Logo
Logo
×

রাজনীতি

দ্বিধাদ্বন্দ্বে বাম রাজনীতি

Icon

লিমন দেওয়ান

প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২২, ০৭:১৪ পিএম

দ্বিধাদ্বন্দ্বে বাম রাজনীতি
Swapno



# ভাড়াটিয়া প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবো না : হিমাংশু সাহা
# আমাদের মতো করে রাজপথে আন্দোলন করার চেষ্টা করছি : নিখিল দাস
# মুখে মুখে প্রস্তুতি, বাস্তবে কোন প্রস্তুতি নেই : আওলাদ হোসেন
 

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি পরিস্থিতি নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেকটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তখন নিজেদেরকে এখনো ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নিয়ে আসতে পারেনি বাম নেতৃবৃন্দরা। কিন্তু তারা মুখে মুখে বলছে আমরা প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পেরেছি। বাস্তবে তাদের ভালো কোন প্রস্তুতি দেখছে না সাধারণ জনগণ বাম রাজনীতির লোকেরা এখন নিজেরাই দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে।

 

 

অপর দিকে তাদের গণসংহতিসহ অনেকেই বেরিয়ে এসেছে যার কারণে আগে থেকে এখন আর তাদের ব্যাপক ভূমিকা যায় না। নির্বাচনকে সামনে রেখে এমনটাই দেখা যাচ্ছে।

 

 

সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর বাকি রয়েছে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের কিন্তু এখন পর্যন্ত নিজেদের দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে ব্যর্থতা দেখিয়েছে বাম রাজনীতির নেতৃবৃন্দ। নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদেরকে ৩ ভাগে বিভক্ত হতে দেখা গিয়েছে।

 

 

আর আগেই তাদের একদল বিএনপির সাথে পুরোপুরিভাবে যুক্ত হয়ে গেছে। যার কারণে তাদের আগের মতো কর্মীও দেখা মিলে না। তাই বুঝা যাচ্ছে অনেকটাই অত্বিস্ত সংকটে ভুগছে বাম রাজনীতি।

 

 

জানা যায়, দেড় দশক সময় ধরে বাম রাজনৈতিক দলগুলো বাম গণতান্ত্রিক মোর্চা নামে একটি জোটের মাধ্যমে আন্দোলন করার চেষ্টা করছে। কিন্তু এই আন্দোলনে তারা এদিকে যেমন জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারছে না, জনসমর্থন পাচ্ছে না, অন্যদিকে নিজেরা ও বিকশিত হতে পারছে না। এতে তৈরি হচ্ছে উপদল, তৈরি হচ্ছে উপদলীয় কোন্দল।

 

 

এই বাম দলগুলো জনগণের আদায়ের আন্দোলন সংগ্রামে অনেক ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগে ও বিএনপির বিভিন্ন প্রভাবশালী  নেতার প্রভাব দেখে ও তাদের অর্থ সম্পদের লোভে অনেকে ছুটে যাচ্ছে বিভিন্ন দলের পিছু। এর কারণে কিন্তু নানা রকম বিভ্রান্ত এবং হঠকারিতার কারণে বাম রাজনীতি চোরাবালিতে আটকে যায়।

 

 

এখন বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী  লীগের সাথে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল হল বিএনপি। বিএনপি ইতিমধ্যে রাজপথে ব্যাপক আন্দোলন সংগ্রাম করছে এবং বিশাল বড় বড় বিভাগীয় সমাবেশ করছে নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেকগুলো বুষ্টার কমিটি দিয়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে।

 

 

অপরদিকে আওয়ামী লীগ ও নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যাপক কাজ করছে এবং নতুন মুখ না থাকলে ও কমিটি দিয়ে বিশাল বড় বড় সম্মেলন করে দলের কর্মীদের অনেকটাই উৎসাহিত রেখেছে। অপর দিকে বাম রাজনীতি অনেকটাই অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে তাদের দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ভালো না দেখে অনেকেই বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দিকে হাঁটছে।

 

 

বাম নেতৃত্বে থাকা অনেক তৃণমূল নেতৃবৃন্দের ভাষ্য ভবিষ্যতে এই বাম রাজনীতির নেতাকর্মীরা আরো অনেক দলের দিকে ঝুঁকবেন এবং অত্বিস্ত সংকটে নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে পারে এই বাম রাজনীতি। কিন্তু নির্বাচন বাম দল থেকে নির্বাচনে যেতে অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তাদের ভাষ্য সকল বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দের মতোই তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করবে।

 

 

এ বিষয়ে বাংলাদেশে ওয়াকার্স পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক হিমাংশু সাহা যুগের চিন্তাকে জানান, আমরা সবাই কিন্তু নির্বাচনী দল। আমরা কোন ভাড়াাটিয়া প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবো না। আর এ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আমরা সেটাতে অংশগ্রহণ করবোই না কারণ আমরা গণতন্ত্রকে হরণ করা সরকারের অধীনে নির্বাচন করবো না। আমরা তত্ত্ববধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিব।

 

 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি দল (সিসিপি) নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি হাফিজুল ইসলাম যুগের চিন্তাকে জানান, আমরা আগামী নির্বাচন নয় সকল নির্বাচনেই মাঠে সক্রিয় থাকি। নির্বাচনের সময় নির্বাচন করবো এ ধরনের একটি উদ্দেশ্য থাকে আমাদের। কিন্তু আমরা এ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে অংশগ্রহণ করবো না।

 

 

আমরা তত্ত্ববধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আমরা অংশ গ্রহণ করোব। আমরা আমাদের দাবি জানিয়েছি কি ধরনের নির্বাচন চাই। আমি নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে ইতিমধ্যে নির্বাচনী প্রস্ততি শুরু করে দিয়েছি। আমরা বাসদ কমিউনিস্ট পার্টি যারা আছি আমরা কিন্তু একটি বিকল্প শক্তি গড়ে তুলতে চাচ্ছি এবং এটা হয়ে উঠবে । আর আমরা আমাদের জায়গা থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছি।

 

 

এ বিষয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক নিখিল দাস যুগের চিন্তাকে জানান, আমাদের সাংগঠনিক একটি প্রক্রিয়া রয়েছে তা হলো যদি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হয় তাহলে আমরা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবো না। আর যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হয় তাহলে আমরা নির্বাচনে অংশ নিব এটার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি আমাদের সামর্থ অনুযায়ী।

 

 

ইতি মধ্যে বর্তমান সরকারি দল এবং বিএনপি-গণসংহতি যেভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করছে আমরাও সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। বাসদ কমিউনিষ্ট পার্টি আমরা যারা সকলেই ইতিমধ্যে আমরা আমাদের মতো করে রাজপথে আন্দোলন করার চেষ্টা করছি। আমরা আমাদের মতো করে নির্বাচনে সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকবো।

 

 

ন্যাপ নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন যুগের চিন্তাকে জানান, বাম রাজনীতি দল মুখে মুখে বলে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছি কিন্তু বাস্তবে তারা এখনো কোনো প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারেনি। নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা কয়েকভাবে বিভক্ত হয়ে গেছে কেউ আছে ১৪ দলের সাথে কেউ আছে বিএনপির সাথে নানাভাবে তারা ভাগ হয়েছে বাংলাদেশে বাম রাজনীতিটা একটি অনঐক্যের প্রতীক।

এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন