আওয়ামী লীগ কমিটি গঠন নিয়ে মহানগরে অসন্তোষ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২২, ০২:১১ পিএম
# সমন্বয় করার দায়িত্ব নিচ্ছেনা কেউ
# খসড়া কমিটি হচ্ছে, পরে চূড়ান্ত : আনোয়ার হোসেন
# আমরা কিছুই জানিনা : জিএম আরাফাত
ভাগ্য সুপ্রসন্ন বলতেই হবে মহানগর আ’লীগের বর্তমান কমিটিকে। ২০১৩ সালে দেয়া এই কমিটির কার্যক্রমে এতোটাই ব্যর্থ যে, এখন পর্যন্ত সিটি করপোরেশন এলাকার একটি ওয়ার্ড কমিটি গঠন করতেও সমর্থ্য হয়নি এই কমিটি। এছাড়া মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহার মতানৈক্যে মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যকারিতা অনেক হ্রাস পেয়েছে।
অভিযোগের যেমন অন্ত ছিলনা সভাপতির বিরুদ্ধে, তেমনি বিতর্ক যেন পিছুই ছাড়েনি সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহার বিরুদ্ধে। খোকন সাহা ছিলেন যেমন লাগাম ছাড়াই। নিজ দলের নেত্রীর সমালোচনা করতে গিয়ে, তিনি তো মামলার আসামী পর্যন্ত হলেন। এদিকে আনোয়ার হোসেনও তেমন কোন কার্যকর ভূমিকা দেখাতে পারেননি।
অক্টোবরে ২৩ তারিখ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের পর ২৫ অক্টোবর মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হওয়ার কথা অবধারিত ছিল। কিন্তু জেলা কমিটি বহাল রাখার সিদ্ধান্তের দিন মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনও স্থগিত করা হয়। আর যার ফলে যেতে যেতেও বিদায় নিলেন না আনোয়ার হোসেন এবং খোকন সাহা।
যদিও দুই নেতাকেই মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেখতে চাননা; বর্তমান মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটির অধিকাংশ নেতারাই। তাহলে এমন পরিস্থিতিতে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে কী করবে; মহানগর আওয়ামী লীগ এমন প্রশ্নও যখন ঘুরপাক খাচ্ছিল। তখন কেন্দ্র থেকে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে নির্দেশনা আসে ওয়ার্ড কমিটিগুলো সম্পূর্ণ করার।
কিন্তু মহানগর আওয়ামী লীগে ওয়ার্ড কমিটি গঠন নিয়েও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্র। সূত্র বলছে, কেন্দ্র থেকে মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিকে ওয়ার্ড কমিটিগুলো গঠনের নেতৃত্ব দিলেও এক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা তার মতো করে সিদ্ধিরগঞ্জের ৯টি ওয়ার্ড কমিটি গঠনের আবেদন জানিয়েছে।
এতে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সম্মত হলেও এতে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে আওয়ামী লীগের আরেক প্রভাবশালী নেতা, তিনিও একজন জনপ্রতিনিধি। আর তিনি কেন্দ্রে জানিয়েছেন, সিদ্ধিরগঞ্জের ওই ওয়ার্ডগুলো তার নির্বাচনী এলাকার মধ্যেই। আর সম্প্রতি নির্বাচনে তিনি সেখানে খুবই ইতিবাচক সাড়াও পেয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের।
তাই একক কোন নেতার অধীনে ওই ওয়ার্ডগুলো কমিটি দেয়ার দায়িত্ব না দেয়াটাই; আওয়ামী লীগের ভবিষ্যত নেতৃত্বের জন্য মঙ্গলজনক হবে, বলে জানানা ওই নেতা। এনিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের ভেতরে শীতল যুদ্ধ চলছে।
অপরদিকে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক শহর ও বন্দরের নেতাদের নিয়ে ওয়ার্ড কমিটি গঠনেও নেতায় নেতায় মতভেদ রয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্র। আনোয়ার হোসেনের একসময়ের ঘনিষ্ট অনেককেই, আবার সভাপতি সামনে কি হচ্ছে তা জানাচ্ছেননা।
যুগ্ম সম্পাদক জিএম আরমানের গুরুত্ব আবারো বেড়েছে কমিটি গঠনের ব্যাপারে। যদিও এই নেতা গত সিটি নির্বাচনের আগে থেকে শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ হন, এখনও সেটি অব্যাহত রয়েছে। জিএম আরমান একসময় আনোয়ার হোসেনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
অপরদিকে আনোয়ার হোসেনের সাথে অতীতে ঘনিষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক আহসান হাবীব এবং সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরমানের সাথেও মতপার্থক্য প্রবল আকার ধারণ করেছে বলে জানায় সূত্র। তবে এড. খোকন সাহাও যে বসে রয়েছেন এমনটি নয়।
সিটি নির্বাচনের আগে বহিষ্কৃত এবং পদত্যাগকারী দুই নেতাও ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে প্রবল সরব হয়েছেন, বলে জানায় সূত্র। তবে খোকন সাহাও বন্দরে তার কর্মীদের মূল্যায়ন করতে তৎপর রয়েছেন। শহরের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে নিজের ঘনিষ্ঠ নেতা কর্মীদের মূল্যায়নে চাপ তৈরি করছেন বলে জানায় সূত্র।
এদিকে যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল সম্মেলনে প্রমোশন আশা করেছিলেন। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযাযী তারা মহানগরে তাদের কর্মীদের মূল্যায়নের জন্যও সরব হয়েছেন, বলে জানায় সূত্র।
মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ওয়ার্ড কমিটি গঠনের ব্যাপারে যুগের চিন্তাকে জানান, “কেন্দ্র আমাদের নির্দেশনা দিয়েছে ওয়ার্ড কমিটি গঠনের। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করছি। প্রস্তুতিও রয়েছে। নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করে খসড়া কমিটি করছি। পরে এটি চূড়ান্ত করা হবে।”
তবে এব্যাপারে মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত যুগের চিন্তাকে বলেন, “ওয়ার্ড কমিটিগুলো গঠনের ব্যাপারে কী ধরণের কার্যক্রম নেয়া হচ্ছে তা আমরা কেউ জানতে পারছিনা।
মহানগর আওয়ামী লীগের সভা ডেকে কমিটির নেতাদের সাথে পরামর্শ করার যে প্রয়োজনীয়তা সেটিও দৃশ্যমান নয়। কার্যকরী ওয়ার্ড কমিটি গঠন করতে হলে সকলের মতামত নিয়েই কমিটি গঠনের বিকল্প নেই। কিন্তু সেই পথে কোন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছেনা।” এন.এইচ/জেসি


