Logo
Logo
×

রাজনীতি

‘সময় এসে গেছে আপনাদের বিচার হবে’

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:৩৮ পিএম

‘সময় এসে গেছে আপনাদের বিচার হবে’
Swapno

 

# এইসব নাটক এখন বাংলার মানুষ বুঝে
# নারায়ণগঞ্জে একটি পরিবার হায়েনার মতো দাবড়ে বেড়াচ্ছে

 

তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার ১১৭ মাস উপলক্ষে গতকাল সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ আলী আহম্মদ চুনকা পাঠাগার প্রাঙ্গণে আলোক প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি অনুষ্ঠানে ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি বলেছেন, আর ৩ মাস পর ত্বকী হত্যার ১০ বছর পূর্ণ হবে। ত্বকীর হত্যার হত্যাকারী কারা এটা পুরো বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মানুষ জানে।

 

 

কিন্তু দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলে ও এই হত্যার বিচারটি হচ্ছে না। না হওয়ার কারণ হলো প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ ত্বকী হত্যার বিচারটি বন্ধ হয়ে আছে। আজকে দেশে একটি বিচারহীনতার সংস্কৃতি তারা তৈরি করেছে। এই সরকার বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। মানুষের মানবিক যে মর্যাদা অধিকার সেটিকে বুলন্তিত করেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভুলণ্ঠিত করেছে।

 

 

আমাদের সংবিধানিক অধিকার এবং সংবিধানকে পদতলিত করেছে এই বর্তমান সরকার। এই সরকার আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তারা জনগণের বিপক্ষে এনে দাঁড় করিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ত্বকী হত্যার ঘাতকদের পক্ষ নিয়েছেন। তিনি এ ১০ বছর ধরে এ বিচারের বাধা হয়ে আছেন।

 

 

একটা শিশু হত্যার বিচার যিনি বন্ধ করে রাখেন তখন তিনি আবার কিভাবে মানবতার জননী। আর এই ন্যাকার বিষয়গুলো নিয়ে আজকে আমাদের মুখোমুখি দাঁড়াতে হচ্ছে। আজকের লড়াইটা শুধু রাজনৈতিক সংগঠনের লড়াই নয়। আজকে মানুষের বাঁচা মরার লড়াই সামনে দাড়িয়েছে।

 

 

আজকে মানুষ জীবন জীবিকা টিকিয়ে রাখার জন্য হিমশিম খাচ্ছে। খেয়ে পরে বাঁচতে পারছে না। এখন মানুষের জীবনের কোন নিশ্চিয়তা নাই। ঘরে ফিরে যাওয়ার নিশ্চিয়তা নাই। আর যে পুলিশ বাহিনীগুলো যেগুলো মানুষের পক্ষে থাকার কথা সেই পুলিশ, র‌্যাব, বিডিআর এগুলোকে জনগণের বিপক্ষে দাঁড় করিয়েছে।

 

 

তিনি আরো বলেন, ইতিহাস যা বলে এই পুলিশই বিএনপির শাসন আমলে মদিয়া চৌধুরীকে রাস্তায় পিটিয়ে মেরেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিল মো. নাছিম সেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পরই এই পুলিশ রাস্তায় ফালিয়ে পিঠিয়েছে। এগুলো দেশের সবার জানা। আজকে এ পুলিশ যেভাবে উত্তেজিত হচ্ছে এতে মনে করার কোন কারণ নাই যে তারা শুধু আওয়ামী বিরোধী যারা শুধু তাদের বিরুদ্ধে যাবে।

 

 

আমি বলতে চাই আপনাদের এখন টালমাটাল অবস্থা কখন মাটি সড়ে যায়। সেটা আপনারা আমাদের থেকে ভালো বুঝেন। তার পরে ও আপনারা জনগণের বিপক্ষে এই বাহিনীগুলোকে দাঁড় করিয়েছেন। আমরা ত্বকী হত্যার বিচার চাই, সাগর রুনি, তনু হত্যার বিচার চাই। আর গুলো এখন ও হচ্ছে না এটা আমরা জানি। এই হত্যা কান্ডের সাথে সরকারি দলের ও সরকারি বিভিন্ন লোকের সংশ্লিতা রয়েছে।

 

 

কতদিন দামাচাপা দিবেন সরকারেরতো পরিবর্তন হয়। তখন কি করবেন সবাইকে দেশ ছেড়ে পালাবেন। বেগম পাড়ায় কি এতোই সেখানে সম্প্রসারিত আপনারা দেশ ছেড়ে সেই নিরাপদে চলে যাবেন। বাংলাদেশ ছেড়ে আরেকটা বেহেস্তে যাবেন। যারা এ দুর্ভীক্ষদের পাহাড়া দিচ্ছেন। এ প্রশাসন নারায়ণগঞ্জের এ খুনী সন্ত্রাসদের সাথে উঠাবসা করে।

 

 

জনগণের বিরুদ্ধে গিয়ে ভাগবাটোয়ারীর হিসাব আর দীর্ঘদিন চলবে না। জনগণের বিরুদ্ধে গিয়ে সেই মাফিয়াদের রক্ষা করার দায়িত্ব আপনারা সেখানে নিয়েছেন। হত্যাকারী চিহ্নিত হওয়ার পরে ও আপনারা তাদেরকে গ্রেফতার করেন না। প্রশাসনে যারা রয়েছেন আপনাদের বিচার হবে। মনের রাখবেন এই সরকার নিজেদের জান নিয়ে বাঁচতে পারবে না।

 

 

আপনাদের রক্ষা করবে কিভাবে। আর আমি চাই আপনি যাওয়ার আগে নারায়ণগঞ্জের সকল হত্যাকান্ডের বিচার করে নজির তৈরি করবেন। আর নারায়ণগঞ্জের মানুষদের জিম্মি করে যে পরিবারটি হায়নার মতো দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।  

 

 

গণসংহতির সমন্বয়ক তরিকুল সূজন বলেন, বিজয়ের মাসে আমরা গতকালকে এক অদ্ভুত প্রকধনীর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের বিজয় দেখলাম। বাংলাদেশের জনগণ একদিকে আর আওয়ামী লীগ এদিকে। বিজয়ের মাসের শুভসূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী। আজ সাংবাদিকদের সাথে প্রধানমন্ত্রী বললেন যারা মারতে আসবে তাদের কালো কালো হাত ভেঙ্গে দিতে হবে।

 

 

আমরা বলি প্রধানমন্ত্রী আপনি যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কথা বলছেন। তখন আপনি মানুষের ভোটের অধিকার ভাতের অধিকার তাদের জীবনের অধিকার গণতন্ত্রের অধিকারের কথা বলেই ক্ষমতায় এসে ছিলেন। যদিও ১৪ এবং ১৮ সালে আপনাকে মানুষ ভোট দেয়নি। মানুষ ভোট অধিকার কেড়ে নিয়ে আপনি জবর দখল করে। রাতের আধারে ক্ষমতায় আছেন।

 

 

আমি বলতে চাই সন্ত্রাস নির্মল ত্বকী মঞ্চ, সাংস্কৃতিক জোট দীর্ঘ দিন যাবৎ আপনাদের দলীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জবাসী সেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এবং আমরা সেখানে প্রতিজ্ঞা করেছি ত্বকী, চঞ্চল, বুলু, মিঠুসহ অজস্র যে হত্যাকাণ্ড সেই হত্যাকাণ্ডের বিচার না করে। আমরা কেউ ঘরে ফিরে যাবো না।

 

 

আপনারা যখন দলীয় সন্ত্রাসীরা ত্বকী মত মেধাবী কিশোরকে খুন করে সংসদে দাড়িয়ে আপনি বলেন এ ওসমান পরিবারে পক্ষে আপনি আছেন। নারায়ণগঞ্জে সেতু উদ্বোধন কালে আপনি কত বাহানা করে রং ডং করে ওসমান পরিবারের পাশে থাকলেন। আর বাংলাদেশের মানুষের ভোট অধিকার গণতন্ত্রের অধিকার কেড়ে নিয়ে একটি নুন্যতম সমাবেশ করতে দিচ্ছেন না।

 

 

সমাবেশ করার জন্য আপনাদের অধিকার আপনাদের অনুমতি লাগবে। প্রশাসনের অনুমতি লাগবে। বলতে চাই আপনারা বাংলাদেশের সংবিধানের তোয়াক্কা করছেন না। সংবিধানের কোন দ্বারায় কোন অধ্যায়ে লেখা আছে মানুষ সমাবেশ করতে চাইলে সেখানে অনুমতি নিতে হবে। আপনারা সংসদ গঠন করে। সংবিধান সংশোধন করে বাংলাদেশের মানুষের সকল সামাজিক অধিকার কেড়ে নিয়েছেন।

 

 

খেয়াল রাখবেন ত্বকী হত্যার বিচার হবে কেবল মাত্র ত্বকী নয় আসিস, চঞ্চল, মিঠুসহ সকল হত্যাকান্ডের বিচার হবে। আর এই যে আপনারা দলীয় সন্ত্রাসী রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী দিয়ে মানুষকে পাখির মত গুলি করে মারছেন। এর জবাব দিতে হবে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই।

 

 

মানুষের বাঁচার অধিকার আছে সেনারগাঁয়ের যিনি মকবুল হাসেন গতকালকে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে আপনারা সেখানে হামলা করলেন। নিজেরা ককটেল ক্যারি করে বিএনপির কার্যালয়ে রেখে তাদেরকে সন্ত্রাসীবাহিনী বানিয়ে তাদের ধরে নিয়ে গিয়ে তাদের সমাবেশ বানচাল করছেন। আপনাদের এইসব নাটক এখন বাংলার মানুষ বুঝে। আপনাদের এ ডালগল্প মানুুষ আর বিশ্বাস করে না। সময় এসে গেছে বাংলাদেশে আপনাদের বিচার হবে।

 

 

সংগঠনের সহ সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নিহত ত্বকীর বাবা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি, খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি রথীন চক্রবর্তী, সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি এড. জিয়াউল ইসলাম কাজল, সিপিবি জেলা সাধারণ সম্পাদক শিবনাথ চক্রবর্তী, ন্যাপের জেলা সাধারণ সম্পাদক এড. আওলাদ হোসেন, বাসদের জেলা সংগঠক এস.এম কাদির, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, সামাজিক সংগঠন সমমনার সাবেক সভাপতি দুলাল সাহা প্রমূখ।

 

 

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরীর শায়েস্তা খাঁ সড়কের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। এর দু’দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানায়, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়।

 

 

৫ মার্চ ২০১৪ তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদেরই টর্চারসেলে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে। অচিরেই তারা অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করবেন। কিন্তু সে অভিযোগপত্র আজো আদালতে পেশ করা হয় নাই। ত্বকী হত্যার পর থেকে বিচার শুরু ও চিহ্নিত আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখ আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।

এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন