# এক যুগের বেশি মানুষ খারাপ কিছুর মধ্যে আছে : হাফিজুল
# দেশকে আরো সমস্যার দিকে ঠেলে দিচ্ছে : নিখিল দাস
# দেশের গণতন্ত্রকে নষ্ট করেছে : অঞ্জন দাস
আগামী ১০ই ডিসেম্বরেকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইতি মধ্যে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ১০ই ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে সরকারি দলের নেতাকর্মীরা নানা নাশকতা মামলা ও হামলা করে যাচ্ছেন।
অপর দিকে বিএনপির এ সমাবেশকে ঠেকাতে প্রস্তুুত হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগ। তাদের মধ্যে এ সমাবেশ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে দিয়ে পুরো আতঙ্ক তৈরি করেছে দেশে। এ সমাবেশকে সফল করার লক্ষ্য নিয়ে অনেক বাম রাজনীতির অনেক নেতাকর্মী তাদের সাথে জোট রাজনীতি লিপ্ত হয়ে রয়েছে।
অপর দিকে আওয়ামী লীগের সাথে জোট হয়ে অনেক বাম রাজনীতির কর্মীরা সমাবেশকে সফল হতে না দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন। যার কারণে তৃণমূল বলছে বাম রাজনীতির নেতাকর্মী লিপ্সু হয়ে অর্ধেক আওয়ামী লীগে ঝুঁকছে অর্ধেক বিএনপিতে।
সূত্রে জানা যায়, অতীতে বাম রাজনীতির একটা প্রভাব ছিল। দেশের জেলায় কিন্তু এখন তা আর আগের মত দেখা যায় না। কারণ সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এখন আর ঐক্যবদ্ধভাবে বাম রাজনীতি পরিচালনা করে না। আর সকল নেতৃবৃন্দ এখন অনেকটাই অর্থলীপ্সু হয়ে গেছে । যার কারণে সাধারণ মানুষের সকল প্রকারের দু:খে কষ্টে পাশে থাকা বাম রাজনীতি আর আগের মতো শক্তিশালী নেই।
তারা এখন বাম রাজনীতিতে কোন প্রকারের সুবিধা না পেয়ে বেশির ভাগ নেতাকর্মী বাম রাজনীতি ছেড়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সাথে জোট বাধঁছেন। যার কারণে অনেকটাই অস্তিত্ব হারানোর পথে রয়েছে এ বাম রাজনীতি।
অপর দিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে এ বাম রাজনীতির নেতৃবৃন্দ ইতিমধ্যেই তিনভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে আর অপর দিকে নির্বাচন ঘনিয়ে আসলে তাদের মধ্যে আরো বিভক্তির দেখা দিতে পারে বলছে তৃণমূল।
এর আগে ২৭ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু বলেছিলেন, বামপন্থী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরা যে কথাগুলো বলছেন, সেগুলো তাঁদের নিজেদেরই বিপক্ষে যাচ্ছে।
বামপন্থীরা বিএনপি-জামায়াতের মতো বক্তব্য দিচ্ছেন। ‘আমাদের দেশে বামপন্থীদের কথা ও রাজনীতি আর বিএনপি-জামায়াতের কথা ও রাজনীতি এক হওয়ার কথা নয়। কিন্তু লক্ষ করা যায়, বামপন্থী হিসেবে পরিচিতরা যে কথাগুলো বলছেন, সেসব কথা তাঁদের নিজেদের বিপক্ষে যাচ্ছে।
এখন দেশে রাজনীতিতে অনেকটাই পরিচিত হয়ে উঠেছে ১০ই ডিসেম্বর যা মানুষের মুখে মুখে এখন শোনা যাচ্ছে। অপর দিকে সাধারণ মানুষের একটি আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে এ ১০ই ডিসেম্বর। কিন্তু দেখা মিলছে ১০ই ডিসেম্বরকে সামনে রেখে বাম রাজনীতি নেতাকর্মীদের মধ্যে যারা বিএনপি বা আওয়ামী লীগের সাথে জোট হয়ে গেছে এখন যার যার স্বার্থ হাসিলে অনেকটাই সামনের দিকে আছে।
ইতি মধ্যে আওয়ামী লীগের সাথে ১৪ দলগত ভাবে জরিত রয়েছে যেমন, ন্যাপ, ওয়াকার্স পার্টি, গণতান্ত্রিক পার্টি এ ধরণের বামের আরো কিছু দলে রয়েছে। আর গণতন্ত্রপূর্ণ উদ্ধারের নামে আরো আছে যেমন, নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি, বিল্পবী ওয়াকার্স পার্টি এরা তাদের সাথে সাথে জোট বদ্ধ আন্দোলনের নামে রয়েছে।
আর সিপিবি, বাসদ একটা আলাদা বাম তারা ও আন্দোলন সংগ্রাম করতে যাচ্ছে। কিন্তু বামদের অনৈক্যতার কারণে অনেক সমস্যার সম্মূখীন হতে হচ্ছে তাদের। এবং এমনটা চলতে থাকলে বর্তমানে যতটুকু লোক তাদের সাথে আছে সকলেই তারা অন্য একটা দলের সাথে জোট হয়ে বামকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারে। এমনই ধারনা করছেন বামের তৃণমূল নেতৃবৃন্দ। ইতি মধ্যে ১০ই ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে যারা যারা বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে সমর্থন করছেন তারা হলো।
১০ই ডিসেম্বর নিয়ে আওয়ামী লীগকে সমর্থন করছে বামের যে অংশ ওয়ার্কাস পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক হিমাংশু সাহা তার বক্তব্যের মাধ্যমে জানান, ১০ই ডিসেম্বরকে নিয়ে আমরা কিছুই মনে করি না। আমার বিএনপির যে সর্বশেষ মহাসমাবেশ ১০ই ডিসেম্বরে বিএনপি দেশে স্বৈরাচারি সরকার পতন করে বিপ্লব ঘটাবে আমরা এমনটা মনেই করি না।
একটা বিল্পব ঘটাতে হলে আগে এটার প্রস্তুতি ব্যাপকভাবে নেওয়া লাগে। আমি এ ধরণের প্রস্তুতি কাউকে নিতে দেখছি না। শুধু দেখছি নানা সময় নানা হুঙ্কার দিচ্ছে অনেক দলের নেতাকর্মীরা কিছু করতে পারবে এমনটা আমি কাউকে দেখছি না। আমি মনে করি এখন যে হুঙ্কার হচ্ছে সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকবে কিন্তু দেখা যাবে ১০ই ডিসেম্বর কিছুই হবে না।
ন্যাপ নেতা জাবেদ আহম্মেদ বলেন, ১০ই ডিসেম্বর বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের দলীয় কর্মসূচি মহাসমাবেশ পালিত করবে। এবং এ ১০ই ডিসেম্বরে কিছু হবে বলে আমি মনে করছি না। তারা যেভাবে আন্দোলন সংগ্রাম করে দেশের গণতন্ত্র পূর্ণ উদ্ধারের জন্য মাঠে নেমেছেন আমি মনে করি না এটার মাধ্যমে কোন কিছু হবে।
ন্যাপ নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারন সম্পাদক আওলাদ হোসেন যুগের চিন্তাকে জানান, ১০ই ডিসেম্বর নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য প্রধান করছেন। এ বক্তব্যে জনগণের কিছু আসে যায় না। এখন রাজনীতিতে কি হচ্ছে তা দেখার সময় জনগণের আর নেই।
কারণ দেশের এখন দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাসের অভাব, বাস ভাড়া বৃদ্ধি, স্কুল কলেজে ছাত্র-ছাত্রীদের বেতন বৃদ্ধি, শিক্ষার উপকরন বৃদ্ধি যার কারণে মানুষ এখন অনেকটাই কষ্টে আছে। তাই এখন কি হচ্ছে কি হবে তাদের কিছু আসে যায় না।
আমরা ও এখন চাই এ সরকারকে হাটিয়ে একটা ভালো পরিস্থিতি সৃষ্টি না হলে গরিব মানুষের কোন উপকার হবে না। গণতন্ত্রের নামে ক্ষমতার পালা বদল হবে। ব্যবসায়ী, রাজনীতিবীদ তাদের হাতে ক্ষমতা যাবে মানুষের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হবে না। এখন ১০ই ডিসেম্বর কিছু না সবাই ক্ষমতা বদলে ব্যস্ত।
বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি হাফিজুল ইসলাম যুগের চিন্তাকে জানান, ১০ই ডিসেম্বর নিয়ে আমাদের কোন ভাবনা নেই। কারণ এটাতো আমাদের কোন কর্মসূচি না। বিরোধী দল বিএনপি সমাবেশ ডেকেছে এটার তাদের অধিকার আছে।
কিন্তু বর্তমান সরকার তাদের যেভাবে বাধা দিচ্ছে এটা বলার মতো না। আমরা বিএনপির সাথে না থাকলে ও এ বিষয়ের প্রতি তীব্র নিন্দা জানাই। আর এ সরকার একজন স্বৈরাচারী সরকার তাদের ধারা এ ধরনের কার্যকালাপ শুধু এখন না এটা জনগণ ১৪ বছর ধরইে ভোগ করছে।
বাম জোটের নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক নিখিল দাস জানান, এখন ১০ই ডিসেম্বর বিএনপি যে মহা সমাবেশ ডেকেছে এটা তারা করতেই পারে কারণ তারা দেশের জনগণ বা বিরোধী নেতৃত্বে রয়েছে।
এটা আটকানোর কোন অধিকার নেই বর্তমান সরকারের। কিন্তু তারা বাধা দিচ্ছে পাল্টা বক্তব্যে দিচ্ছে এটা করে আরো দেশকে আরো সমস্যার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এখন তারা মানুষকে দুইভাগে বিভক্ত করে রাখছে। আর সরকারি পক্ষ থেকে যে ধরণের উত্তেজনা বক্তব্যে দিচ্ছে তার কারণে জনগণের মনে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে।
গণসংহতির নারায়ণগঞ্জের সমন্বয়ক তরিকুল সূজন যুগের চিন্তাকে জানান, বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল তারা আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকাতে একটি মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে। ফলে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের সমাবেশ করবার অধিকার আছে। এখন আওয়ামী লীগ যদি সেটাকে একটা সহিংসতার দিকে ঠেলে দিতে চায় তার সম্পূর্ণ দায়বার কিন্তু আওয়ামী লীগের।
বাংলাদেশে এখন যে রাজনৈতিক অবস্থা আমি মনে করি আওয়ামী লীগ পুরো বাংলাদেশকে একটি সৃতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়। আওয়ামী লীগের উচিত হবে তার প্রশাসনসহ সমস্ত জেলা থেকে বিএনপির এই সমাবেশকে করতে সহযোগীতা করা। তা না করে আওয়ামী লীগ তাদেরকে হুমকি দিচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, আমি মনে করি নারায়ণগঞ্জে একসাথে যে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ পুরোটাই সাজানো এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে এ ইস্যু দেখিয়ে নানা মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। সোনারগাঁ, সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা, বন্দর, আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ নানা জায়গায় থেকে তারা তাদেরকে গ্রেফতার করছে এবং একটি হয়রানি মূলক পরিস্থিতিতে রেখেছে।
এই ধরনের কর্মকান্ড আওয়ামী লীগ আগে ও করেছে এখনও করছে। আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই আওয়ামী লীগ যাই করুক এবার তারা তাদের ক্ষমতাকে রক্ষা করতে পারবে না। আমি প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে বলতে চাই তাদের উচিত ও কর্তব্য হচ্ছে নাগরীকের অধিকার রক্ষায় কাজ করা।
তারা কোন দলের দলীয় কর্মী না। কিন্তু বর্তমানে প্রশাসন আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মী হিসেবেই আচার আচরণ করছে। আমি তাদের আহ্বান জানাই সকল রাজনৈতিক দলের সভা সমাবেশ করার অধিকার আছে। প্রশাসন যেন সেটাকে সহযোগীতা করে। তারা কোন দলের কর্মীর মত আচরণ যাতে না করে।
গণসংহতির নেতা অঞ্জন দাস জানান, ১০ই ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশের ১ম পূর্ব অনুষ্ঠিত হবে। আর তার পরে ২য় পূর্ব শুরু হবে। এর আগে সকলে জানে ২০১৪ সালের নির্বাচনে কি হয়েছে ২০১৮ সালে রাতে ভোট দেওয়া হয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে এ সরকার দেশের গণতন্ত্রকে নষ্ট করেছে। এ আওয়ামী লীগ সরকার দেশের মানুষের ভোটের অধিকারকে হরন করেছে।
দেশকে একটি নরক্ষেত্রে পরিনত করেছে। এখন সরকার দেশ কে একটি ফ্যাসিবাদী দেশে পরিনত করেছে। এ সকল বিষয়ে নিয়ে মাঠে নেমেছে বিএনপি। তাই আমরা বিএনপির সাথে যুগপৎ আন্দোলনে এক আমরা বিএনপির সাথে আছি।
অপর দিকে ১০ই ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে সরকারি দলের পক্ষ থেকে যেভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। গায়েবী মামলা ও হামলার শিকার হচ্ছে তারা। আমরা এটার তীব্র নিন্দা জানাই।
এস.এ/জেসি


