Logo
Logo
×

রাজনীতি

পাড়া-মহল্লায় পাহারায় থাকবে আ.লীগ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:১৯ পিএম

পাড়া-মহল্লায় পাহারায় থাকবে আ.লীগ
Swapno

 

# তৃণমূলকে সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দিয়েছেণ বেশ কয়েক নেতা

 

বর্তমানে রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এবং দেশের প্রধান বিরোধী দল জাতীয়তাবাদি দল বিএনপি মাঝে টান টান উত্তেজনা চলছে। এক দল ক্ষমতা টিকে রাখার জন্য মরিয়া, আরেক দল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বিভিন্ন সভা সমাবেশের মাধ্যমে রাজপথ গরম করে যাচ্ছেন। তবে এবার দুই দলই মাঠে নেমেছেন।

 

 

বিভিন্ন জেলা পর্যায় বিশাল আকারে সমাবেশ করছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। সেই সাথে আবারও মানুষের কাছে নৌকায় ভোট চেয়ে যাচ্ছেন। তাদের বিপরীতে বিএনপিও বিভাগীয় সমাবেশের মাধ্যমে নেতা কর্মীদের সাথে মানুষকে জাগ্রত করে তুলছে। ইতোমধ্যে চট্রগ্রাম,রাজশাহী,কুমিল্লা, খুলনা, বরিশাল, সিলেট সমাবেশ করেছে। সর্বশেষ হবে ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ করার দিন ধার্য রয়েছে।

 

 

এদিকে আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ হবে। এই সমাবেশ বাস্তবায়নের জন্য ঢাকার পল্টনে অনুমোদন চেয়ে ডিএমপি কমিশনার বরাবর আবেদন করেছে বিএনপি। প্রশাসন ২৬ শর্তের ভিত্তিতে বিএনপিকে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু বিএনপি পল্টনে অনঢ় রয়েছে। সেই সাথে সরকারকে পতনের হুঙ্কার দিচ্ছে। তবে তাদের হুঙ্কারে কোন কর্ণপাত করেন নাই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।  

 

 

অপরদিকে বিএনপির সামবেশের নামে কোন নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে তার জবাব দেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। জাতীয়তাবাদি বিএনপির মহাসিচব ফখরুলকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপি নাকি রাজপথ ও ঢাকা দখল করবে।

 

 

তারা নাকি দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায়। তাই ১০ ডিসেম্বর তাদের নৈরাজ্যকে প্রতিহত করার জন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পাড়া মহল্লা পাহারায় থাকবে।

 

 

তিনি বলেন, ফখরুল সাহেব আমি বলতে চাই আমাদের নেতাকর্মীরা মহানগর জেলা, উপজেলা, ওয়ার্ড, পাড়া মহল্লায় পাহারায় থাকবে। বিএনপি বিআরটিসির বাস পুড়িয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-সিলেট সড়কে শেখ হাসিনার ভিত্তি প্রস্তর রাতের অন্ধকারে পুড়িয়েছে।

 

 

তারা আগুন, লাঠি নিয়ে আসবে এজন্য তারা পার্টি অফিসে সমাবেশ করতে চায়। বিশাল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ফখরুল বলে খাঁচা। অথচ সোহারাওয়ার্দি হলো বিশাল খোলা মাঠ। কিন্তু তাদের খোলা মাঠ পছন্দ না হয়ে রাস্তার চিপা পছন্দ। কারন তারা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায়। কিন্তু পারবে না।

 

 

তবে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতাদের মত ভিন্ন। স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, তারা শান্তিুপুর্ণ ভাবে ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ করতে চায়। তাদের দাবী এই সামবেশকে বাঞ্চাল করতে ক্ষমতাসীন দলের নেতা কর্মীরা হুঙ্কার দিয়ে যাচ্ছেন।

 

 

এমনকি তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন সহ আওয়ামী লীগের দলীয় নেতারা গায়েবী মামলা দিচ্ছে। বিএনপি নেতারাও একের পর এক মামলার জামিন নিচ্ছেন। তবে ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় কি হতে যাচ্ছে তা নিয়ে চলছে সর্বত্র জল্পনা কল্পনা।

 

 

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন জানান, আওয়ামী লীগ মামলা হামলা দিয়ে আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ বাঞ্চাল করতে পারবে না। এই সমাবেশকে ভয় পেয়ে তা বাঞ্চালের জন্য নানা ভাবে পায়তারা করে যাচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতাদের নামে গায়েবী মামলা দিচ্ছে। কিন্তু শত বাধা দিলেও সমাবেশ সফল হবে।

 

 

মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এইচ মামুন বলেন, আগামী ১০ ডিসেম্বরকে বাধা গ্রস্থ্য করার জন্য নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতাদের নামে একের পর এক গায়েবী মামলা দিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের দেয়া মিথ্যা মামলার নিন্দা জানাই।

 

 

সরকার ভয় পেয়ে বিএনপি নেতাদের দমনের জন্য নানা ভাবে বাধা দিচ্ছে। একই সাথে ১০ ডিসেম্বর যেন বিএনপির মহা সমাবেশ সফল করতে না পারে তার তার জন্য মিথ্যা মামলা দিচ্ছে। কিন্তু তাদের এই অসৎ উদ্দেশ্য সফল হবে না।

 

 

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড খোকন সাহা এক সভায় বলেন, বিএনপি আজ সমাবেশের নামে দেশে একটি নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। ওরা ১০ ডিসেম্বর পল্টনে সমাবেশ করে ঢাকা শহরে আগুন লাগিয়ে দিতে চায়। জননেত্রী শেখ হাসিনা বেঁচে থাকতে আমরা ওদের (বিএনপি) এই অপকর্ম করতে দিবো না। বাংলার জনগণ নিয়ে ওদের প্রতিরোধ করবো।

 

 

আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, আমরা বাক স্বাধীনতা বিশ্বাস করি তার মানে এই না যে, ওরা যা ইচ্ছা তাই করবে যা ইচ্ছা তাই বলবে। আজকে রাজশাহীতে দেখলাম বিএনপি দুইটা চেয়ার খালি রেখেছেন। একটা তারেক জিয়া আরেকটা খালেদা জিয়া। তারা নাকি ১০ তারিখের পরে দেশ চালাবে।

 

 

তারেক জিয়া হলো দেশের খুনি, খুনের মহানায়ক, বিশ্ব চোর। আর খালেদা জিয়া হলো এতিমের টাকা খায়। তাদের দিয়ে দেশ চালাতে চায়। বিএনপিকে বলছি আপনারা সাজাপ্রাপ্ত আসামী দিয়ে দেশ চালাতে চান এটা হতে দেয়া যাবে না।

 

 

মুজিবের সৈনিক বেঁচে থাকতে এটা হতে দেয়া যাবে না। আমাদের যুবলীগ, ছাত্রলীগকে বলবো, ওরা (বিএনপি) যদি কোথাও নাশকতা তৈরী করে তাহলে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন। তাদেরকে প্রতিহত করতে হবে।

 

 

অপর দিকে বিএনপির নৈরাজ্যকে প্রতিহত করার জন্য আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের বাঁশের লাঠি নিয়ে প্রস্তুত থাকার আহবান জানিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম বলে, আজকের বিজয়ের মাসে আনন্দ করবো, ফুর্তি করবো, স্মৃতিচারণ করবো। কিন্তু আজ বলতে হচ্ছে ১০ তারিখ বিএনপি সমাবেশ।

 

 

কিসের সমাবেশ এটা? ওরা বলে গণতন্ত্রের কথা, দেশের কথা। ওরা কোন গণতন্ত্রের কথা বলে? যে মুজিব ফাঁসির মঞ্চে আপস করেন নাই। তিনি আরও বলেন,  (বিএনপি) মানুষের অধিকারের কথা বলেন। এইতো ২০১৩-১৪ সালের কথা, সারা বাংলাদেশে আগুন সন্ত্রাস করেছেন ২৩১টি নিরহ মানুষকে হত্যা করেছেন।

 

 

শামীম ওসমান ডাক দিলে আমরা সকাল হোক রাত হোক বাঁশের লাঠি নিয়ে প্রস্তুত হবো। যদি দেশে অসাম্প্রদাকি ভাবে, অগনতান্ত্রিক ভাবে মানুষের অধিকার ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে, তাদেরকে প্রতিহত করবো। সেই সাথে আমাদের নেতার নির্দেশে সকলে পাড়া মহল্লায় প্রস্তুত থাকবে।

এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন