কেতাবে আছে গোয়ালে নেই অবস্থা জেলা শ্রমিকদলে
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০২২, ০৬:৩৩ পিএম
# তৃণমূল বিশৃঙ্খল, নেতার অভাব নাই
নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিকদল নামে বিএনপির একটি সংগঠন রয়েছে সেটা অনেকেই ভুলতে বসেছে। সাংগঠনিক বিবেচনায় জেলা শ্রমিকদলের রাজনীতির গতি অনেকটা নেই বললেই চলে। দলীয় সভা সমাবেশে জেলা শ্রমিকদলের নেতাদের ব্যাপক অংশগ্রহণের চিত্র দেখালেও সাংগঠনিকভাবে জেলা শ্রমিকদলকে শক্তিশালী করতে পারেনি।
এছাড়া দলীয় সভা সমাবেশে জেলা শ্রমিকদলের সংগঠন এবং সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের শনাক্ত করতে ব্যর্থ হন বিএনপির তৃণমূলের নেতৃবৃন্দরা। কারণ তারা জেলা শ্রমিকদলকে বিএপির তৃণমূলের নেতৃবৃন্দের কাছে পরিচিতি করতে পারেনি। এতে তাদের সাংগঠনিক অপারগতাকেই প্রকাশ পায়।
কিন্তু জেলা শ্রমিকদলের নেতৃত্বে থাকা শীর্ষ নেতৃবৃন্দরা দাবি করছেন সকল জেলার মধ্যে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে দ্বিতীয় বা তৃতীয় সারিতে আছে নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিক দল। তবে কমিটি মেয়দোত্তীর্ণ হলেও তারা দাবি করছে কেন্দ্রীয় শ্রমিকদলের কমিটি গঠনের পর তাদের কমিটি গঠন করা হতে পারে এর আগে কেন্দ্র থেকে জেলা শ্রমিকদলের কমিটি গঠনে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৫ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিমের সুপারিশ ক্রমে জেলা শ্রমিকদলের সাবেক সিনিঃ যুগ্ম আহবায়ক মো. মন্টু মেম্বার সভাপতি ও সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মোঃ মজিবুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিকদলের দল কমিটির অনুমোদন দেন কেন্দ্রীয় শ্রমিকদলের সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন।
কিন্তু কমিটি গঠনের পর জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক সংগঠনকে শক্তিশালী নেতৃত্বের মাধ্যমে জেলা জুড়ে তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। যার ফলে জেলা জুড়ে জেলা শ্রমিকদলের রাজনীতিতে এক প্রকার ঝিমুনী তৈরী হয়েছে। এছাড়া জেলা জুড়ে ইউনিট কমিটি গঠনে রয়েছে তাদের ব্যর্থতা।
কারণ দীর্ঘ চার বছর ধরে জেলা শ্রমিকদলকে নেতৃত্ব দিচ্ছে তারা এর মধ্যে জেলার আওতাভুক্ত দুটি থানা এবং পৌরসভা কমিটি করতে সক্ষম হয়েছে। উক্ত থানাগুলোর বিভিন্ন ইউনিটের কমিটিগুলো বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অন্যান্য থানা ইউনিট কমিটিগুলো এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা শ্রমিকদল নেতারা।
কিন্তু গঠিত কমিটিগুলোর মধ্যে যেগুলো জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের এলাকায় রয়েছে সেগুলো তাদের দখলেই রেখেছে এবং তারাই নেতৃত্ব দিচ্ছে। যেমন জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি মন্টু মেম্বার নিজেই ফতুল্লা শিল্প আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছে। কারণ ফতুল্লায় এলাকাই তার বাড়ি।
এছাড়া জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান সোনারগাঁ শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কারণ সোনারগাঁ থানাতেই জেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদকের বাড়ি। যার ফলে সোনারগাঁ পৌরসভা কমিটিও গঠন করেছে মজিবুরের রহমানের অনুগামীদের দ্বারা।
তবে আড়াইহাজারে কমিটি গঠন করা হলেও আড়াইহাজারে কমিটি গঠনের পর সাংগঠনকিভাবে শক্তিশালী না হওয়ায় কমিটি ভেঙ্গে দেয় জেলা শ্রমিকদল। কিন্তু আড়াইহাজার পৌরসভা এবং গোপালদী পৌরসভা কমিটি আহবায়ক কমিটি গঠন করে জেলা শ্রমিকদল।
তবে আড়াইহাজারে থানা শ্রমিকদলের কমিটি গঠন প্রক্রিয়া এখনো চলমান থাকলেও আড়াইহাজারের দুই প্রভাবশালী নেতার বিরোধ কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে এক প্রকার বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে। কারণ আড়াইহাজারের এই দুই প্রভাবশালী নেতা চায় তাদের নিজস্ব অনুগামী নেতাদের দ্বারা আড়াইহাজারের শ্রমিকদলকে প্রতিষ্ঠিত করতে।
এছাড়া রূপগঞ্জ থানা শ্রমিকদলের কমিটি গঠন করতে সক্ষম হয়েছে জেলা শ্রমিকদল। তবে রূপগঞ্জের পৌরসভা কমিটিগুলো এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। জেলা শ্রমিকদলের আওতাভুক্ত বাকি থানা কমিটিগুলোও এখনো করতে পারছে না জেলা শ্রমিকদল। গত চার বছরেও জেলা শ্রমিকদলের আওতাভুক্ত ইউনিট কমিটিগুলো গঠন না করারও ব্যর্থতা রয়েছে জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের।
তবে জেলা শ্রমিকদল নেতাদের ভাষ্যমতে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিকদল কমিটির বয়স চার বছর অতিবাহিত হয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেলেও এখনো কেন্দ্র থেকে তেমন নির্দেশনা পায়নি। তবে তারা জানায় কেন্দ্রীয় শ্রমিকদলের নতুন কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত জেলা শ্রমিকদলের কমিটিতে হাত দিবে না কেন্দ্রীয় শ্রমিকদল।
বর্তমানে জেলা শ্রমিকদলের নতুন কমিটি গঠন না হলেও চলমান আন্দোলন সংগ্রামে জেলা শ্রমিকদলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রে জেলা শ্রমিকদলের সাংগঠনিক গতি বাড়াতে হবে। পাশাপাশি জেলা শ্রমিকদলের ঝিমুনী কাটিয়ে জেলা শ্রমিকদলকে শক্তিশালী করতে হবে এমনটাই দাবি করছে জেলা শ্রমিকদলের তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ। এন.এইচ/জেসি


