Logo
Logo
×

রাজনীতি

টার্গেট ১০ ডিসেম্বর

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২২, ০৮:৫১ পিএম

টার্গেট ১০ ডিসেম্বর
Swapno

 

# জনগণ স্বতঃস্ফুর্তভাবে সমাবেশে অংশগ্রহণ করতে চাইছে : সাখাওয়াত হোসেন
# ক্ষমতায় আসলে কে কি নিবেন এখনই তা নিয়ে ভাগাভাগি চলছে : জাহাঙ্গীর আলম

 

 

১০ ডিসেম্বর বিএনপির ডাকা ঢাকায় গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে দেশ জুড়ে বিরাজ করছে উন্মাদনা ও উত্তেজনা। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির মধ্যেও এর প্রভাব পড়ছে। সেই সমাবেশকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপিসহ এর সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনগুলো বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

 

 

ব্যাপক প্রচার-প্রচারণাসহ সভা-সমাবেশ, মিছিল-মিটিং এবং লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের জাগিয়ে তোলার কাজ করে যাচ্ছেন তারা। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে সফল সভা-সমাবেশ করেছেন বলেও দাবি করছেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ।

 

 

গণসমাবেশে যতটা সম্ভব বেশি লোক সমাগমের জন্য উদ্দেশ্যে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির নেতৃবৃন্দ। তবে বিএনপির এধরণের প্রচেষ্টাকে একেবারেই গণনায় ধরতে নারাজ নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ। বিএনপির এমন তোরজোর অনেকটা ফাঁকা কলসের আওয়াজের মতো বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

 

 

আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের ধারণা বিএনপি হম্বিতম্বি করে তাদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে তারা শুধু নিজেদের কর্মী ও সমর্থকদের জাগাইয়া তোলার চেষ্টা করছেন এবং এর বাইরে তারা কিছুই করতে পারবে না। তবে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে আগামী ১০ ডিসেম্বর কি হবে বা বিএনপি তাদের দাবি দাওয়া আদায় করতে পারবে কি না সেটা ১০ তারিখ আসলেই বুঝা যাবে।

 

তবে এই কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে গত প্রায় দেড় যুগের কাছাকাছি সময়ের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি এখন সবচেয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে এবং অন্য যেকোন সময়ের তুলনায় রাজনৈতিক মাঠে বিএনপির সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটা বিএনপির কর্মী ও সমর্থনের খরার যে চিত্র ফুটে উঠেছিল বলে সরকারি পক্ষ হতে দাবি করা হতো তার কিছুটা হলেও লাগব হবে।

 

 

এই বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদ্য সাবেক কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি অন্য জেলার কথা বলতে পারি না, তবে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি এখনই কে কি নিবে, সে বিষয়ে ভাগাভাগি শুরু করে দিয়েছে।

 

 

তারা ভাবতেছেন ১০ তারিখে তারা ক্ষমতায় চলে আসবেন, তাদের কিছু কেন্দ্রীয় নেতা বলেছেন যে তারা ১০ তারিখ ক্ষমতায় আসবেন তাই সেই কথার উপর ভিত্তি করে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতৃবৃন্দ এখনই বন্টন করা শুরু করেছেন কে কি দখল করবেন। তবে তাদের এই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে। তাদের এই স্বপ্ন ভুল। তাদের সংগঠন স্বপ্নের, তারা সেই স্বপ্নেই ভাসবে।

 

 

তারা রাজপথে মার খাওয়া পোড় খাওয়া নেতাকর্মী না। তাদের ক্ষমতায় আসার আশা পূরণ হবে না। মানুষ তাদের সেই পেট্রোল বোমাসহ বিভিন্ন অরাজকতার কথা ভুলে যায়নি। আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়ন করেছে, জনগণ অবশ্যই তার সেই উন্নয়নকে মূল্যায়ন করবে। জনগণ আবারও শেখ হাসিনাকেই নির্বাচিত করবে এবং শেখ হাসিনা আবারও সরকারের এসে তার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবেন।

 

 

তিনি আরও বলেন, বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসেই তাহলে দেশ কে চালাবে? বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত আসামী, তারেক জিয়া সাজাপ্রাপ্ত আসামী। তাদের মধ্যে কে দেশ চালাবে সে বিষয় নিয়ে কাড়াকাড়ি লাগবে। তাই আগে সাজা খেটে আসুক পরে না হয় ক্ষমতার বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করবে।

 

 

মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির আহবায়ক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আমরা নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির সকল কমিটির কর্মকান্ডগুলো কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী পালন করে থাকি। আমাদের ১০ ডিসেম্বরের মহাসমাবেশ একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ। এই সমাবেশ কোন সরকার পতন ঘটানোর সমাবেশ না। আমরা চাই এই সমাবেশটি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে।

 

 

গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে আমরা কি রকম নির্বাচন চাই সেই বিষয়সহ আমাদের দাবি-দাওয়াগুলো তুলে ধরবো। কিন্তু তারা এতটাই অপকর্ম করেছে যে, এখন তাদের উপর আমাদের চেয়েও বেশি ক্ষুদ্ধ এখন জনগণ। তারা সরকার বিরোধী কোন কার্যক্রম বা মিছিল মিটিংয়ের নাম শুনলেই সরকার বেপরোয়া হয়ে যায়।

 

 

এখন তারা ২০১৪ সালের ’১৮ সালের গায়েবী মামলাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে মহাসমাবেশকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য চেষ্টা করতেছে। আমাদের নারায়ণগঞ্জেও এধরণের একাধিক মামলা হয়েছে, আমরা তার নিন্দা জানাই। এখানে যত মামলাই হোক না কেন, জনগণই চাচ্ছে এই সমাবেশকে সফল করার জন্য।

 

 

আমি মনেকরি আমাদের নারায়ণগঞ্জে আমাদের যত মামলাই হোক না কেন, যতজনকেই জেলে হাজতে দেওয়া হোক না কেন, আমাদের দমাতে পারবে না। আমাকে নিলে আরেকজন নেতৃত্ব দিবে, তাকে নিলে সেখানে আরেকজন আসবে, এভাবে যতজনকেই কারাগারে নেওয়া হোক নেতৃত্বের সমস্যা হবে না।

 

 

আমাদের লক্ষ্য আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার, আমাদের মহাসমাবেশ আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে বাস্তবায়ন করবো। আমরা বিশ্ব্স করি আমাদের এই সমাবেশ সম্প্রতিকালের মধ্যে সবচেয়ে বড় সমাবেশ হবে। তিনি আরও বলেন, জনগণ এখন স্বত:স্ফুর্তভাবে সমাবেশে অংশগ্রহণ করতে চাইছে।

 

 

জনগণ চাইছে সরকার পতনের একদফা আন্দোলনের জন্য, আমরা সরকারকে সময় দিতেছি। কিন্তু সরকার আমাদের উত্তেজিত করার চেষ্টা করতেছে। আমরা যেন কোন ভায়োলেন্সে জড়িয়ে পড়ি সেই চেষ্টা করতেছে। কিন্তু আমরা সরকারের সে ফাঁদে পা দিব না। আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল মিটিংসহ আন্দোলন সংগ্রাম করব।

এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন