Logo
Logo
×

রাজনীতি

তৃণমূলে ঝিমুনি কাটাতে বিএনপি’কে ঢেলে সাজানো হচ্ছে

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১০:০৯ পিএম

তৃণমূলে ঝিমুনি কাটাতে বিএনপি’কে ঢেলে সাজানো হচ্ছে
Swapno


জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি দীর্ঘদিন যাবৎ ক্ষমতাচ্যুত অবস্থায় রয়েছে; যার কারণে তারা কোন আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হয়নি এবং ক্ষমতায় না থাকার কারণে তাদের জেলা ভিত্তিক কমিটি নিয়ে ও ভাবতে সময় পায়নি তারা।

 

 

নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা চলতি বছরে ব্যাপক আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সরকার পতনের বিরুদ্ধে মহাসমাবেশসহ মূল দল ও অঙ্গসংগঠনগুলোকে চাঙ্গা করার লক্ষ্যে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

 

 

তারই ধারাবাহিকতায় জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সকল পর্যায়ের জেলা, মহানগর ও অঙ্গসংগঠনগুলোকে নতুন মুখ দিয়ে ঢেলে সাজানো শুরু করে দিয়েছে; তারই ধারাবাহিকতায় পিছয়ে নেই নারায়ণগঞ্জ।

 

 

ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ ও সকল আন্দোলন সংগ্রামে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে এবং কেন্দ্রীয় ঘোষিত সকল কর্মসূচিতে তারা মাঠ পুরোপুরি দখল করেই নিচ্ছে এবং সকল পর্যায়ের অঙ্গসংগঠন ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে আরো শক্তিশালী করা নিয়ে কমিটি গঠন করছে।

 


দলীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় না থাকা ও দলের ভিতরের কর্মীদের নানা কোন্দলের কারণে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি অনেকটাই কর্মী সংকটে পরে গিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় দলকে আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নিয়ে ঘুরে দাড়িয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

 

 

ইতিমধ্যে তিনি খোঁজ খবর নিয়ে কে দলের জন্য জীবন দিতে প্রস্তত এমন কর্মী খুঁজে খুঁজে নানা দায়িত্ব তুলে দিচ্ছেন। তার কারণে পূণরায় দলটি আবার লোকারন্ন হয়ে উঠে এবং নানা ভূমিকা পালন করা শুরু করেছে। ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নিয়ে নানা সময় নানা চমক দিচ্ছে দলটি।

 

 

১৩ সেপ্টেম্বর সাখাওয়াত হোসনকে আহ্বায়ক ও আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে সদস্য সচিব করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ৪১ বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। তার পর থেকেই মহানগর বিএনপি মাঠে ব্যাপক কর্মী দ্বারা আন্দোলন সংগ্রাম করে যাচ্ছে।

 

 

মহানগরে আওতাধীন সকল ওয়ার্ড কমিটি গঠন শুরু করে দিয়েছে। ১৫ই নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপিতে আহ্বায়ক ৪ আসনের সাবেক সাংসদ গিয়াস উদ্দিন ও গোলাম ফারুক খোকনকে সদস্য সচিব করে ৯ সদস্য বিশিষ্ট বুষ্টার কমিটি গঠন করেন কেন্দ্র।

 

 

বিগত কমিটিতে দেখা যেত সকল কর্মীদের ভিতরে কোন্দল সকল পোগ্রামে হট্টগোল ইত্যাদি বিশৃঙ্খলা। কিন্তু নবাগত কমিটি হওয়ার পর থেকেই জেলা বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অনেকটাই উজ্জ্বীবিত ভাব দেখা যাচ্ছে; এবং অনেকটা চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।

 

 

১৬ মার্চ গোলাম ফারুক খোকনকে আহ্বায়ক ও মশিউর রহমান রহমান রনিকে সদস্য সচিব করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে কেন্দ্র। কমিটি গঠনের পরে নানা আন্দোলন সংগ্রামে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছেন। পরবর্তীতে গোলাম ফারুক খোকনকে যুবদলের আহ্বায়ক পদ থেকে নিয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব করা হয়।

 

 

ফলে আহ্বায়ক পদ খালি সেই পদে ও যোগ্য প্রার্থী দ্বারা পূরণ করা হবে। অপর দিকে ২০২১ সালের ১৬ নভেম্বর মমতাজ উদ্দিন মন্তুকে আহ্বায়ক ও মনিরুল ইসলাম সজলকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের নামে নানা অভিযোগ রয়েছে কেন্দ্রে।

 

 

অপর দিকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল, জেলা ও মহানগর ছাত্রদলে রদ-বদল আসতে পারে শীগ্রই যার কারণে নির্বাচনের আগেই শক্তিশালী হয়ে ঘুরে দাঁড়াবে বিএনপি। প্রথমে সকল কমিটি আংশিকভাবে রূপ ধারন করে পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ করা হবে যার পর্যায়ের তৃণমূল ঐক্যবদ্ধ হয়ে ব্যাপক ভূমিকা পালন করতে পারবে।

 

 

ইতি মধ্যেই সকল কমিটি শক্তিশালীভাবে গঠন হয়ে যাওয়ার কথা থাকলে ও ১০ই ডিসেম্বরের জন্য অনেকটাই পিছিয়ে পেড়েছে। তৃণমূল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ আশা করছে। ১০ই ডিসেম্বরের পরেই সকল কমিটি গঠন হয়ে বিএনপি আগে থেকে অনেকটাই শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

 

 

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম ফারুক খোকন যুগের চিন্তাকে বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলাতে সাংসদীয় আসন ৫টি। এর মধ্যে থানা ৭টি ইউনিয়ন ৩৩টি এবং ওয়ার্ড ৩৫২টি এর মধ্যে পৌরসভা ৫টি সিটি কর্পোরেশনের ১টি। সকল ওয়ার্ডে আমাদের যে অঙ্গ সংগঠন আছে সকলে মিলে আজকে আমরা নয়া পল্টনে একটি প্রস্তুতি মিটিং করেছি সংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে।

 

 

এখন পর্যন্ত আমাদের অনেকটি ওয়ার্ড কমিটি রয়েছে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট ৫১ সদস্য বিশিষ্ট আবার ৭১ আছে আমি যেটা ব্যক্তিগতভাবে চাই ১০১ সদস্য বিশিষ্ট করার জন্য। আর বিএনপির মূল শক্তিহল তৃণমূল আর এ তৃণমূলটাই হলো ওয়ার্ড কমিটি। আমরা ইতি মধ্যে এগুলো নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছি।

 

 

প্রত্যেকটি ওয়ার্ড এবং অঙ্গ সংগঠন আমরা নিজেরা থেকে এগুলোকে শক্তিশালী করার লক্ষে এবং সুশিক্ষিত কর্মী তৈরি করার লক্ষে পাশাপাশি আমরা একটি প্রশিক্ষিত সেল গঠনের চিন্তা ভাবনা করতেছি। যেখান থেকে গবেষণা মূলক কার্যক্রম হবে।

 

 

শহিদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ নিয়ে আর উনি যেভাবে দেশ গড়তে চেয়েছিলেন উনার যে স্বপ্ন উনার ১৯ দফা কর্মসূচি এগুলো সমন্ধে আমাদের কর্মীদেরকে আরো পড়াশোনার করার জন্য আমরা এ ধরণের উদ্দ্যেগ নিয়ে কাজ করছি। আর রাজনীতি হলো মানুষের সেবা করা আর নেতৃত্বের চেয়ে দল বড় দলের চেয়ে দেশ বড়।

 

 

সকল কর্মীদের সেভাবে গড়ার লক্ষ্যে নিয়ে আমরা কাজ করছি এবং আগামী নির্বাচন নানা আন্দোলন সংগ্রামকে সামনে রেখে আমরা দল ও অঙ্গসংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছি।

 


 
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু যুগের চিন্তাকে জানান, “আমাদের মহানগর বিএনপির আওতাভুক্ত ১৭টি ওয়ার্ড ৭টি ইউনিয়ন এ ২৪টি মধ্যে আমরা কাজ শুরু করে সব গুছিয়ে ২টি ইউনিয়নের সম্মেলন করেছে।

 

 

বাকি কমিটির কাজ করার ভিতরেই সরকারের বিভিন্ন মামলা হমলা গ্রেফতারি পেরোয়ানা শুরু করে দিয়েছে। অন্যদিকে আগামী ১০ই ডিসেম্বর আমাদের বিশাল সমাবেশ সেদিকে খেয়াল রেখে ও আমাদের কাজ করতেছি।

 

 

আর এখন আমরা আপাতত কেন্দ্রের নির্দেশে ওয়ার্ড কমিটি গঠন বন্ধ রেখেছি। কারণ যদি সম্মেলনগুলো হয় তাহলে নেতাকর্মীরা আরো মামলা হামলার শিকার হবে। আমরা উদ্দেশ্য ছিল ১০ই ডিসেম্বরের আগেই আমরা মিনিমাম ১০ থেকে ১৫টি ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড কমিটি করে ফেলবো।

 

 

কিন্তু সরকারের নানা ভৌতিক মামলা হামলার জন্য সেটা আর হয়ে উঠেনি। ইনশাআল্লাহ আমাদের সব গুছানো আছে আমরা ১০ই ডিসেম্বরের পরেই সম্মেলনের কার্যকালাপ আবার শুরু করে দিব।”

 


 
এ বিষয়ে বিএনপির অঙ্গসংগঠন ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করে জানা যায়, ১৫ নভেম্বর জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের সাবেক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা দেয় কেন্দ্র। শূণ্য অবস্থানে শীঘ্রই দায়িত্ববান নেতৃত্ব দ্বারা পূরণ করা হবে।

 

 

তারই ধারাবাহিকতায় ছাত্রদলের প্রার্থীদের জোরদার লবিং ও তাদবির চলছে। অপর দিকে জেলা যুবদলে ও শূণ্যস্থান পূরণ করা হবে কর্মীবান্ধব ও তৃণমূল নেতৃত্ব দ্বারা। আরো জানা যায়, কোন কমিটিতে কোন দূর্বলতা দেখা দিলে কমিটিকে পুনরায় গঠন করা হবে।

 

 

কারণ বিএনপি একটি কর্মীবান্ধব দল। এ দলে ব্যাপক আকারে যোগ্য নেতাকর্মী রয়েছে। বিএনপির সকল অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ভাষ্য সামনে বিএনিপকে আরো বিশাল আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে।

 

 

তারই ধারাবাহিকতায় তৃণমূল দ্বারা কমিটি গঠন করা হচ্ছিল। তারই মধ্যে নানা মামলা হামলার কারণে নাবাগত কমিটি করতে পিছিয়ে পরেছে কেন্দ্র। আমরা আশা করছি ১০ই ডিসেম্বরের পরেই বিএনপি আগে থেকে আরো বেশি গরম রাখার ভূমিকা পালন করবে নির্বাচন পর্যন্ত। এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন