২০ বছর পর বক্তাবলী আ.লীগের সম্মেলন আজ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২২, ০৯:৩৩ পিএম
# নেতৃত্বে কারা আসছে
# ভোটে নেতা নির্বাচন চায় তৃণমূল
টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থেকেও নারায়ণঞ্জ আওয়ামী লীগ তৃণমূল সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে আছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে দীর্ঘদিন কমিটি না থাকা। তাই এবার বক্তাবলীতে কমিটির মাধ্যমে এখানে আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিক দলকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ স্পাদক শওকত আলী। তারই প্রচেষ্টায় আজ বক্তাবলী আওয়ামী লীগের সম্মেলন হতে যাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৩ সনে বক্তাবলী আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়। তখন বক্তাবলী আওয়ামী লীগের সভাপতি হন আফাজ উদ্দিন ভূইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম। এক যুগের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকার পরেও নারায়ণগঞ্জ সাংগঠনিক ভাবে তৃনমূলে শক্তিশালী হতে পারছে না। এই দিক দিয়ে বিএনপি এগিয়ে আছে।
অভিযোগ রয়েছে তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগের অবস্থা সবচেয়ে বেশি নরবড়ে। তার মাঝে সদর উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কমিটি না থাকায় একেবারেই নড়বড়ে অবস্থায় আছে ক্ষমতাসীন দল বলে জানান দলীয় নেতৃবৃন্দ। তবে আজকের কমিটি মাধ্যমে এখানে শক্তিশালী কমিটি হবে।
এদিকে সদর উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে দীর্ঘ ২০ বছর যাবৎ সম্মেলন থাকায় ইউনিয়নগুলোতে নতুন নেতৃত্ব তৈরী হচ্ছে না। আর এতে করে অনেক এলাকার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দিয়ে কোনরকম নামকাওয়াস্তে দলীয় কর্মসূচি পালন হয়। আবার কোন জায়গায় দলীয় কর্মসূচি পালনও হয়না।
কিন্তু অবশেষে সকল জল্পনা-কল্পনা শেষে ২০ বছর পর ফতুল্লা থানাধীন বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন হচ্ছে। ইতোমধ্যে এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সভাপতি সেক্রেটারি পদে আসার জন্য এক ঝাক নেতা মাঠে নেমে কাউন্সিলরদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন।
পশা পাশি জেলার বিভিন্ন দরবার থেকে শুরু করে থানা ও জেলার শীর্ষ নেতার কাছে দৌড়ঝাপ করতে কোন কার্পণ্য করেন নাই। স্থানীয় নেতা কর্মীদের দাবী তৃনমূলের ভোটের মাধ্যমে যেন বক্তাবলী আওয়ামী লীগে নেতা নির্বাচন করা হয়।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কমিটির নেতৃত্বে আসার জন্য একাধিক ব্যক্তি মাঠে নেমেছে। যারা এমপি শামীম ওসমানের আশীবার্দ পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন বলে জানা যায়। তাছাড়া যারা এই সাংসদের আশীর্বাদ পাবে তারাই হয়ত কমিটির দায়িত্বে আসতে পারে বলে মনে করেন খোদ দলীয় নেতারা।
এই দিকে বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সম্মেলন ঘিরে সভাপতি পদে লড়াইয়ে নেমেছে আবুল হোসেন, তিনি ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলীর কাছের লোক। তার বিপরীতে রয়েছেন বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক মাহমুদ। তাদের সাথে পিছেয় নেই সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীরা।
বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগে সাধারণ সম্পাদ পদে প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন তিন জন। তারা হলো, আনোয়ার হোসেন, বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. বাবুল হোসেন, বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম।
এদিকে সচেতন রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হচ্ছে বক্তাবলী ইউনিয়নের এমপি শামীম ওসমান। অথচ তার এলাকায় সাংগঠনিক ভাবে আওয়ামী লীগ দূর্বল হয়ে আছে। আর এতে করে তিনি তার ব্যর্থতার দায় এড়াতে পারেন না। একই সাথে শওকত চেয়ারম্যান ও ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল্লাহ বাদল দায় এড়াতে পারেন না। যা নিয়ে রাজনৈতিক বোদ্ধা মহলে আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে। তাই এখানে শক্তিশালী কমিটি চান নেতা কর্মীরা।
নেতা কর্মীদের ভাষ্যমতে এমপি-মন্ত্রীদের চারপাশে হাইব্রিডদের জয় জয়কার। পরিচয় গোপন করার শর্তে একাধিক তৃণমূল নেতা জানিয়েছেন, আদর্শের রাজনীতি বলতে আর কিছুই নেই এখন। আওয়ামী লীগের মতো একটি রাজনৈতিক দল কীভাবে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হচ্ছে। দুঃসময়ের নেতা-কর্মীরা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন। তাই ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করে পদায়ন করতে হবে। এখানে সম্মেলনের মাধ্যমে শক্তিশালী কমিটি হবে বলে মনে করেন নেতা কর্মীরা।
বক্তবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী শফিক মাহমুদ বলেন, আমি মনে করি যাকে দায়িত্ব দিলে দল সুসংগঠিত হবে তাকে নেতৃত্বে আনা হোক। তাছাড়া আগামী নির্বাচনে ভোট ব্যাংক বাড়াতে হলে তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরতে হবে। ভালো কাজগুলো মানুষের মাঝে তুলে ধরতে হবে।
আমি বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে প্রার্থী হিসেবে আছি। আমি চাই ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করা হোক। তাহলে নেতৃত্বের প্রতিফলন ঘটবে। আমাকে দায়িত্ব দেয়া হলে আমি দলকে সুসংগঠিত করার জন্য কাজ করবো।
বক্তাবলীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি দলের জন্য নিবেদিত দলের জন্য কাজ করেছেন। তাছাড়া নেতা কর্মীদের ঐক্য বদ্ধ করে দলকে সুসংগঠিত করে কাজ করেছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনের বিশাল ময়দানে চলার ক্ষেত্রে কখনো-কখনো অনিচ্ছাসত্ত্বেও ব্যক্তিগত শত্রুতা তৈরি হয়েছে এবং এটা হওয়াই স্বাভাবিক মনে করে এই ব্যক্তিগত শত্রুতা কে কখনোই আমি রাজনীতির সাথে মিশতে দেইনি এবং ভবিষ্যতেও দিবোনা।
এমন কি ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে আমার কাছ থেকে যেন কোন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক আঘাতপ্রাপ্ত না হয়, বিন্দু পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন না হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রেখে ছোট থেকে বড় যারাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে হৃদয়ে লালন করবে তারা আমার কাছে অতীব সম্মানের পাত্র হিসেবে সম্মানিত হবেন।
সভ্য মানুষ গুলাকে যদি কাছে টেনে নেওয়া যায় তাহলে আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক বাড়বে। আর সংগঠনে যদি দুষ্ট প্রকৃতির লোকেরা প্রবেশ করে তাহলে ভোট ব্যংক মাইনাস হবে। তাই বুঝে শুনে সঠিক ব্যক্তিদের দায়িত্ব দিতে হবে। কমিটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্লিন ইমেজের ব্যক্তিদের মাধ্যমে নেতৃত্বে এনে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। সেই সাথে বিতর্কিত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছ এবং দক্ষ ব্যক্তিদের দায়িত্ব দিতে হবে।
কেননা দল চলে সংগঠনের মাধ্যমে, আর সংগঠন শক্তিশালী করতে হলে নতুন নেতৃত্ব তৈরী করতে হবে। এখানে এমন ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেয়া হোক যাদের মাধ্যমে দল সুসংগঠিত হবে। সেই দিক দিয়ে তিনি দলে এগিয়ে আছেন বলে মনে করেন এই নেতা।
ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী বলেন, বক্তাবলীতে আমরা একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করার মাধ্যমে নেতা কর্মীদের জাগিয়ে তুলতে চাই। তাছাড়া এখানে ত্যাগীদের মুল্যায়নের মাধ্যমে দলকে শক্তিশালী করা হবে। আমি চাই যারা সংগঠনকে দক্ষ ভাবে নেতৃত্ব দিতে পারবে তারা কমিটিতে আসুক।
এস.এ/জেসি


