Logo
Logo
×

রাজনীতি

বিজয়ের মাসেও নীরব আ.লীগ

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৫১ পিএম

বিজয়ের মাসেও নীরব আ.লীগ
Swapno

 

# প্রায় সব কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ
# সতর্ক অবস্থানে আছি, আমাদের কর্মকাণ্ড ঠিকই চালিয়ে যাচ্ছি : দিপু

 

ডিসেম্বর বিজয়ের মাস, তাই ডিসেম্বরের শুরু থেকেই নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ, অঙ্গসংগঠন ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সমর্থকদের উদ্যোগে সভা, সমাবেশ, মিছিল, মিটিং ও মাইকের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানোসহ বিভিন্ন কর্মসূচীতে ব্যস্ত থাকতে দেখা যেত।

 

 

জেলার বিভিন্ন অংশে বিশেষ করে মূল শহর ও এর আশেপাশের এলাকায় আওয়ামী লীগের সরব অবস্থানে একটি উৎসব মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হতো। কিন্তু এবারের বিজয়ের মাসেও যেন অনেকটা ঘরমুখো হয়ে আছে তারা। তাছাড়া বিএনপির ১০ ডিসেম্বরের গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে যেখানে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগসহ এর বিভাগীয় ও জেলা শাখাগুলো ব্যস্ত সময় পার করছেন।

 

 

সেখানে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের চিত্র সম্পূর্ণ তার উল্টো। সরবের জায়গায় এখন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ অনেকটাই নীরব অবস্থানে আছে। আর এই নীরব অবস্থান গত ২৩ অক্টোবরের পর থেকেই দৃষ্টিগোচর হচ্ছে। এমনকি যে সময় সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থেকে আন্দোলন সংগ্রামে ব্যস্ত সময় পার করছে বিরোধী রাজনৈতিক সংগঠনগুলো।

 

 

সেখানে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের হঠাৎ করে চুপসে যাওয়ার বিষয়টিকে অনেকটাই অপ্রত্যাশিত ও অনাকাঙ্খিত হিসেবে দেখছেন নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক মহল। কিছু সংবাদ মাধ্যম আবার নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের বর্তমান অবস্থানের কারণে এর বিভিন্ন কমিটিগুলো কোমায় আছেন বলে সংবাদও করছেন।

 

 

এদিকে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের সহযোগী কমিটিগুলো হাতে গোনা দু’একটি ছাড়া বাকি সব কমিটিরই মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে অনেক আগেই। একই পদে একই লোকের দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব, সিনিয়র হওয়ার কারণে উপরের কমিটিতে যাওয়ার আকাঙ্খা এবং এসব কমিটির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের অনেক নেতা প্রমোশন পেয়ে উপরের সারির কমিটিতে চলে যাওয়ায় সেখানে নেতৃত্ব শূন্যতা তৈরিসহ সংগঠনগুলোতে বিভিন্ন সমস্যা আছে।

 

 

অন্যদিকে জেলা আওয়ামী লীগের এমন ঢাক-ঢোল পিটিয়ে করা সম্মেলনে সেই পুরানোদের নেতৃত্বে রাখাকে নতুন বোতলে পুরানো মদের ব্যাপার বলে মনে করছেন অনেকে।

 

 


 
আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায় নেতৃত্ব সংকটে অনেকটাই বিপর্যয় নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের কমিটিগুলো। এর কারণ হিসেবে তারা জানান, জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে শুধু সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক নির্ধারণ হওয়ার কারণে কারা পদে থাকবেন কারা থাকছেন না তা স্পষ্ট করা সম্ভব হচ্ছে না।

 

 

তাই সভাপতি কাদের নিয়ে সভা সমাবেশ করবেন তা নির্ধারণ করতে পারছেন না। তাছাড়া সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের মধ্যকার দূরত্বের বিষয়টি কারও অজানা নয়।

 

 

সম্প্রতি বঙ্গবন্ধুর সমাধিতেও তারা আলাদা আলাদা শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন বলে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়ে এখনও কোন প্রকার সিদ্ধান্ত হয়নি। আগের কমিটিই থাকবে নাকি রদবদল হবে তা নিয়েও ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

তাছাড়া এরই মাঝে বিলুপ্ত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগ, মহানগর শ্রমিক লীগের কমিটি। বিলুপ্ত করা হয়েছে স্বেচ্ছাসেবক লীগের জেলা ও মহানগর কমিটিসহ এর সকল ইউনিট।

 

 

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন কালীন সময় গত ৯ জানুয়ারি প্রথম বিলুপ্ত করা হয় মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি। এর ৮ দিনের মাথায় অর্থাৎ ১৬ জানুয়ারি যেদিন নাসিক নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছিল সেদিন বিলুপ্ত করা হয় স্বেচ্ছসেবক লীগের জেলা ও মহানগর কমিটিসহ সব ইউনিট এবং এর পরের দিন বিলুপ্ত করা হয় মহানগর শ্রমিক লীগের কমিটি।

 

 

এত দ্রুত সময়ের মধ্যে এতগুলো কমিটি বিলুপ্ত হওয়ায় আওয়ামী লীগের এসব সহযোগী কমিটির নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরণের চাপা ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা দেয় বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী জানান।

 

 

রাজনৈতিক বোদ্ধাদের মতে এসকল বিভিন্ন কারণে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং দলীয় শৃঙ্খলাও নষ্ট হয়ে পড়ে। এসব বিভাগ নেতৃত্ব শূন্য হয়ে পড়ায় দায়িত্ব নিয়ে কেউ দলীয় কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখছে না বলে মনে করেন রাজনৈতিক মহল।

 

 


 
এই বিষয়ে কথা বললে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্য এডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু বলেন, এই পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ নিশ্চুপ কথাটি ঠিক না।

 

 

কেন্দ্র থেকে আমাদের নির্দেশনা আছে সতর্ক অবস্থা গ্রহণ করার জন্য। বিএনপি ১০ তারিখ সমাবেশ দিয়েছে, তারা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশটা করুক। কিন্তু তাদের যে মুখের ভাষা, তাদের যে কথাবার্তা, এতে মনে হয় সমাবেশটা তাদের জন্য মূখ্য না। তাদের উদ্দেশ্য হলো বড় ধরণের কোন অঘটন ঘটানো।

 

 

যানমালের যেন কোন ক্ষতি সাধন করতে না পারে এই জন্য খুব সতর্ক আছি। আমরা প্রতিদিন পার্টি অফিসে বসে একত্রে মিলিত হচ্ছি, বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ আলোচনা করছি। অনেক নেতাকর্মীই আমাদের সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করে বিভিন্ন তথ্যাদি জেনে নিচ্ছেন।

 

 

আমরা গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখার চেষ্টা করিতেছি কিন্তু এই গণতন্ত্রকে যারা বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করবে, আমরা নারায়ণগঞ্জের মানুষকে নিয়ে সেগুলো প্রতিরোধ করবো। তাছাড়া ডিসেম্বর মাস বিজয়ের মাস। এই মাসকে উৎসবমুখর করার জন্য আমাদের যা যা করার দরকার আমরা তা করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

 

 

আগামী ৯ ডিসেম্বর আমাদের নারাণয়গঞ্জ মহানগর যুবলীগের পক্ষ হতে একটি ফুটবল টুর্ণামেন্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, দুদিন আগে আমরা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বন্দরে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছি। মোট কথা আমরা আমাদের কর্মকাণ্ড ঠিকই চালিয়ে যাচ্ছি।

 

 

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সারা বাংলাদেশে সমাবেশ করছে তাতে কোন বাধা প্রদান করা হয়নি। ঢাকাতে করতে চায় তাতেও সমস্যা নেই। তারা রাস্তার উপর সমাবেশ করতে চাইছে, কিন্তু যেখানে আমরা সম্মেলন ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করি ইতিহাস সমৃদ্ধ সেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান তাদের কেন পছন্দ হচ্ছে না বুঝতেছি না।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন