মোবাইল ছিনতাই নিয়ে বক্তাবলী আ.লীগের সম্মেলন স্থগিত
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২২, ০৭:৪৭ পিএম
# থানায় জিডি, পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তেজনা
দীর্ঘ ১৯ বছর বহুল কাঙ্খিত ফতুল্লা থানাধীন বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন গত ২৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু সম্মেলন হলেও এখানে নেতা নিবার্চন কিংবা কমিটি ঘোষনা হয় নাই। তবে এই সম্মেলন নিয়ে ইতোমধ্যে বিতর্ক তৈরী হয়ে আছে। কেননা সম্মেলনের দিন সভাপতি প্রার্থী সমর্থকদের তর্ক বিতর্ক হয়।
সেখান থেকে হাতাহাতি মারিমারি পর্যন্ত হয়। এমনকি চেয়ার ভাঙচুর পর্যন্ত করা হয়। যার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে সম্মেলন স্থগিত করা হয়। পুনরায় নিরাপদ স্থানে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি ঘোষণার দাবী উঠলেও কিন্তু তা কতটুকু বাস্তবায়ন হবে নিয়ে সঙ্কায় আছেন নেতৃবৃন্দ। এছাড়া ডিরেক্ট কমিটি ঘোষণা হওয়ার আলোচনা হচ্ছে বলে জানান একাধিক নেতৃবৃন্দ।
এদিকে বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ্য করে ফতুল্লা মডেল থানায় জিডি করা হয়। যার জিডি নম্বর ২২২৫। বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদ স্থগিত সম্মেলনের সভাপতি প্রার্থী শফিক মাহমুদ এই জিডি করেন।
জিডিতে তিনি উল্লেখ্য করেন, বক্তাবলী এলাকার সোহেল, সেন্টু, মাকসুদুর রহমান বন্টি, জহুর উদ্দিনের নেতৃত্বে সম্মেলনে হামলা চালানো হয়। তিনি শফিক মাহমুদ এবং আবুল হোসেন প্রধান বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সম্মেলনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
২৬ নভেম্বর কমিটি গঠন নির্বাচনের দিন ধার্য ছিল। ওই দিন ভোট গ্রহণ চলা অবস্থায় মিথ্যা অযুহাত দেখিয়ে আবুল হোসেনের সমর্থকরা আমার মোবাইল ছিনতাইয়ের পায়তারা করেন। তখন আমাকে মারধর করার জন্য তেড়ে আসেন। একই সাথে আমাকে সম্মেলন স্থান ত্যাগ করার জন্য ভয়ভীতি সহ হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন।
আমার চিৎকারে আশ পাশের লোকজন কোনরকম ভাবে আমাকে তাদের হামলার কবল থেকে উদ্ধার করে। হামলাকারীরা উগ্রবাদী হওয়ায় উপস্থিত আমাদের আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং কর্মীদের তোয়াক্কা না করে দফায় দফায় হামলা চালান। এমনকি আমাকে হত্যার হুমকি দেন।
তিনি আরও বলেন, আবুল হোসেন প্রধানের সমর্থকদের হামলার কারণে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। হামলাকারী বিবাদী সন্ত্রাসীরা এখনো পর্যন্ত আমাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাকে হত্যার জন্য আমার বাড়ির আশ পাশে মহড়া দিচ্ছে। তাদের কর্মকান্ডে আমি নিরাপত্তাহীনতায় আছি। তাই তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য থানায় জিডি দায়ের করি।
অপরদিকে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বক্তাবলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত আলী জানান, ২৬ নভেম্বর আমাদের বক্তাবলী ইউনিয়নের সম্মেলন সুষ্ঠভাবে চলছিল। কিন্তু সভাপতি প্রার্থী শফিক মাহমুদ পরাজিত হবে বুঝতে পেরে তার সমর্থক এবং মহিউদ্দিন মেম্বারের লোকেরা মিলে আতর্কিত হামলা চালায়।
তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সব কিছু মিলিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মাঝে ক্ষমতাসীন দলের বক্তাবলী আওয়ামী লীগ নিয়ে উত্তেজনা চলছে। পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে বলে মনে করেন সচেতন মহল। এছাড়া সম্মেলন না করে পকেট কমিটি হতে পারে বলে আলোচনা হচ্ছে দলীয় নেতা কর্মীদের মাঝে। তবে নেতা কর্মীরা সঠিক নেতৃত্ব চান।
এস.এ/জেসি


