিনের এই যুবলীগের কমিটি না হওয়ার খরা খুব শীঘ্রই ভাঙ্গতে যাচ্ছে। জানা যায়, গত ২৬ শে সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের আয়োজনে এক বর্ধিত সভায় কেন্দ্রীয় যুবলীগের নেতৃবৃন্দরা জানান ,নভেম্বর মাসের মধ্যেই হবে জেলা যুবলীগের সম্মেলন।
তাই তারা যুবলীগর পদে থাকা জেলা ও থানার নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেন যত দ্রুত সম্ভব ইউনিয়ন ওয়ার্ড কমিটি গুলো; আগামী এক মাসের মধ্যে শেষ করার আহবান জানান। আর এই কমিটি গুলো শেষ হলে থানা ও জেলা কমিটি নিয়ে বিশাল এক সম্মেলনের ডাক দেওয়া হবে।
আর এই ঘোষণার পরপরই যুবলীগে নেতৃত্বে আসতে এখন থেকেই নেতাকর্মীরা তারা তাদের যার যার অবস্থান থেকে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন।
তবে এক মাসের সময় শেষ হলেও তারা কমিটি করা নিয়ে কোন কোন রকম পদক্ষেপ নেয়নি; কেন্দ্রীয় নেতাদের কথা তারা রাখেনি।এখনো তারা পুরাতন কমিটি টিকিয়ে রেখে বুড়ো হয়েও যাওয়া যুবকরা যুবলীগের পদ দখল করে রয়েছে।
এর আগে তাদের সাথে কয়েকবার কথা বলা হলেও তারা তখন জানিয়েছিল আমাদের সব কিছু রেডি রয়েছে। কমিটি দিতে আমাদের এক মাসও লাগবে না; তবে তাদের এই কথা শুধুই যে ভেলকি বাজি ছাড়া আর কিছুই না; তা তৃণমূল নেতা-কর্মীরা আচঁ করতে পারছে।
প্রথমে ওয়ার্ড,ইউনিয়ন, থানা কমিটি শেষ হলে তার পরেই হবে জেলা যুবলীগের সম্মেলন। আর নিচের স্তরের কমিটি গুলো না হওয়ার কারণে, জেলা যুবলীগের সম্মেলন করা সম্ভব হচ্ছে না। এবং কাটানো যাচ্ছে না জেলা যুবলীগের দীর্ঘ দিনের কমিটি না হওয়ার খরা ।আর এরজন্য জেলা নেতৃত্বে থাকা কমিটিকেই দোষারোপ করছেন; অনেক নেতা-কর্মী।
জানা যায়, দীর্ঘদিন কমিটি না হওয়ার কারণে এই লম্বা সময়ে অনেক নেতাকর্মী যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কমিটিতে আসতে পারে নাই।দেখা গেছে, জেলা যুবলীগের এক একটি পদের জন্য লড়াই করবেন বেশ কয়েকজন পরিশ্রমী নেতা।
কিন্ত নিয়ম অনুযায়ী একজন সভাপতি ও একজনই সাধারন সম্পাদক হিসেবে থাকতে পারবেন। আর এই সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীরা মনে করছেন দীর্ঘদিনের এই জায়গা পূরন হবে। একটি সুন্দর শক্তিশালী কমিটি গঠন হবে। আর এই কমিটি যুবলীগকে আরও শক্তিশালী করবে এবং যুবলীগে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। কিন্তু হায়! অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে; তাদের আশার গুড়ে বালি!
বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ সদর,ফতুল্লা ,সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দরের আশিংক কমিটি শেষ করার কথা বলা হয়েছে। আর এই কমিটি গুলো করা হলেই হবে; জেলা যুবলীগের সম্মেলন।
তবে কমিটি হবার কথা শুনে নেতাকর্মীরা যতটুকু উজ্জীবিত হয়েছিল তা অনেকটা ভেস্তে যেতে চলেছে। এর কারণ হচ্ছে কমিটি দেওয়ার কথা বলে তা এখন আশার বানী হিসেবে পরিনত হয়েছে। কবে নাগাদ কমিটি হবে তার কোন নির্দিষ্ট তারিখ কারোরই জানা নেই। একমাসের মধ্যে কমিটি দেওয়ার কথা থাকলেও দিনের পর দিন; মাসের পর মাস; নেই কমিটি দেওয়ার কোন খবর; নেই কোনো ধরনের কার্যক্রম।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল বলেন, “কেন্দ্রীয় যুবলীগের নেতারা আমাদের কোন ধরনের টাইম বেধে দেয় নাই এবং এই ধরনের কোন কথা হয় নাই যে আমাদের ১৫ দিন বা এক মাস অথবা তিন মাসের মধ্যে কমিটি গুলো শেষ করতে হবে।
ওনারা সম্মেলনটা করে দেওয়ার জন্য আমাদেরকে বলছে। আমি জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী হিসেবে ৫ বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে। আমি যুবলীগের সেক্রেটারী দায়িত্ব পালন করেছি।য খন আমি উর্ধতন কোন কমিটির দায়িত্ব পেলাম; তখন যুবলীগের নিয়ম অনুযায়ী আমার পদটা অটোমেটিক বিলীন হয়ে যায়; সেখানে অন্য যারা থাকে তারা দায়িত্বটা পালন করে।
তবে অতি শীঘ্রই কমিটিটা হয়ে যাবে। এখন আমরা ইতিমধ্যে বন্দর একটা বর্ধিত সভা করেছি যুবলীগের মহা সমাবেশ গেছে বিশাল এ সমাবেশে আমরা যোগদান করেছি। এখন আমরা ফতুল্লা টাকে নিয়ে বসবো; এদের সাথে যে আলোচনাও চলছে।
এক সূত্রে জানা যায়, জেলা যুবলীগের কমিটিতে আসতে অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে নেতা-কর্মীদের দৌড়ঝাঁপ। এর মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন বেশ কয়েকজন তাদের মধ্যে সভাপতি পদে নাম শোনা যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সাংসদ এ,কে,এম শামীম ওসমানের শ্যালক এহসানুল হক নিপু, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির বারবার নির্বাচিত সভাপতি এডভোকেট মহোসীন মিয়া ও সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাফায়েত আলম সানী।
অন্যদিকে জেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক নেতৃত্বে আসতেও রয়েছে ফতুল্লার বেশ কয়েকজন পরিক্ষিত নেতা যাদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছে, ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু মোঃ শরিফুল হক, যুবলীগ নেতা জানে আলম বিপ্লব, ফতুল্লা থানা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক ফাইজুল ইসলাম সহ বেশ কয়েকজনের নাম। এন.এইচ/জেসি


