Logo
Logo
×

রাজনীতি

মামলার ভয়ে ঘর ছাড়া ছাত্রদল

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:০১ পিএম

মামলার ভয়ে ঘর ছাড়া ছাত্রদল
Swapno

 

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন ও ১০ই ডিসেম্বরে বিএনপির ডাকা মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে দেশে এখন বিভিন্ন জেলায় জেলায় গায়েবী মামলার কারণে হয়রানি হচ্ছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। এর কারণে কেউ নিজের বাসস্থানে অবস্থান করতে পারছে না।

 

 

সবাই এখন মামলা হামলার ভয়ে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। কিন্তু তারা পিছিয়ে থেকে ও ১০ই ডিসেম্বরকে কিভাবে সফল করা যায় সেই লক্ষ্য নিয়েই সর্বদা আলোচনা করছে। তারা ধারনা করছে বর্তমান সরকার যতই মামলা দিয়ে তাদের দামানোর চেষ্টা করুক না কেন। কোনভাবেই মহাসমাবেশকে বাঞ্চাল করতে পারবেন না।

 

 

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৫ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের সাবেক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন কেন্দ্র। তার পর ছাত্রদলের পদ প্রত্যাশী নেতাকর্মীদের ধারণা ছিল শীঘ্রই নবাগত কমিটি গঠন হবে। কিন্তু ১০ই ডিসেম্বর মহাসমাবশকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের কমিটি স্থগিত রাখা হয়।

 

 

তারই ধারাবাহিকতায় নেতাকর্মীরা ১০ই ডিসেম্বরের মহাসমাবেশকে নিয়ে অনেকটাই উৎফুল্ল হয়ে উঠেছিল। কিন্তু তখনই তাদের দমানোর জন্য সরকার নতুন কৌশল অবলম্বন করে। বিগত দিনের মতোই মামলা প্রক্রিয়া চালু হয় তারা মামলা দিয়ে গ্রেফতার শুরু করে।

 

 

জানা যায়,মামলায় অজ্ঞাত হিসেবে যে কাউকে গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। তাই গ্রেফতার এড়াতে তারা রাতে বাড়িতে অবস্থান করছেন না। এমনকি দিনের বেলায়ও সতর্কের সাথে চলাফেরা করছেন। অন্যদিকে যাদের এজাহার নামীয় মামলার আসামী করা হয়েছে, তাদের অনেকেই নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।

 

 

এখন সারাদেশে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। একইভাবে নারায়ণগঞ্জে ও চলছে অভিযান। তবে এই অভিযানে গায়েবী মামলার ভয়ে ঘর ছেড়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদীদলের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, এই বিশেষ অভিযানের নামে পুলিশ মনগড়া ঘটনা তৈরী করে তাদের নেতাকর্মীদেও গ্রেফতার করছে।

 

 

পরে নাশকতার নামে গায়েবী মামলার আসামী করে আদালতে পাঠাচ্ছে। এখন বাড়ি ঘরে সুষ্ঠুভাবে থাকতে পারছে না কোন নেতাকর্মী অপর দিকে তাদের বাড়িতে বাড়িতে রাতে পুলিশ গিয়ে তাল্লাশী চালাচ্ছেন। এবং যার নামে মামলা তাকে না পেলে ও তাদের বাসায় থাকা অন্য কাউকে ভয়ভীতি দেখিয়ে গ্রেফতার করে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

 

 

আর ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মী এখনও রাজনীতির পাশাপাশি পড়াশোনা করছে এই খারাপ পরিস্থিতির কারণে তাদের পড়াশোনায় ও ব্যঘাত ঘটছে। যার কারণে তৃণমূল পর্যায়ের নেতার্মীরা বলছে বর্তমান সরকারি দলের এ ধরনের সিদ্ধান্তের কারণে অনেক সমস্যার সম্মূখীন হতে হচ্ছে সকল নেতাদের। বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছে আমারা চাই আমাদের অধিকার ফিরে পেতে।

 

 

এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী মেহেদী হাসান দোলন বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ দলের খারাপ সময় পাশে আছি এবং থাকবো। আমাদের কোনভাবেই দামিয়ে রাখতে পারবে না সরকার। আমাদের নামে যতই মামলা হোক না কেন আমরা ১০ই ডিসেম্বরের মহাসমাবেশ সফল করেই ছাড়বো ইনশাআল্লাহ।

 

 

এখন আমরা এই স্বৈরাচারি সরকারের পুলিশের মিথ্যা মামলা হামলার কারণে বাসায় থাকতে পারছি না। সকলে নিজের পরিবার ছেড়ে অন্য জেলায় জেলায় গিয়ে অবস্থান করছি। এবং আমরা অনেক হয়রানির শিকার হচ্ছি। কিছুদিন পূর্বে আমার নামে ও একটা গায়েবী মামলা হয়েছিল।

 

 

পরবতীতে আমি হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়ে আসি কিন্তু তার পরে পুলিশ নিয়মিত বাসায় গিয়ে তল্লাশী করছে। আর বাসার লোকদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। যত কিছুই হোক আমরা ১০ই ডিসেম্বরে ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ব্যাপকভাবে অংশ গ্রহণ করবো।

 

 

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী রাকিবুর ইসলাম সাগর বলেন, আগামী ১০ই ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা যে সর্বশেষ মহাসমাবেশ করতে যাচ্ছি সেই সমাবেশকে কেন্দ্র করে সমাবেশকে বাঞ্চাল করার লক্ষে সরকার প্রশাসন দ্বারা নানা নাশকতা মামলা দিচ্ছে আমাদের উপরে।

 

 

কিন্তু আমরা জিয়ার সৈনিক যতই মামলা হোক বিএনপিকে দমানো এখন আর সম্ভব না। এই পুলিশ প্রশাসন এখন আর মামলা দিয়ে শুধু বসে নেই তারা সকল নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে শুধু শুধু সবাইকে হয়রানি করছে। আর যে নেতাকর্মীর নামে মামলা হয়েছে তাদের না পাওয়া গেলে তাদের বাসা থেকে তার ভাই, চাচা যাদের পাচ্ছে গ্রেফতার করছে এটার প্রতি আমি তীব্র নিন্দা জানাই।

 

 

আর এ নাশকতা মামলার ভয়ে এক সপ্তাহ যাবৎ আমরা আমাদের বাসস্থানে বসবাস করতে পারছি না। আমি সরকারি দলের যারা এই সমস্ত কর্মকান্ডের সাথে জরিত তাদের উদ্দেশ্য করে বলতে চাই। এভাবে মামলা ও হামলা করে জিয়ার সৈনিকদের দমানো ও এই মহা সমাবেশ বাঞ্চাল করতে পারবেন না। এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন