# নির্বাচন আসলে ১৪ দল সক্রিয় হয় : আনোয়ার
# ১৪ বছরে শরীক দলের নেতৃবৃন্দের মূল্যায়ন নেই: আওলাদ
# সংকটে ক্ষমতাসীন দল
আগামী জাতীয় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ চাচ্ছে টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকার পর আবারও ক্ষমতায় থাকতে। তার বিপরীতে দেশের প্রধান বিরোধী দল জাতয়ীয়তাবাদী দল বিএনপি আন্দোলন করে সরকারকে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে নিজেরা ক্ষমতায় আসার জন্য নানা ভাবে রাজপথে কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে।
কিন্তু এই দুই দলের রাজনীতি মাঠ নিয়ে সর গরম থাকলেও তাদের শরীকদের নিয়ে কি ভাবা হচ্ছে তা এখনো আলোচনায় নেই। আর এতে করে জেলা পর্যায়ে শরীক দল গুলো ঘাপটি মেরে বসে আছে। আবার কেউ কেউ আওয়ামী লীগের সাথে শরীক থেকে বের হয়ে যাওয়ার ঘোষনা দিয়ে পুনরায় আগের অবস্থানে থেকে যাচ্ছে। এতে করে তাদের নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।
এদিকে গোটা বিশ্ব এখন এক ধরনের অস্থির সময় পার করছে। রাজনীতি ও অর্থনীতি দুই ধরনের অস্থিরতাই লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিশ্বজুড়ে। এর প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশেও। বিশেষ করে বিদ্যুৎ সংকট, ডলার বাজারের অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট, বৈদেশিক রিভার্জ কমে যাওয়া, মূল্যস্ফীতিসহ বেশ কিছু সংকট চলছে বাংলাদেশে।
সংকট মোকাবিলায় সরকার লোডশেডিং দিচ্ছে এবং ব্যয় সংকোচন নীতি গ্রহণ করেছে। বিশ্বব্যাপীই এমন পরিস্থিতি। তবে দেশের এমন সংকটের জন্য সরকারের ভুলনীতির কথা বলছেন। আর বিএনপি এই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে। অন্যদিকে গণমাধ্যমে প্রতিনিয়ত সরকারের সমালোচনা হচ্ছে বর্তমান সংকটের পরিস্থিতি নিয়ে।
বিএনপিও এখন সংকটকে সামনে রেখে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হয়ে রাজপথ দখল করে রেখেছে। তবে পিছিয়ে নেই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। তারাও ইতোমধ্যে আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় থাকার জন্য প্রচারনায় নেমেছে ১ বছর আগে থেকেই। তবে আওয়ামী লীগের শরীকদের এবার তৎপরতা নেই। তাদের অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
এছাড়া যে কয়টা শরীক দল আছে সে গুলোও নানা সময়ে সরকারের সমালোচনা করে বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। আর এতে করে তারা যে শরীক দলে আছে নাকি শরীক ছাড়া রয়েছে তাও বুঝার উপায় নেই। তাই তাদেরকে অনেকে সুবিধাবাদি বলেও আখ্যা দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান সংকট মোকাবেলায় শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে সে ধরনের কোনো উদ্যোগ নেই। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কিছু কর্মসূচি থাকলেও সঙ্গে নেই ১৪ দলীয় জোট শরিকরা।
ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের অনাগ্রহের কারনেই শরীকরা তাদের পাশে নেই। কেননা জেলার ক্ষমতাসীন দলের সমন্বয়কারী নেতারাও তাদের নিয়ে কোন কর্মসূচিতে নেই। আর এনিয়ে শরীক দলের নেতাদের মাঝে এক প্রকার ক্ষোভ রয়েছে। কিন্তু বর্তমান সংকটে আওয়ামী লীগ অনেকটা একা হয়ে পড়েছে। তাই মাস খানিক আগে এক সভায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী জেলা পর্যায় ১৪ দলের শরীকদের সক্রিয় করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে।
তবে সেই নির্দেশনার কোন কর্ণপাত হচ্ছে না। শরিক দলগুলোর অনেকেই ক্ষুব্ধ। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও জোটের সঙ্গে কর্মসূচিতে নেই বাংলাদেশ জাসদ। তারা বিকল্প জোট গঠনের বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে।
কিন্তু মনক্ষুন্ন নিয়ে ১৪ দলের শরীক দলেই আছেন এখনো তারা। এদিকে সম্প্রতি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি নিজেদের জোট সম্প্রসারণের কাজ শুরু করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় গন সংহতি, গণ অধিকার পরিষদ বিএনপির সাথে জোট গঠন করে নারায়ণগঞ্জে সমাবেশ করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাথে মহাজোট গঠনে নারায়ণগঞ্জে সবচেয়ে সুবিধা জনক অবস্থায় আছে জাতীয় পার্টি, এখানে তাদের ২ টি আসনে এমপি রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে এমপি হয়ে আছেন লিয়াকত হোসেন খোকা, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সেলিম ওসমান এমপি হিসেবে আছেন।
এছাড়া হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি হিসেবে আছেন মুসলে উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্বে রয়েছেন শাহ জাহান।
একই সাথে বাংলাদেশের ওর্য়াকার্স পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি পদে আছেন হাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন হিমাংসু সাহা, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) জেলার সভাপতির দায়িত্বে আছেন এড. এবি সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আছেন এড. আওলাদ। তবে বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টি, বাংলাদেশ সাম্যবাদি দলে কারা রয়েছেন তার কোন হদিস নেই।
শরিক দলের মাঝে ৪ দলের নেতৃবৃন্দ জেলায় আছে। বাকিদের কোন হদিস নেই জেলা পর্যায়ে। তারা হলেন, বাংলাদেশ গণতন্ত্রী পার্টি ,গণ আজাদী লীগ, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি ও কমিউনিস্ট কেন্দ্র ,শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দল। ৫টি দলের নারায়ণগঞ্জে কারা আছে তাদের নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেই সাথে এখানে ক্ষমতাসীন দলের শরিকরা কোন ভুমিকায় আছে তা নিয়েও আলোচনা তৈরী হচ্ছে।
তবে শরিক দলের মাঝে সবচেয়ে সুবিধা জনক অবস্থায় আছে জাতীয় পার্টি। তারা অনেকটা দাপটের সাথে এখানে রাজনীতি করে যাচ্ছে। এমনকি ক্ষমতাসীনদের থেকে ভালো আছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে ১৪ দলের শরীক দল বাংলাদেশের ওয়ার্কাস পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলা সাধারণ সম্পাদক হিমাংসু সাহা বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাদের অনাগ্রহের কারণেই শরীক দলের নেতৃবৃন্দ তাদের পাশে নেই। তারা নিজেদের আধিপত্যের জন্য শরীক দলের নেতা কর্মীদের তাদের পাশে পান না।
তবে আমরা ঠিকই ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার সাহেবকে আমাদের অনুষ্ঠানে দাওয়াত করি। তবে তিনি আমাদের নিয়ে এক কাপ চা খাওয়ারও কথা বলে নাই। তবে আমরা শোষনমুক্ত সমাজ চাই। এখনো আওয়ামী লীগের সাথে ১৪ দলের শরীক দলে আছি। মাস খানিক আগে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা ১৪ দলের শরীকদের সক্রিয় কারার নির্দেশনা দিলেও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের কোন তৎপর দেখছি না।
জেলা সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সাধারণ সম্পাদক শাহ জাহান বলেন, ১৪ দলের সাথে আমাদের শরীক ছিল এখনো আছে। কিছু দিন আগেও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন আমরা ১৪ দল শরীক নিয়ে ঐক্য গঠনে আছি।
তবে জেলা পর্যায় কিংবা অন্যান্য সময়ে তারা যখন বিপদে পরে তখন আমাদের ডাকেন। এছাড়া তাদের সাথে আমাদের কোন হালুয়া রুটির ভাগ ভাটোয়ারা নেই। এমনকি ক্ষমতাসীনদের থেকে আমরা সুবিধা নেই নাই।
ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) জেলার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আছেন এড. আওলাদ বলেন, স্বাভাবিক ভাবে ১৪ দল সক্রিয় না। ১৪ দল ছিল একটি কর্মসূচি ভিত্তিক জোট দল যা এখনো আছে। এই শরীক দল গুলো নির্বাচন কেন্দ্রিক সক্রিয়। নরমাললি সক্রিয় না। তবে নারায়ণগঞ্জে ১৪ দলের সমন্বয়ক আনোয়ার হোসেন সক্রিয় করার চেষ্টা করেছেন।
কিন্তু গত ১৪ বছরের ১৪ দলের শরীক দলের নেতৃবৃন্দের মূল্যায়ন নেই। নামকাওয়াস্তে জোট রয়েছে। ইভেন আওয়ামী লীগের সম্মেলনেও ১৪ দলের নেতাদের দাওয়াত দেয়া হয় নাই। আমরা পাই নাই। আইনশৃঙ্খলা সভা কিংবা বিভিন্ন ফোরামে ১৪ দলের কাউকে ডাকা হয় না।
জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সানাউল্লাহ সানু জানান, দল গত জোট এক বিষয় আর দলীয় কর্মসূচি ভিন্ন বিষয়। দলীয় ভাবে যার যার কর্মসূচি তার তার কাছে। যার সাথে জোট করি না কেন আমরা দলের ভিত্তিতে রাজনীতি করি। আওয়ামী লীগের সাথে জোটের কারনে আমরা ভাগাভাগি করে নির্বাচনে মানুষের কাছে গিয়ে ভোট চাই।
দল আমাদের যে কর্মসূচি দিবে আমরা তাই মেনে চলবো। রাজনৈতিক বোদ্ধ মহলের মতে ক্ষমতাসীন দলের সাথে তাদের শরিক দলের দূরত্ব বাড়ছে। এমনকি তাদের সাথে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের তেমন একটা সমন্বয় নেই বলে জানান স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ১৪ দলের সমন্বয়ক আনোয়ার হোসেন বলেন, ১৪ দলের শরীক দলগুলো হলো নির্বাচনমুখী দল। নির্বাচন আসলে তারা সক্রিয় হন। নির্বাচন চলে গেলে তাদের তেমন একটা সক্রিয় পাওয়া যায় না। এছাড়া তাদের কোন কর্মসূচি থাকলে সেখানে আমাদের আসা যাওয়া থাকে।
একই সাথে তাদের সাথে আলাপ আলোচনা রয়েছে। সব কিছু মিলিয়ে রাজনৈতিক বোদ্ধ মহলে আলোচনা হচ্ছে শরীক দল গুলো বিভিন্ন সময় সরকারি দলের সমালোচনা করতে কোন কারপন্য করেন নাই। বিভিন্ন ইস্যুতে সভা সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করে যাচ্ছেন।
এস.এ/জেসি


